


সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: বিহার, উত্তরপ্রদেশের অন্ধকার জগতের কারবারিদের হাত ধরে ব্যাপকভাবে জালনোট আমদানি হচ্ছে। সেই রাজ্যের ক্যারিয়াররা মালদহের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে জালনোট নিয়ে যাচ্ছে। আগের চেয়ে অর্ধেক দামে নকল নোট কিনছে তারা। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক মাস আগেও এক লক্ষ টাকার জাল নোটের দাম ছিল ৪০-৪৫ হাজার টাকা। এখন তা ৩০-৩৫ হাজার টাকা মিলছে। একটু নিম্নমানের এক লক্ষের জালনোট ২৫হাজার টাকাতেও পাওয়া যাচ্ছে।
এক পুলিস আধিকারিক বলেন, মালদহের সীমান্তবর্তী এলাকায় সবচেয়ে বেশি জালনোট ঢুকছে। প্রায়দিনই তিন-চার লক্ষ টাকার ‘কাগজ’ ঢোকানো হচ্ছে। বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে ইনপুট পেয়ে বেশ কয়েকবার ওই এলাকায় অভিযান চালানো হয়। কিন্তু সেখানে পৌঁছনোর আগেই জালনোট সহ পাচারকারীরা চম্পট দিয়েছিল। আগে বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে নকল নোটের কারবার কিছুটা কম হতো। কিন্তু এবছর তা একই রকম রয়েছে। এখন বাংলাদেশেই উন্নতমানের নোট তৈরি হচ্ছে। ৫০০ টাকার পাশাপাশি ২০০-র নকল নোট তারা ব্যাপকভাবে তৈরি করছে। সেই জালনোট এখন উত্তরপ্রদেশ এবং বিহারের কারবারিদের হাত ধরেই বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে যাচ্ছে।
গোয়েন্দা সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, আগে এরাজ্যের ক্যারিয়ারদের তারা কাজে লাগত। কিন্তু এসটিএফ এবং এনআইএ মালদহ, মুর্শিদাবাদের চক্রের মাস্টারামাইন্ডদের গ্রেপ্তার করেছে। অনেকে মূলস্রোতেও ফিরেছে। সেকারণে এরাজ্যের ক্যারিয়ারদের তারা খুব বেশি কাজে লাগাতে পারছে না। তবে এরাজ্যের ক্যারিয়ারদের হাত দিয়েই বাংলাদেশ থেকে মালদহের সীমান্তে জালনোট ঢুকছে। তাদের কাছ থেকেই বিহার ও উত্তরপ্রদেশের কারবারিরা এই নোট বিভিন্নভাবে নিয়ে যাচ্ছে।
তদন্তকারীদের দাবি, একসময় বাংলাদেশে তৈরি হওয়া জালনোটের মান ততটা ভালো ছিল না। তা হাতে নিলেই বোঝা যেত। কিন্তু এখন পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থার মাধ্যমে সেখানে উন্নত প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে নকল নোট তৈরি হচ্ছে। তা দেখে যে কেউ ধোঁকা খেয়ে যেতে পারেন। আসল নোটের অধিকাংশ বৈশিষ্ট্যই তারা নকল করে ফেলেছে। আগে এ ধরনের নোট পাকিস্তান থেকে জাহাজের মাধ্যমে বাংলাদেশে ঢুকত। তিন বছর আগে প্রায় ৪০ কোটি টাকার নকল নোট পাকিস্তান থেকে আসা একটি জাহাজে বাংলাদেশে উদ্ধার হয়েছিল। এদেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে সেই নকল নোট ঢোকানোর পরিকল্পনা ছিল। এখন বাংলাদেশের প্রশাসনের সহযোগিতায় পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা নকল নোট তৈরি করছে বলে আধিকারিকদের দাবি। এদেশে তা ছড়ানোর কাজ করছে বিহার, উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত কারবারিরা।
পাচারকারীদের কাছে জালনোট কাগজ নামে পরিচিত। বিশেষ একটি অ্যাপের মাধ্যমে কারবারিরা লেনদেন করছে। এমনই ইনপুট পেয়ে এরাজ্যের তিনটি করিডরে নজরদারি বাড়িয়েছে রাজ্য ও কেন্দ্রের গোয়েন্দা সংস্থা।