


নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: টুলু মণ্ডলের জাল ডিসিআর চক্রে যুক্ত থাকার অভিযোগে এবার পুলিশের জালে ধরা পড়লেন মহম্মদবাজারের প্রাক্তন বিএলঅ্যান্ডএলআরও সব্যসাচী মণ্ডল। পুলিশ নোটিশ পাঠিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে প্রথমে ডেকে পাঠায়। চলে দীর্ঘক্ষণ জেরা। এরপর শনিবার মাঝরাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এতদিন আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের দাবি ছিল, প্রশাসন শুধু 'চুনোপুঁটি'দেরই ধরছে। এবার খোদ এক শীর্ষ আধিকারিক গ্রেপ্তার হওয়ায় এই তদন্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মোড় নিল বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনি টুলু মণ্ডলের বেআইনি পাথর পাচারের সিন্ডিকেটকে অবাধ ছাড়পত্র দিতে সরকারি ডিসিআর জালিয়াতিতে তিনি সরাসরি মদত জুগিয়েছিলেন। কীভাবে চলত এই জালিয়াতি? তদন্তকারীদের দাবি, এই মামলায় আগেই গ্রেপ্তার হয়েছেন এসডিএলঅ্যান্ডএলআরও দপ্তরের হেড ক্লার্ক প্রবীর দাস এবং মহম্মদবাজার ভূমি দপ্তরের ক্যাশিয়ার বিশ্বজিৎ সাহা। বিশ্বজিৎকে জেরা করেই প্রাক্তন বিএলএলআরও-র নাম সামনে আসে। জানা যায়, বিএলএলআরও-র নির্দেশেই ক্যাশিয়ার বিশ্বজিৎ সরকারি আসল ডিসিআর বই সরাসরি টুলু মণ্ডলের সিন্ডিকেটের হাতে তুলে দিতেন। এরপর সেই আসল বইয়ের ক্রমিক সংখ্যা হুবহু নকল করে জাল ডিসিআর ছাপানো হতো। আসল আর নকলের ফারাক বোঝা কার্যত অসম্ভব ছিল। এই বেআইনি কারবারে মদত দিয়ে ওই আধিকারিকও আর্থিকভাবে বিপুল লাভবান হয়েছিলেন বলে অভিযোগ।
বীরভূম জেলার পুলিশ সুপার বিদিত রাজ বুন্দেশ এই গ্রেপ্তারি প্রসঙ্গে বলেন, 'জাল ডিসিআর কাণ্ডের তদন্তে মহম্মদবাজারের প্রাক্তন ওই ভূমি দপ্তরের কর্তার নাম উঠে আসে। সেই কারণেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে আর কে কে জড়িয়ে আছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।'
খোদ প্রাক্তন বিএলএলআরও-র গ্রেপ্তারির পর স্বাভাবিকভাবেই সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি উঠতে শুরু করেছে— তবে কি এবার এই দুর্নীতির আসল রাঘববোয়ালদের জালে পড়ার পালা? ওয়াকিবহাল মহলের মতে, উপরমহলের প্রভাবশালী মদত ছাড়া টুলু মণ্ডলের পক্ষে দিনের পর দিন এত বড় জাল ডিসিআর-এর সাম্রাজ্য চালানো কার্যত অসম্ভব। কোটি কোটি টাকা লুটের নেপথ্যে থাকা সেই রাঘববোয়ালরা কবে গ্রেপ্তার হবে, নাকি জালের ফাঁক গলে তারা চিরকালই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাবে? এখন সেদিকেই নজর সকলের।