


সংবাদদাতা, লালবাগ: অবশেষে ভগবানগোলাবাসীর গত কয়েক দশকের দাবি পূরণ হতে চলেছে। শীঘ্রই হবে দমকল কেন্দ্র। মঙ্গলবার দমকল কেন্দ্রের জন্য প্রস্তাবিত জমি পরিদর্শন করলেন জেলা ফায়ার ইন্সপেক্টর মনিরুল ইসলাম, ভগবানগোলা-১ বিডিও নাজির হোসেন, স্থানীয় বিধায়ক রেয়াত হোসেন সরকার এবং ব্লক ভূমি ও ভূমি রাজস্ব আধিকারিক মনতোষ সিকদার। দমকল কেন্দ্রের জন্য সরকারি আধিকারিকদের প্রস্তাবিত জমি পরিদর্শনের খবর জানাজানি হতেই খুশির হাওয়া।
ভগবানগোলা-১ বিডিও নাজির হোসেন বলেন, দমকল কেন্দ্রের জন্য ভগবানগোলা থানার পাশেই এক বিঘা সরকারি জমি দেখা হয়েছে। জেলা ফায়ার ইন্সপেক্টর মনিরুল ইসলাম ওই জমি পরিদর্শনে এসেছিলেন। ইতিমধ্যে জেলা দমকল দপ্তরে জমি সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে।
ফায়ার ইন্সপেক্টর বলেন, লালবাগ থেকে ভগবানগোলায় দমকলের ইঞ্জিন এসে পৌঁছনোর আগেই অনেক ক্ষতি হয়ে যায়। এখানে একটি দমকল কেন্দ্রের প্রয়োজন আছে। আশা করছি, খুব তাড়াতাড়ি এখানে দমকল কেন্দ্রের কাজ শুরু হবে।
ভগবানগোলা-১, ২ ব্লক নিয়ে ভগবানগোলা বিধানসভা গঠিত। মোট জনসংখ্যা প্রায় পাঁচ লক্ষ। ঘনবসতিপূর্ণ এই বিধানসভা এলাকায় কোনও দমকল কেন্দ্র নেই। দমকল কেন্দ্রের জন্য ভগবানগোলার সর্বস্তরের মানুষ গত কয়েক দশক ধরে দাবি জানিয়ে আসছিলেন। শেষ পর্যন্ত ভগবানগোলায় দমকল কেন্দ্রের জন্য প্রশাসনিকস্তর এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চূড়ান্ত তৎপরতা শুরু হয়েছে।
স্থানীয়রা বলেন, ভগবানগোলা বিধানসভা এলাকায় কোনও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে লালবাগ বা বহরমপুর দমকল কেন্দ্রে খবর দিতে হয়। সেখান থেকে ঘটনাস্থলে দমকলের ইঞ্জিন এসে পৌঁছনোর আগেই সব পুড়ে শেষ হয়ে যায়। চর বিনপাড়ার বাসিন্দা রুস্তম মিঞা বলেন, এখান থেকে লালবাগের দূরত্ব প্রায় ৩৫ কিলোমিটার। বহরমপুরের দূরত্ব আরও ১০-১২ কিলোমিটার বেশি। কাজেই সীমান্তবর্তী প্রত্যন্ত এলাকায় আগুন লাগলে দাঁড়িয়ে দেখা ছাড়া কিছু করার থাকে না। আগুন নিয়ন্ত্রণে ভগবানগোলায় একটি দমকল কেন্দ্র অত্যন্ত জরুরি ছিল।
শিবনগরের বাসিন্দা মিজান আলি বলেন, গ্রীষ্মে ভগবানগোলা বিধানসভার একাধিক এলাকায় আগুনে ঘরবাড়ি, গৃহপালিত পশুপাখির পুড়ে মৃত্যু হয়েছে। অনেক পরিবার সর্বস্বান্ত হয়েছে। ভগবানগোলায় দমকল কেন্দ্র হলে ক্ষতি অনেকটাই এড়ানো যাবে।
ভগবানগোলার বাসিন্দা সরফরাজ শেখ বলেন, দমকল কেন্দ্র হলে ভগবানগোলাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হবে। পাশাপাশি প্রত্যন্ত গ্রামীণ মানুষগুলি কিছুটা হলেও রেহাই পাবে। ভগবানগোলা-রানিতলা নাগরিক মঞ্চের সম্পাদক আজমল হক বলেন, সংগঠনের পক্ষ থেকে দমকল কেন্দ্রের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছি। অবশেষে প্রশাসনিকভাবে তৎপরতা শুরু হয়েছে। ভগবানগোলায় দমকল কেন্দ্র হলে লালগোলার একটা বড় অংশের মানুষও পরিষেবা পাবে।