


নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ব্রিগেডের মঞ্চ থেকে আলু চাষিদের দুরবস্থা নিয়ে মুখ খুললেন। কিন্তু কী কারণে তাঁদের এই অবস্থা, তার ব্যাখা তিনি দিলেন না। চাষিরা অবশ্য বলছেন, তাঁদের এই অবস্থার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার দায়ী। কেন্দ্রের জন্যই সারের দাম বেড়েছে। অন্যান্য কীটনাশকও অগ্নিমূল্য। সারের ভর্তুকি বাড়ালে চাষিদের লোকসানের মুখে পড়তে হতো না। সে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী একটি শব্দও খরচ করলেন না। রাজ্য সরকার চাষিদের পাশে দাঁড়াতে ইতিমধ্যে ময়দানে নেমেছে। যেসমস্ত সমবায় সমিতির হিমঘর রয়েছে, তারা আলু কিনতে শুরু করেছে। লোন নিয়ে হিমঘর মালিকদের সমস্যা ছিল। সেই সমস্যাও সরকার মিটিয়েছে। সোমবার থেকেই জোরকদমে আলু কেনার কাজ শুরু হবে বলে আধিকারিকদের দাবি।
এছাড়া সুফল বাংলা স্টলের জন্যও সরকার আলু কিনছে। সুফল বাংলার জন্য এক হাজার মেট্রিক টন আলু কেনা হবে। রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার বলেন, শনিবার জামালপুরে হিমঘর মালিকদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। তাঁরা আলু কেনার কাজ শুরু করবে। সরকার চাষিদের পাশে রয়েছে।
কৃষকরা বলেন, রাজ্য সরকার চাষিদের জন্য অনেক কিছুই করেছে। শস্যবিমা, কৃষকবন্ধুর মতো প্রকল্পগুলি আশীর্বাদ হয়ে দেখা গিয়েছে। আলুর ফলন বেশি হলে প্রতিবারই সরকার আলু কেনে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। রাজ্যের কৃষি বিপণন দপ্তরের মন্ত্রী বেচারাম মান্না বলেন, ডবল ইঞ্জিন রাজ্যগুলিতে চাষিরা কাঁদছে। আমরা চাষিদের থেকে আলু কিনছি। কিন্তু ডবল ইঞ্জিন রাজ্যগুলির সরকার সেই কাজ করে না।
আলু চাষি সামসুর শেখ বলেন, সারের দাম এত বেশি না হলে সমস্যায় পড়তে হতো না। ১০:২৬:২৬ সারের দাম বিগত পাঁচ বছরে লাফিয়ে বেড়েছে। পর্যাপ্ত সার সরবরাহ না করার জন্য এক শ্রেণির ব্যবসায়ী কালোবাজারি করছে। ভেবেছিলাম, বাংলায় এসে প্রধানমন্ত্রী সারের দাম কমানো নিয়ে কিছু বলবেন। আর এক চাষি সুমন্ত দাস বলেন, প্রধানমন্ত্রী চাষিদের নিয়ে রাজনীতির কথা বলে গেলেন। তিনি যদি সত্যিই কৃষকদের ভালো চাইতেন, তাহলে কৃষকদের উন্নতির জন্য কিছু ঘোষণা করতেন। কেন্দ্রীয় সরকার মনে করলে ধানের সহায়ক মূল্য বাড়াতে পারে। কিন্তু সেটাও তারা করে না। চাষিদের ফসলের দাম না পাওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার নিজেদের দায় অস্বীকার করতে পারে না।
কৃষি বিপণন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, সব জায়গায় আলু কেনা শুরু না হওয়ায় চাষিদের মধ্যে কিছুটা ক্ষোভ রয়েছে। কিন্তু রাজ্য সরকারের প্রতি তাদের আস্থাও রয়েছে। সরকার ক্ষুদ্র এবং প্রান্তিক চাষিদের জন্য হিমঘরে আলু রাখার জন্য জায়গা সংরক্ষণ করেছে। সাড়ে ন’টাকা কেজি দরে সরকার আলু কিনতে শুরু করেছে। সোমবার থেকে জোরকদমে আলু কেনার কাজ শুরু হলে চাষিরা স্বস্তি পাবেন।