


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: রেশন দুর্নীতির বিরুদ্ধে খাদ্যমন্ত্রীর ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’। অভিযোগ পেলেই পূর্ব ঘোষণা ছাড়া আচমকা রেশন দোকানে হানা দিচ্ছেন মন্ত্রী। গ্রাহকদের সামনেই ডিলারকে জেরা ও কান ধরে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করছেন তিনি। এবার রেশন দোকান ও গোডাউন সিল করে অভিযুক্ত ডিলারকে গ্রেপ্তার করালেন খাদ্যমন্ত্রী।
সোমবার সাতসকালে অশোকনগরে খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া অভিযান চালানোয় তোলপাড় পড়ে যায়। জানা গিয়েছে, অশোকনগরের গুমার বড়ো বামুনিয়ার বিশ্বাসপাড়ায় রেশন ডিলার শ্যামল সাহার দোকান রয়েছে। এই দোকানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১৩ হাজার গ্রাহক। অভিযোগ, গত পাঁচ-ছয় মাস ধরে নিয়মিত খাদ্যসামগ্রী থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন এই গ্রাহকরা। শুধু রেশন না দেওয়াই নয়, ওজনে কম দেওয়া, গ্রাহকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং নানা অজুহাতে সরকারি খাদ্যসামগ্রী আটকে রাখার অভিযোগ রয়েছে ওই ডিলারের বিরুদ্ধে। এছাড়াও প্রতি মাসে গ্রাহকদের দোকানে ডেকে আঙুলের ছাপ নেওয়া হত। কিন্তু রেশন দেওয়ার বদলে বলা হত, এই মাসে চাল আসেনি। আঙুলের ছাপ দিয়ে যান, পরের মাসে চাল পেয়ে যাবেন। প্রথম দিকে সরকারি ব্যবস্থার উপর ভরসা করে অনেকেই সেকথা মেনে নিতেন। কিন্তু মাসের পর মাস একই অজুহাত শুনে সন্দেহ দানা বাঁধে তাঁদের। বিষয়টি তাঁরা সরাসরি খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়াকে জানান। সেই অভিযোগ পাওয়ার পর সোমবার আচমকা অভিযানে নামেন খাদ্যমন্ত্রী। সঙ্গে ছিলেন জেলার খাদ্যদপ্তরের আধিকারিক এবং অশোকনগরের বিধায়ক সুময় হীরা। দোকানে ঢুকে গ্রাহকদের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে শুরু করেন মন্ত্রী। শ্যামল সাহার কাছে জানতে চান, আঙুলের ছাপ নেওয়ার পরেও কেন নিয়মিত রেশন দেওয়া হয়নি। তদন্তে একাধিক গরমিল সামনে আসায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন খাদ্যমন্ত্রী। ডিলারকে প্রকাশ্যেই ধমক দেন। পাশাপাশি জেলার ফুড ইনসপেক্টরের কাছে জানতে চান, এত অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন এতদিন এই ডিলারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি? মন্ত্রীর কড়া অবস্থানের মুখে প্রকাশ্যেই কান ধরে ক্ষমা চাইতে দেখা যায় অভিযুক্ত ডিলারকে। এরপর খাদ্যদপ্তরের নির্দেশে শ্যামল সাহার রেশন দোকান ও একটি গোডাউন সিল করে দেওয়া হয়। রেশন দুর্নীতির অভিযোগে অশোকনগর থানার পুলিশ গ্রেপ্তার করে শ্যামল সাহাকে। পুলিশের গাড়িতে তোলার সময় ক্ষুব্ধ গ্রাহক এবং এলাকার বিজেপি কর্মীরা ‘চোর-চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করেন।
গ্রাহক গোপা মণ্ডল ও দীপঙ্কর সাহা বলেন, ছ’মাস ধরে আমরা নিয়মিত রেশন পাইনি। বলা হত, খাদ্যসামগ্রী আসেনি। শুধু বলা হত, আঙুলের ছাপ দিয়ে যান। পরের মাসে সব মিলবে। এ নিয়ে খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া বলেন, তৃণমূল আমলের বদভ্যাস এখনও কিছু রেশন ডিলারের মধ্যে রয়েছে। এই রেশন দোকানের লাইসেন্স বাতিল করা হবে। সাধারণ মানুষের প্রাপ্য রেশন লুট করলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। নিজস্ব চিত্র