


নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: ভুয়ো ভোটারের অভিযোগ তুলে এক বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে সরব হলেন অন্য এক বিজেপি নেতা। শুধু তাই নয়, ওই বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছে। আর তাতেই শহরজুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। মেদিনীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের এই ঘটনায় বিজেপির গোষ্ঠীকোন্দল ফের প্রকাশ্যে এল।
বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৩৬ মেদিনীপুর বিধানসভার পার্ট নম্বর ১৬৩এর বেনেপুকুর পাড় এলাকার বাসিন্দা সুরজিৎ মাইতি ও তাঁর স্ত্রী প্রতিমারানি দাস। সুরজিৎবাবু টোটো চালান। সেই সঙ্গে তিনি মেদিনীপুর শহরের ১ নম্বর মণ্ডলের বিজেপির শক্তি কেন্দ্র প্রমুখ। সুরজিৎবাবুর আদি বাড়ি সবং থানার শিতলদা এলাকায়। তবে তিনি ১৫ বছর ধরে মেদিনীপুর বিধানসভার বেনেপুকুর পাড় এলাকাতেই থাকেন। তিনি পুরসভা, উপ নির্বাচন সহ গত চারটি ভোটে মেদিনীপুর শহরের কেন্দ্রেই ভোট দিয়েছেন। কিন্তু, তাঁর বিরুদ্ধেই নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানিয়েছেন বিজেপির মণ্ডল-১এর এগজিকিউকিউটিভ মেম্বার অভিজিৎ বিশ্বাস। তাঁর অভিযোগ, সুরজিৎবাবু মেদিনীপুর বিধানসভার এলাকার ভোটার নন। তাঁরা এখানকার স্থায়ী বাসিন্দাও নন। জানা গিয়েছে, অভিযোগ পাওয়া মাত্রই তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন।
এদিন সুরজিতবাবু বলেন, বিজেপি দলকে ভালবাসি। এমন অভিযোগ হয়েছে বলে শুনেছি। দল যা সিদ্ধান্ত নেবে তা মাথা পেতে নেব। তবে বহুদিন ধরে আমরা মেদিনীপুর শহরের বাসিন্দা। এখানেই ভোট দিই। অপরদিকে, অভিজিৎবাবু বলেন, সরষের মধ্যেই ভূত থাকে। একজন নাগরিক হিসেবে অভিযোগ জানিয়েছি। আমরা চাই, এই প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছতার সঙ্গে হোক।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সাল থেকে বিজেপির ভোট কমতে শুরু করে। যার অন্যতম কারণ, রাজ্যের বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্প। তবে ভোট কমলেও দলের অন্দরে গোষ্ঠীকোন্দল চরমে উঠেছে। শুধু মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলায় বিজেপির দুটি গোষ্ঠী আড়াআড়িভাবে বিভক্ত হয়েছে। এর ফলে বিজেপির জেলা কার্যালয়ও দু’টি।
এক বিজেপি নেতার কথায়, গোষ্ঠীকোন্দলের জন্যই অভিযোগ করা হয়েছে। সুরজিৎবাবু বহুদিনের কর্মী হলেও তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে খবর। এছাড়া সন্দেহ করা হচ্ছে সুরজিৎবাবু সবং থানা এলাকারও ভোটার। পদের লোভে কাদা ছোড়াছুড়ি চলছে। তবে বুথস্তরে সংগঠন খুবই দুর্বল। এসআইআরের কাজে বহু বিজেপি নেতা ময়দানে ছিলেন না। অনেকেই ছবি তুলে পালিয়ে এসেছেন। মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক মহম্মদ রফিক বলেন, বিজেপি দলটা নিজেদের ফাঁদে নিজেরাই পড়ছে। এই দলটা ২০২৬ সালের পর আর থাকবে না। বিজেপিতে কেউ সম্মান পান না।