


সংবাদদাতা, বহরমপুর: নববর্ষের ভোর থেকেই বহরমপুরে বিষ্ণুপুর কালীমন্দিরে ভক্তদের ঢল নামল। মন্দিরে পুজো দিয়ে প্রসাদি ফুল মাথায় ঠেকিয়ে হাজার হাজার মহিলা পুরুষ বছর শুরু করলেন। শহরের বহু ব্যবসায়ী এদিন বিষ্ণুপুর মন্দিরে পুজো দিতে আসেন। মন্দির কমিটির দাবি, সুশৃঙ্খলভাবে পুজো দিতে ছাব্বিশজন স্বেচ্ছাসেবী রাখা হয়েছে। মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে ভক্তদের সরবত বিতরন করা হয়। পুজো শেষে প্রত্যেকের ক্যালেন্ডারও দেওয়া হচ্ছে। পূণ্যার্থীদের বক্তব্য, পারিবার ও সার্বিক মঙ্গল কামনায় পুজো দিয়েই তাঁরা নতুন বছরকে বরণ করছেন। বীরভূম, নদীয়া জেলা থেকেও বহু পরিবার পুজো দিতে এসেছিলেন।
বহরমপুর শহরে বিষ্ণুপুর কালীমন্দির অতি প্রাচীন। মন্দিরের দেবীর আত্মপ্রকাশ ও দেবী মাহাত্ম্য নিয়ে বহু কাহিনি রয়েছে। স্বয়ং আবির্ভূত দেবী করুণাময়ী নামেই পরিচিত। পুজো দিতে এসে শাশ্বতী সরকার বলেন, করুণাময়ীর আর্শীবাদ নিয়েই আমাদের বছর শুরু হয়। মায়ের কৃপায় সারা বছর ভালোই কাটে।
বিষ্ণুপুরে নিত্যপুজোর পাশাপাশি শনি, মঙ্গলবার, অমাবস্যা সহ তিথি অনুসারে বিশেষ পুজো হয়। পৌষমাস জুড়ে মায়ের বিশেষ পুজোর চল রয়েছে। তখন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তদের ঢল নামে। তবে বিষ্ণুপুর মন্দিরে পুজো দিয়ে বর্ষবরণ বহরমপুরবাসীর আবেগের সঙ্গে জড়িত হয়ে গিয়েছে। রিয়া দাস বলেন, ভোরবেলা লাইন দাঁড়িয়েছি। প্রায় দু’ঘন্টা পর মন্দিরে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছি। বছর শুরুর দিন পুজো দিয়ে মন তৃপ্তিতে ভরে উঠেছে। বীরভূম থেকে এসেছিলেন চঞ্চল মণ্ডল। চঞ্চলবাবু বলেন, আমাদের আরাধ্যদেবী তারাপীঠের মা তার। করুণাময়ী মায়ের বহু কাহিনি শুনেছি। তাই এসেছি। বুধবার ভোর সাড়ে ৪টা থেকেই মন্দিরের সামনে ভক্তদের লাইন পড়তে শুরু করে। সাড়ে ৫টা নাগাদ পুজো শুরু হয়। সকাল যত গড়িয়েছে ভিড় তত জমাটি হয়েছে। শ্রাবণী দাস বলেন, সারা বছর এখানে বিভিন্ন তিথিতে পুজো দিতে আসি। ছেলে মেয়ের জন্মদিনেও পুজো দিই। তবে নতুন বছরের শুরু হয় করুণাময়ীর আর্শীবাদ নিয়ে। মন্দিরের সেবাইত তোতন পাণ্ডে বলেন, করুণাময়ীর করুণায় প্রতিবছর পূণ্যার্থীর সংখ্যা বাড়ছে। ভক্তদের পরিষেবা দিতে আমাদের স্বেচ্ছাসেবীরা আপ্রাণ চেষ্টা করে। আজ পর্যন্ত কোনো বিশৃঙ্খলা হয়নি। কেউ
অসন্তুষ্ট হয়ে ফিরে যাননি। সবই মায়ের কৃপা। নতুন বছরের সকালে বিষ্ণুপুর মন্দিরে পুজো দিতে ভক্তদের লাইন। -নিজস্ব চিত্র