


সংবাদদাতা, খড়্গপুর: তীব্র যানজটে হাঁসফাঁস করছে রেল শহর খড়্গপুর। বাড়ছে দুর্ঘটনা। এবার শহরের রাস্তা আর ফুটপাত দখলমুক্ত করতে উদ্যোগী হলেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। মঙ্গলবার জবরদখলকারী এবং ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের কড়া হুঁশিয়ারি দেন দিলীপবাবু। তিনি বলেন, ‘সরকারি রাস্তা, ফুটপাত, প্ল্যাটফর্মের উপর ব্যবসা চলবে না। ব্যবসায়ীদের বলছি আপানারা নিজেরাই দোকানপাট সরিয়ে নিন। না হলে সরকার সব জায়গায় শুরু করেছে! আমরাই খালি করব।’ মঙ্গলবার দিনের ব্যস্ত সময়ে খড়্গপুর শহরের কৌশল্যা এলাকায় ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় এক অস্থায়ী পুরকর্মীর। সেই ঘটনায় জবরদখলকারী বা অবৈধভাবে ফুটপাত দখলকারীদের আগেই কড়া বার্তা দিয়েছিলেন পুর চেয়ারপার্সন কল্যাণী ঘোষ। আর এবার এনিয়ে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয় বিধায়ক তথা রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী দিলীপবাবু। মঙ্গলবার সকালে খড়্গপুর শহরের বোগদার চা চক্র থেকে ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘বিকল্প রাস্তা দেখুন। কোন দখলকারী চলবে না।’
খড়্গপুর শহরবাসীর অভিযোগ, প্রতিদিন ইন্দা, পুরাতনবাজার, কৌশল্যা, গোলবাজারের ফুটপাত একটু একটু করে দখল হয়ে যাচ্ছে। ব্যস্ততম রাস্তার উপর উঠে এসেছে দোকানের অর্ধেক জিনিসপত্র। ফলে প্রতিদিন সঙ্কুচিত হচ্ছে রাস্তা। বাড়ছে যানজট, দুর্ঘটনা। মঙ্গলবারের দুর্ঘটনাও তারই ফলশ্রুতি বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দা থেকে বিজেপি নেতৃত্বের। অভিযোগ যে মিথ্যা নয়, মানছেন তৃণমূল পরিচালিত খড়্গপুর পুরসভার চেয়ারপার্সন কল্যাণী ঘোষও। তবে এজন্য তিনি পুলিশ আর প্রশাসনের উদাসীনতাকেই দায়ী করেছেন। সেইসঙ্গেই তিনি বলেন, শহরজুড়ে মাইকিং চলছে। প্রশাসনকেও উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানাচ্ছি আমরা। যদিও, বিজেপি নেতা তথা কাউন্সিলার অভিষেক আগরওয়াল বলেন, তৃণমূলের নেতারাই তো টাকা নিয়ে, কাটমানি খেয়ে সরকারি জায়গা আর ফুটপাত দখলে মদত দিয়েছে।
শহরের গোলবাজার এলাকাকে যানজটমুক্ত করতেও বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে এদিন জানিয়েছেন দিলীপবাবু। তিনি বলেন, গোলবাজারের পেঁয়াজ মান্ডির জন্যই এখানে তীব্র যানজট হয়। ছাত্রছাত্রীরা অসুবিধার মুখে পড়ে, দুর্ঘটনা ঘটে। তাই শহরের ব্যস্ততম গোলবাজার এলাকা থেকে পেঁয়াজ মান্ডি অন্যত্র সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এদিন দিলীপাবাবু বলেন, ‘আমি জেলাশাসক সহ প্রশাসনের আধিকারিকদের বিকল্প জায়গা খোঁজার কথা বলেছি। ব্যবসায়ীরাও রাজি আছেন।’ মহারাষ্ট্রের নাসিক, পুনে প্রভৃতি জায়গা থেকে প্রতিদিন বড় বড় ট্রাকে করে পেঁয়াজ, রসুন আসে গোলবাজারের এই সুপ্রাচীন মান্ডিতে। ফলে বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন গোলবাজারের ওই ব্যস্ত রাস্তাতে ভয়াবহ যানজট হয়। রেলের ওই জায়গায় নিকাশির হালও খারাপ। সামান্য বৃষ্টি হলেই ওই এলাকায় জল জমে যায়। চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হয় পথচারীদের। দীর্ঘদিন ধরেই শহরবাসী ও ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজ মান্ডি অন্যত্র স্থানান্তরিত করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন প্রশাসনের কাছে। এদিন গোলবাজারের ‘পটাটোস অ্যান্ড ওনিয়ন মার্চেন্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন’-এর সদস্যরাও এনিয়ে মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের দ্বারস্থ হন। তাঁদের আশ্বাস দিয়েছেন দিলীপবাবু। প্রশাসনের একটি সূত্রে জানা যায়, জাতীয় সড়কের আশেপাশে জায়গার খোঁজ চলছে এই পেঁয়াজ মান্ডির জন্য।