


ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়: আর মাত্র দু’দিন পরই ষষ্ঠী। প্যান্ডেলের কাজ শেষ। মণ্ডপে মণ্ডপে ঠাকুর এসে গিয়েছে। দেবীপক্ষে শরতের মৃদুমন্দ বাতাস গায়ে লাগিয়ে ঢাকে কাঠি পড়ার অপেক্ষায় দিন গুনছেন প্রবাসী বাঙালিরাও। বিশেষ করে মহারাষ্ট্রের বসবাসকারী বাঙালিরা। মুম্বইয়ের পুজো মানে লোকে বোঝে বলিউড তারকাদের বাড়ির মণ্ডপের কথা। কিন্তু তার বাইরেও নভি মুম্বইয়ের ভাসি, থানে, পুনে ...মহারাষ্ট্রের নানা জায়গায় রয়েছে দেবী-আরাধনার আয়োজন। এই প্রথম নভি মুম্বইয়ের কোনো দুর্গাপুজোয় প্রতিমা গড়ছেন পদ্মশ্রীপ্রাপক ভাস্কর সনাতন রুদ্র পাল। সেই ভাসি কালচারাল অ্যাসোসিয়েশনের উমা-আবাহন এবছর ২২ বছরে পা দিয়েছে। পুরানো রাজবাড়ির আদলে সেজেছে মণ্ডপ। থাকছে চন্দননগরের আলোকসজ্জাও। পুনের একটি পুজোয় আবার বাঙালি সংস্কৃতি অক্ষুণ্ণ রাখতে খুঁটিনাটি সব আয়োজনে শরিক পশ্চিমবঙ্গের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষজন। এছাড়া রয়েছে প্রতিদিন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ফ্যাশন শো, খাওয়াদাওয়া.. আরও কত কী! মিলনের এই উৎসবে একে অপরকে টেক্কা দিতে তৈরি মণ্ডপগুলিও।
ভাসি কালচারাল অ্যাসোসিয়েশনের পুজো কমিটির সভাপতি শুভঙ্কর মিত্র জানালেন, এই প্রথম নভি মুম্বইয়ের কোনো পুজোয় প্রথমবার প্রতিমা গড়ছেন পদ্মশ্রী সনাতন রুদ্র পাল। আর সেটাই তাঁদের পুজোয় চমক। পঞ্চমীতে আনন্দমেলা দিয়ে উৎসবের সূচনা। ষষ্ঠী থেকে দশমী প্রতিদিনই সন্ধ্যায় অনুষ্ঠান। প্রয়াত আশা ভোঁসলেকে শ্রদ্ধা জানাবেন শিল্পী গুল সাক্সেনা ও রানা চট্টোপাধ্যায়। ইন্ডিয়ান আইডল-খ্যাত তানিষ্ক শুক্লা ও সারেগামাপা জয়ী দেবজিৎ সাহাও গান গাইবেন এখানকার আসরে। ‘নভি মুম্বই বেঙ্গলি অ্যাসোসিয়েশন’-এর পুজোর এবার ৪৭তম বছর। প্রধান পুরোহিতের দায়িত্বে রয়েছেন নিরুপম মুখোপাধ্যায়। প্রদীপ প্রজ্বলন আর শিল্পী জয়তী চক্রবর্তীর মনমাতানো গান দিয়ে ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠীতে পুজোর উদ্বোধন। চারদিনব্যাপী পুজো নির্ঘণ্টের পাশাপাশি এখানকার অন্যতম আকর্ষণ মুক্ত মঞ্চের অনুষ্ঠান, শঙ্খধ্বনি প্রতিযোগিতা, ধুনুচি নাচ। আসল অনুষ্ঠান মহানবমীতে। হবে ফ্যাশন শো আর বলিউডের তারকা শিল্পী জাভেদ আলির পারফরম্যান্স।
থানে পশ্চিমের কেআইএমএস হাসপাতালের ঠিক উল্টোদিকে অরণ্য ব্যাঙ্কোয়েট হলে এই প্রথম বসবে ‘আগমনি’-র আসর। আগমনি কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন এই প্রথমবার উমা-আরাধনায়। তাই এই দুর্গাপুজো তাদের জন্য একটু বেশিই স্পেশাল। ‘আগমনি’র সদস্য মনামি বসু ও সৌম্যজিৎ মজুমদাররা জানালেন, ক্লাবের ১০-১২ জন বসে ‘আড্ডা’ দিতে দিতে হঠাৎ পুজোর প্ল্যান করি। হীরানন্দানি এস্টেটের আবাসিকরা এবার আর বাইরে যাবে না। এবছর নিজেদের ঘরোয়া পুজোই হবে শারদীয়ার উপহার। মনামির কথায়, ‘আগমনি শব্দটির মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে একরাশ আবেগ। এই সময়ে উমা কৈলাস থেকে বাপের বাড়ি ফেরেন। দেবীর সেই আগমনি বার্তা দিয়েই আমরা প্রথমবারের পুজোয় সকলকে আহ্বান জানাচ্ছি।’ থানের মাজিওয়াদায় ‘বংস অব আরবানিয়া’র দুর্গাপুজো আট বছরে পড়ল। এবার উত্সবের পরিধি আরও বেড়েছে। এর জন্য প্রশস্ত ফেস্টিভ প্লাজায় পুজোর আয়োজন হচ্ছে।
শারদোৎসব আড়ম্বরে পালিত হয় মহারাষ্ট্রের আর এক বড়ো শহর পুনেতেও। বি টি কাওয়াড়ে রোডের আমন্ত্রণ ক্লাবের পুজো এবার সাবালক মানে ১৮ ছেরে পা রেখেছে। ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে পুজোর চারদিন এখানে ঢাকি, পুরোহিত, রাঁধুনি থেকে শুরু করে খুঁটিনাটি সব আয়োজনই চলছে পশ্চিমঙ্গের প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষদের তত্ত্বাবধানে। ষষ্ঠী থেকে দশমী—প্রতিদিন আদ্যোপান্ত বাঙালি মেনুর পাশাপাশি সন্ধ্যায় থাকছে নাচ, গান, নাটক ইত্যাদি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। শিল্পী অঙ্কুর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যান্ড আর কলকাতার সঞ্চারী অ্যাকাডেমির নৃত্য পরিবেশনায় এবারের আমন্ত্রণের পুজো জমজমাট। নভি মুম্বই বেঙ্গলি অ্যাসোসিয়েশনের পুজো।-নিজস্ব চিত্র