


বাবার ইচ্ছে ছিল, ছেলে বড় হয়ে ইঞ্জিনিয়ার হবে। ভর্তিও করিয়ে দিয়েছিলেন ঝাড়গ্রাম পলিটেকনিক কলেজে। কিন্তু ছেলের মন চায়নি। কারণ, দু’চোখে যে অভিনেতা হওয়ার স্বপ্ন! তাই কলেজের পড়া শেষ না করেই সোজা কলকাতায় পাড়ি। তমলুক ছেড়ে... বাবার সঙ্গে একপ্রকার ঝগড়া করেই। তিনি শমিত ভঞ্জ। বাংলা সিনেমার ‘আপনজন’! কলকাতায় এসে একটি নাটকের দলে যোগ দিয়েছিলেন। তবে সিনেমায় অভিনয়ের ইচ্ছাটা ততদিনে আরও প্রবল আকার নিয়েছে। ঘুরতে শুরু করলেন সিনেমা পাড়ায়। সেটা ১৯৬০-’৬১। ঘুরতে ঘুরতে ভূমেন রায়ের ‘নিশাচর’ ছবিতে সুযোগ এল। তবে কোনও চরিত্র নয়, ভিড়ের মধ্যে দাঁড়াতে হবে। সেই সুযোগটুকুও ছাড়েননি। তবে ভিড়ের মধ্যে অন্যান্য যাঁরা ছিলেন, তাঁদের থেকে বেশি খাতির করা হয়েছিল শমিতকে। লাঞ্চে অন্যদের থেকে বেশি খাবার... একটা দানাদার, একটা লাড্ডু ও পাঁচটাকা বাড়তি দেওয়া হয়। কেন? ‘একটা স্যুট পরেছিলাম। সেটা ছিল আমার নিজের’, বলেছিলেন শমিত। ‘নিশাচরে’র পর ‘বাদশা’ ছবিতে ফের একটি ভিড়ের দৃশ্য করার সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে এই দৃশ্যগুলিতে অভিনয় প্রতিভা দেখানোর সুযোগ ছিল না। একদিন তপন সিনহার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। তবে সহকারী বলাই সেন দেখা করতে দেননি। হাল ছাড়েননি শমিত। একদিন সুযোগ এল। টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে তপন সিনহার ঘরে ঢুকে পড়লেন জোর করে। সটান পরিচালকের সামনে গিয়ে বলেছিলেন, ‘কাজ দিন, কাজ করব।’ শান্তকণ্ঠে তপনবাবু উত্তর দিয়েছিলেন, ‘এখন তো কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। পরে যোগাযোগ করো।’ পরে অবশ্য শমিতকে কাজ দিয়েছিলেন তপন সিনহা। ‘হাটে বাজারে’ ছবিতে।