


শনিবার দুপুর থেকেই ভিড়টা জমতে শুরু করেছিল মন্নতের বাইরে। সেই ভিড় বাঁধ ভাঙল রাত ১২টায়। চারদিকে তখন একটাই রব— ‘হ্যাপি বার্থ ডে এসআরকে’। না, প্রথা মেনে এ বছর অনুরাগীদের সামনে আইকনিক পোজে দাঁড়াতে পারেননি শাহরুখ খান। দিতে পারেননি ফ্লাইং কিস। এর জন্য মন খারাপ তাঁরও। অনুরাগীদের কাছে ক্ষমাও চেয়ে এক্স হ্যান্ডলে বাদশা লিখেছেন, ‘আমার জন্য যাঁরা দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করছেন, তাঁদের সঙ্গে এবার দেখা হল না। কারণ এবার আমাকে মন্নতের বাইরে আসতে বারণ করা হয়েছে। আসলে নিরাপত্তার সমস্যা হতে পারে। ভিড় সামলানো কঠিন হবে। এর জন্য আমি সকলের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। সবাইকে ধন্যবাদ।’ এই বার্তার পরেও রবিবার সারাদিন মন্নতের বাইরে জনতার যে জোয়ার, উচ্ছ্বাস দেখা গেল, সেটি স্পষ্ট বলে দেয়, তিনি একমেবাদ্বিতীয়ম।
তিনি শাহরুখ খান। ক্যালেন্ডার বলছে, ৬০ বছরে পা দিলেন রবিবার। হুঁ! অবিশ্বাস্য, হতেই পারে না! এদিন ‘কিং’ ছবির অ্যানাউন্সমেন্ট টিজারে কাঁচা-পাকা চুলে যে নায়ক এন্ট্রি নিলেন, তাঁর বয়স ৬০? তিনি সিনিয়র সিটিজেন? না! বন্ধু ফারাহ খান অবশ্য বলেই দিয়েছেন, ‘তুমি আরও ১০০ বছর রাজত্ব কর।’
রাজত্বই করছেন বটে। কেবল প্রেক্ষাগৃহে, ইন্ডাস্ট্রিতে নয়, আসমুদ্রহিমাচলের আট থেকে আশির হৃদয়ে। এ যেন একজন ‘কমন ম্যান’-এর জন্মদিন নয়, উৎসব।
এ বছরের উৎসব যদিও খানিক আলাদা। মন্নতে নয়, বরং রাতে শাহরুখের জন্মদিন সেলিব্রেট হয়েছে আলিবাগের বাড়িতে। ইন্ডাস্ট্রির সহকর্মী, বন্ধুদের নিয়ে খানদানি হাউজ পার্টির আয়োজন করা হয়েছিল। সেই ঝলকই সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন ফারাহ। গিয়েছিলেন করণ জোহর, রানি মুখোপাধ্যায়, অনন্যা পান্ডে সহ আরও অনেকে। সমাজমাধ্যম ভরেছিল কাজল, শিল্পা শেট্টির মতো একাধিক সহ অভিনেতার উইশে। শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
তবুও, তাঁর আইকনিক পোজ ছাড়া কি এই বিশেষ দিনের আয়োজন সম্পূর্ণ হয়? তিনিও বোঝেন ভক্তের স্নায়ু। তাই পরিকল্পনা করেছিলেন অনুরাগীদের সঙ্গে একবার
দেখা করার। শেষ পর্যন্ত তা অবশ্য হল না এ বছর। কিন্তু পরের তো বছর হবেই। তিনি তো এদিনই ঘোষণা করেছেন, ২০২৬ সালটা তাঁরই।
‘শতাধিক দেশে বদনাম, তবে দুনিয়া দিয়েছে একটাই নাম— কিং’।