


সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: জাল নথি দিয়ে জন্মের শংসাপত্র পাওয়ার আবেদন করার অভিযোগে অণ্ডাল থানার পুলিস এক দম্পতি সহ দালাল চক্রের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃত দম্পতির নাম কিশোর বালা ও পর্ণ বালা। তারা নদীয়া জেলার মিলন নগরের বাসিন্দা। অপর ধৃত ব্যক্তির নাম সুভাষ মণ্ডল। তার বাড়ি ওই থানা এলাকার খান্দরায়। তাকে শনিবার দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে পেশ করলে বিচারক দু’দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। বিডিও অফিস ও পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই দম্পতির ২০১৬ সালে বিবাহ হয়েছে। তারা নিঃসন্তান। ওই পুত্রসন্তানটিকে তারা অর্থের বিনিময়ে কিনেছে অথবা দত্তক নিয়েছে। কিছুদিন আগে ওই দম্পতি আঠারো মাসের পুত্রসন্তানের জন্ম শংসাপত্রের জন্য আবেদন করে বিডিও অফিসে। সেখানে জানানো হয় অণ্ডালের উখড়া এলাকায় একটি নার্সিংহোমে জন্ম হয়েছে শিশুটির। আবেদনের নথিপত্রে বেশ কিছু অসংগতি থাকায় বিডিও অফিসের কর্মীদের সন্দেহ হয়। বৃহস্পতিবার বিডিও বিষয়টি নিয়ে পুলিসে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিস তদন্ত শুরু করে ওইদিন অভিযুক্ত দম্পতিকে গ্রেপ্তার করে। তাদের শুক্রবার আদালতে পেশ করলে বিচারক তিনদিনের পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দেন। পুলিস তাদের হেফাজতে নিয়ে জাল নথিপত্র তৈরির চক্রের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃত সুভাষ মণ্ডলের খান্দরা এলাকায় একটি জেরক্সের দোকান রয়েছে।
বিডিও দেবাঞ্জন দত্ত বলেন, কিছুদিন আগে একটি জন্ম শংসাপত্রের জন্য আবেদন জমা করেন ওই দম্পতি। জমা দেওয়া ওই নথিপত্রে অসংগতি মেলে। আমাদের সন্দেহ হয়। আমরা পুলিসে অভিযোগ দায়ের করি। পুলিস তদন্ত করছে। এসিপি (অণ্ডাল) পিন্টু সাহা বলেন, দেড় বছরের একটি বাচ্চার জন্ম শংসাপত্র করার আবেদন করেছিল। তাও আবার বয়স অনুযায়ী অনেক দেরিতে। আমরা অভিযোগ পাওয়া মাত্র তদন্ত শুরু করি। ওই দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়। ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিকের স্বাক্ষর করা একটি জাল শংসাপত্র ও উখড়া এলাকার একটি নার্সিংহোমে জন্মানোর নথিপত্র মিলেছে। সেগুলি জাল কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই জাল শংসাপত্র তৈরি করার সঙ্গে যুক্ত সন্দেহে সুভাষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সমস্ত নথিপত্র যাচাই করে সম্পূর্ণ ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।