


নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: সামশেরগঞ্জে রাহুল গান্ধীর সভার পরই কংগ্রেসের হাত ছাড়লেন প্রদেশ কংগ্রেস সম্পাদক আসিফ ইকবাল। ফরাক্কার দাপুটে এই কংগ্রেস নেতা হাত শিবির ছেড়ে শাসক শিবিরে যোগদান করতেই ফরাক্কায় ভোটের অঙ্ক ঘুরছে। বুধবার নববর্ষের বিকেলে দক্ষিণ ২৪ পরগনার পৈলানে তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে পতাকা তুলে নেন তিনি। দল বদলের পর আসিফ সাহেবের দাবি, কংগ্রেসের মধ্যে বহু বঞ্চনার শিকার হয়েও এতদিন আমি কংগ্রেসকে বুকে আগলে রেখেছিলাম। দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ থেকেই দলবদলের সিদ্ধান্ত বলে দাবি আসিফ সাহেবের। নির্বাচনের মাত্র এক সপ্তাহ আগে তিনি তৃণমূলে যোগ দেওয়ায় হাত শিবিরের কর্মীরা হতাশ।
তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদানের পর ফরাক্কায় এসে আসিফ সাহেব নাম না করে প্রাক্তন সংসদ সদস্য অধীর চৌধুরীকে আক্রমণ করেন। তিনি বললেন, তিন থেকে চার কোটি টাকার বিনিময়ে কংগ্রেসের টিকিট বিক্রি করা হয়েছে। এই অভিযোগ অবশ্য আসিফ সাহেবের একার নয়। এর আগে জেলা পরিষদের প্রাক্তন সভাধিপতি শিলাদিত্য হালদারও সাংবাদিক সম্মেলন করে একই দাবি করেছিলেন। ভোটের মুখে এই প্রার্থী পদের টিকিট বিক্রি নিয়ে রীতিমতো ঝড় উঠেছে কংগ্রেস শিবিরে।
কংগ্রেসে থাকাকালীন আসিফ সাহেবের নির্বাচনি লড়াইয়ের ভূমিকা নিয়ে আগেও চর্চা হয়। ২০১৮ সালে তিনি মুর্শিদাবাদে কংগ্রেসের টিকিটে জেতা একমাত্র জেলা পরিষদ সদস্য ছিলেন। তিনি প্রদেশ কংগ্রেস সম্পাদক তথা রাজ্য যুব কংগ্রেসের সহ সভাপতির পদও সামলেছেন। ফরাক্কার পাঁচবারের কংগ্রেস বিধায়ক প্রয়াত মইনুল হকের ভাইপো আসিফ সাহেব। পরিবার সূত্রে তাঁর রক্তে রাজনীতি রয়েছে।
এবার নির্বাচনে ফরাক্কা কেন্দ্রে তাঁকেই হাত শিবির থেকে টিকিট দেওয়া হতে পারে বলে জল্পনা ছিল। আসিফ সাহেব ফরাক্কা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে কংগ্রেস প্রার্থী হিসাবে মনোনয়নও জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু, কংগ্রেস কোটিপতি বিড়ি ব্যবসায়ী মাহতাব শেখের নাম প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা করে। তাও আশা ছাড়েননি আসিফ সাহেব। কারণ, প্রথমে মাহতাব শেখের নাম ভোটার তালিকায় ছিল না। পরে এসআইআর ট্রাইবুনালে জরুরি শুনানির পর তাঁর নাম ভোটার তালিকায় যুক্ত হয়। তাঁকে টিকিট না দেওয়ায় দলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়ে।
আসিফ সাহেব অভিযোগ করে বলেন, সর্বভারতীয় নেতৃত্ব তাঁকে প্রার্থী হিসেবে বেছে নিলেও, দলের বর্ষীয়ান নেতা ও প্রাক্তন সাংসদ অধীর চৌধুরী নিজের ক্ষমতা প্রয়োগ করে তাঁর টিকিট আটকেছেন। মুর্শিদাবাদ জেলা কংগ্রেস এখন আর হাইকমান্ডের কথায় চলে না। এখন অধীর চৌধুরীর ব্যক্তিগত মর্জিতে চলে। কোটি কোটি টাকার বিনিময়ে যাদের প্রার্থী করা হয়েছে, তাঁদের কোনো যোগ্যতা নেই বলেও তিনি অভিযোগ করেন। কংগ্রেসের জেলা সভাপতি মনোজ চক্রবর্তীরও কোনো ক্ষমতা নেই বলে তাঁর দাবি।
পাল্টা মনোজবাবু বলেন, সর্বভারতীয় দলের টিকিট অনেক আলোচনার পর দেওয়া হয়। এনিয়ে কারো ক্ষোভ থাকতেই পারে। তবে এতে দলের ফলাফলে কোনো প্রভাব পড়বে না। আসন্ন নির্বাচনে আমরা মুর্শিদাবাদ জেলায় খুব ভালো ফল করব। ফরাক্কায় আমাদের প্রার্থী বিপুল ভোটে জিতবেন। ফরাক্কা ব্লক কংগ্রেসের সভাপতি আবুল বাশির বলেন, ‘আসিফ দল ছাড়লেও কংগ্রেসের কোনো ক্ষতি হবে না।’
রাজনৈতিক মহলের দাবি, গত লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থীর এই বিধানসভা থেকে বিপুল মার্জিন ধরে রাখার পিছনে আসিফ সাহেবের বড় ভূমিকা ছিল। এবার নির্বাচনে তাঁর তৃণমূলে যোগদান, ফারাক্কা আসনে তৃণমূল প্রার্থীর লড়াইয়ের পথ আরও কিছুটা মসৃণ হল।