


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কলকাতার ১৭টি প্রাইভেট হাসপাতালের ৬৬০টি বেড জুড়ছে স্বাস্থ্যদপ্তরের বেড ব্যাংকে। শুক্রবার একথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকার। তিনি জানান, সরকারের কাছ থেকে বিনামূল্যে জমি পাওয়া ১৭টি প্রাইভেট হাসপাতালের ১০ শতাংশ শয্যায় গরিব রোগীদের চিকিৎসা দিতে হবে। আমরা হিসাব করে দেখেছি, এই ১৭টি প্রাইভেট হাসপাতালের মোট বেড ৬,৫৭৩। অর্থাৎ ৬৬০টি বেডে আমরা সরকারি হাসপাতালের রোগীদের ভরতি করতে পারব। মন্ত্রী বলেন, দুটি প্রাইভেট হাসপাতাল ফ্রি বেড দিতে নারাজ। আমরাও স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছি, দিতে হবে।
এইসব জায়গায় কি রোগীরা সম্পূর্ণ বিনাপয়সায় চিকিৎসা পাবেন? রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এদিন বলেন, মূল চুক্তিপত্র এবং ক্লিনিক্যাল এস্টাবলিশমেন্ট আইন মোতাবেক ওই ১০ শতাংশ বেডে বিনামূল্যে গরিব রোগীদের চিকিৎসা দিতে হবে। ‘ফ্রি ট্রিটমেন্ট’ মানে হাসপাতালের বেড থেকে ওষুধ, ইঞ্জেকশন—সবটাই। সরকার রোগীকে নিয়ে যাবে ওই বেডে। রোগীর বাড়ির লোক চিকিৎসা শেষে বাড়ি নিয়ে যাবে। মাঝের চিকিৎসাকালীন সময়ের খরচ সংশ্লিষ্ট প্রাইভেট হাসপাতালের। মন্ত্রী জানান, বাকি প্রাইভেটগুলির কাছেও কিছু বেডে গরিব রোগীদের নিখরচায় চিকিৎসা দিতে আবেদন জানিয়েছি। বৃহস্পতিবার কলকাতার ১৭টি প্রাইভেট হাসপাতালের সঙ্গে বৈঠকের পর আজ শনিবার জেলার প্রাইভেট হাসপাতালগুলির সঙ্গে বৈঠক করবেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সোমবার বৈঠক করবেন প্রাইভেট মেডিকেল কলেজগুলির সঙ্গে। প্রসঙ্গত, রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তরের অধীন সহস্রাধিক সরকারি হাসপাতাল-মেডিকেল কলেজ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র মিলিয়ে ৯৭ হাজার সরকারি বেড আছে। এদিন সংবাদ মাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাঃ মুখোপাধ্যায় বলেন, রাজ্যে আরো ১৫০-২০০ আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দির করা হবে। বর্তমানে যেগুলি শয্যাহীন রয়েছে, সেখানে বেডের ব্যবস্থা করা হবে। ব্লক স্তরে ইউএসজি এবং এক্স-রে চালু হবে। জেলা ও মহকুমা স্তরের প্রতি হাসপাতালে থাকবে ইউএসজি, ইকো, সিটি স্ক্যান এবং এক্স রে। চার জেলায় মেডিকেল কলেজ গড়ার জন্য ডিপিআর হচ্ছে। আইআইটি খড়্গপুরের শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় হাসপাতালকে মেডিকেল কলেজ করার পরিকল্পনা হচ্ছে। কলকাতায় ধুঁকতে থাকা বিভিন্ন হাসপাতালকে পুনরুজ্জীবিত করা হবে। এছাড়া পোর্ট, রেল, ইএসআই হাসপাতালের সঙ্গেও চুক্তি হবে।