


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আচমকা মোবাইলের স্ক্রিনে ভেসে ওঠে ব্যাংকের মেসেজ— ‘ফিক্সড ডিপোজিটে থাকা ৯ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা অন্য একটি অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করে দেওয়া হয়েছে।’
তা দেখে রীতিমত আঁতকে ওঠেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপিকা বুলা ভদ্র। সারা জীবনের পুঁজি সঞ্চয় এক নিমেষে গায়েব হল কীভাবে? ব্যাংক অ্যাকাউন্ট কি হ্যাক? তদন্তের স্বার্থে আনন্দপুর থানার দ্বারস্থ হয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপিকা। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে একটি প্রতারণা মামলা রুজু করেছে পুলিশ। লেনদেনের হিসাব খতিয়ে দেখে অভিযুক্তের সন্ধান পেতে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। অভিযোগকারিণীর দাবি, একটি বেসরকারি ব্যাংকের রুবি মোড় ব্রাঞ্চে তাঁর অ্যাকাউন্ট রয়েছে। সেই অ্যাকাউন্টেই ফিক্সড ডিপোজিট বাবদ ৯ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা ছিল। গত ১১ জুন প্রতারণার ঘটনাটি ঘটে। অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপিকা পুলিশকে জানিয়েছেন, দুপুর দেড়টা নাগাদ তিনি ব্যাংকের মেসেজ পান। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন বৃদ্ধা। কর্তৃপক্ষ জানায়, নেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ফিক্সড ডিপোজিটের টাকা ট্রান্সফার করা হয়। সেই লেনদেনের নথি সহ আনন্দপুর থানার দ্বারস্থ হন অধ্যাপিকা। তাঁর দাবি, ব্যাংক থেকে কোনোভাবে তাঁর ফিক্সড ডিপোজিটের নথি ফাঁস হয়েছে। নেপথ্যে কোনো ব্যাংক কর্মী রয়েছেন বলে সন্দেহ অধ্যাপিকার। তাঁর বক্তব্য, এই লেনদেন নিয়ে আমি কোনো অনুমতি দিইনি। তাহলে কীভাবে ব্যাংকে থাকা তথ্য ফাঁস হয়ে গেল? পুলিশ জানিয়েছে, ফিক্সড ডিপোজিটের জন্য আলাদা অ্যাকাউন্ট তৈরি হয়। সেই তথ্য কোনোভাবে হ্যাক করা হয়েছে। তা কীভাবে হল? নেট ব্যাংকিং কোন আইপি অ্যাড্রেস থেকে ইনিশিয়েট করা হয়েছে, সবটাই পুলিশের আতশকাচের তলায়।