


লখনউ: উত্তরপ্রদেশের এক গুরুকুলে ভূগর্ভস্থ জলের ট্যাংক পরিষ্কার করতে নেমে বিষাক্ত গ্যাসের সংস্পর্শে মৃত্যু হল চার পড়ুয়ার। আরও এক ছাত্র গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভরতি। বুধবার বৃন্দাবনের চৈতন্য বিহারে মহর্ষি পাণিনি গুরুকুলের এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে জেলাশাসক ছাড়াও পুর কমিশনার, দমকল বাহিনীর কর্মী-সহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। মথুরার জেলাশাসক চন্দ্রপ্রকাশ সিং ঘটনাস্থলে গিয়ে জানান, গুরুকুল চত্বরে থাকা জলের ট্যাংকটি প্রায় ১০-১২ ফুট গভীর। কয়েকদিন ধরেই সেটি থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। তাই পরিষ্কার করতে ট্যাংকের ভিতরে নেমেছিল গুরুকুলের পাঁচ পড়ুয়া। মথুরা পুলিশের সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট শ্লোক কুমার জানিয়েছেন, বৃন্দাবন গুরুকুল একটি আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। প্রায় ১৫০ জন পড়ুয়া সেখানে পড়াশোনা করে। এদিন প্রথমে একজন ছাত্র ট্যাংকের ভিতরে নামার পর আর বেরিয়ে আসছিল না। তাকে উদ্ধার করতে নামে আরও চারজন। তাদেরও সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না। শেষপর্যন্ত ঘটনাস্থলে থাকা অন্যরা টেনে বাইরে বার করে পাঁচ জনকে। এরপর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চারজনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। ওই পড়ুয়াদের বয়স ১৭ থেকে ২০ বছরের মধ্যে।
ট্যাংকের ভিতরে কী ধরনের বিষাক্ত গ্যাস তৈরি হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজও পরীক্ষা করে দেখছে পুলিশ। জেলাশাসক জানিয়েছেন, তদন্তে কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। গুরুকুলটি কে পরিচালনা করে, কোথা থেকে পরিচালিত হয় এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র ছিল কি না, সেগুলিও খতিয়ে দেখা হবে। এই ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘বৃন্দাবনে দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। মৃতদের পরিবারকে এই কঠিন সময়ে শক্তি দেওয়ার জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করছি।’