


শিবাজী চক্রবর্তী, কলকাতা: ভ্যাপসা গরমে দরদরিয়ে ঘামছেন। সোনালি চুল নেমে এসেছে ঘাড় পর্যন্ত। যুবভারতীর ফ্লাডলাইটের আলোয় তা আরও উজ্জ্বল। স্প্রিংয়ের মতো চেহারা। দেখে কে বুঝবে কয়েক বছর আগেই অবসর নিয়েছেন ডিয়েগো ফোরলান। এর আগে আইএসএলে খেলে গিয়েছিলেন তিনি। তবে কোচ হিসাবে এবারই কলকাতায় প্রথম। মঙ্গলবার ভারতের বিরুদ্ধে নামার আগে সিরিয়াস মোডে উরুগুয়ের কিংবদন্তি। বুঝিয়ে দিলেন শুরু থেকেই প্রেসিং ফুটবল চাইছেন তিনি। এদিন যুবভারতীতে ঘণ্টা দেড়েক প্র্যাকটিস সারল উরুগুয়ে। রোনাল্ড আরাহু, নুনেজরা মাঠে ঢুকতেই টিম ম্যানেজমেন্টের নির্দেশে স্প্রিংলার চালানো হল। জলের ফোয়ারায় ভিজল ঘাসের ডগা। এরপর সিচুয়েশন মুভমেন্ট। উইং থেকে দ্রুতগতির আক্রমণ আছড়ে পড়ল বক্সে। চলতি বলে পা ছোঁয়ানোর চেষ্টা করলেন স্ট্রাইকাররা। দলে ৮ জন টাটকা বিশ্বকাপার। মঙ্গলবার খালিদ ব্রিগেডের জন্য কঠিন প্রশ্নপত্র অপেক্ষা করছে সন্দেহ নেই।
দু’বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে। কিন্তু গত বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের বাধা টপকাতে ব্যর্থ তারা। সুয়ারেজ, কাভানি, গডিনদের দেশের গরিমা ফেরানোই ফোরলানের চ্যালেঞ্জ। এদিন প্র্যাকটিসের মাঝেই যুবভারতীর নানা মুহূর্ত লেন্সবন্দি করতে দেখা গেল রিকার্ডোকে। দলের সঙ্গেই এসেছেন তিনি। ১৯৮২ নেহরু কাপে ফ্রান্সিসকলিরা কলকাতায় খেলে গিয়েছে শুনে রিকার্ডো চমৎকৃত। সেই ম্যাচে দারুণ লড়েও উরুগুয়ের বিরুদ্ধে ১-৩ গোলে পরাস্ত হয় ভারত। পরবর্তীতে নেহরু ক্লাব ক্লাবেও অংশ নিয়েছিল পেনারল। কিন্তু লাতিন আমেরিকান জায়ান্টদের সাম্প্রতিক সাফল্য কোথায়? রিকার্ডোর ব্যাখ্যা, ‘সুয়ারেজ, কাভানিদের পর শূন্যতা তৈরি হয়েছে। তবে ফোরলান ঠিক গুছিয়ে নেবে।’ বোঝা গেল, খেলা ছাড়লেও সেই ডিয়েগোকে ঘিরেই সাফল্যের স্বপ্ন দেখছে উরুগুয়ে।