


স্বরলিপি ভট্টাচার্য: বেলা দে-কে নিয়ে ছবির অফার পেয়ে অবাক হয়েছিলেন?
হুম, অবাক হয়েছিলাম। কারণ এমন প্রথিতযশা মহিলা, তাঁর তেমন কোনও তথ্যচিত্র নেই। সে আমলে বাইরের জগতের সঙ্গে মহিলাদের এত যোগাযোগ ছিল না। আকাশবাণীর মহিলামহলের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যে যোগাযোগ উনি স্থাপন করেছিলেন তা অপূর্ব।
নস্টালজিক হয়ে পড়েছিলেন?
বেলা দে-র বাড়ি গিয়ে ওঁর আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে অন্যরকম লাগছিল। এখনও বাড়ির নেমপ্লেটে ওঁর নাম রয়েছে। সে সময় লন্ডনে গিয়ে হোম সায়েন্স পড়েছিলেন। বাবা, দাদাদের বিরুদ্ধে গিয়ে বলেছিলেন, স্বাধীনতা কেউ কাউকে দেয় না, স্বাধীনতা কেড়ে নিতে হয়।
আপনিও এটা বিশ্বাস করেন?
কিছুটা তো বিশ্বাস করি বটেই। মন স্বাধীন করতে গেলে নিজের মতামত তৈরি করতে হয়। নাহলে কেউ গুরুত্ব দেয় না।
এই ছবিতে প্রায় মেকআপ ছাড়াই দেখা যাবে আপনাকে?
পরিচালক যেভাবে দেখান, সেভাবে দেখতে পছন্দ করি আমি। এখানে পরিচালক অনিলাভ চট্টোপাধ্যায় বেলা দে-র কিছু তথ্য শেয়ার করেছিলেন। সেটা মাথায় রেখে অল্প মেকআপ করেছি। সাধারণ বিনুনি। ছোট টিপ। সুতির শাড়ি। আমি শুনেছি উনিও সাধারণ সাজ পছন্দ করতেন। শুধু বিয়ের পরের সময়টা একটু সাজ রেখেছি। একটা চরিত্রের ভিতর যেকোনও অভিনেত্রীর জার্নি থাকে। কিছুদিন আগে একটা ঘটনা ঘটেছে জানেন...(হাসি)
কী ঘটনা?
একটা অনুষ্ঠান সেরে নন্দন থেকে বেরচ্ছি। একজন বললেন, আপনাকে পর্দার বাইরে বেশি ভালো লাগে। আমি বললাম, বাহ! এটা তো কমপ্লিমেন্ট। ওঁকে বোঝালাম, আপনি যে ঋতুপর্ণাকে সিনেমায় দেখছেন, সে চরিত্র। আমাকে কেমন দেখতে লাগছে, ছবিতে সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। চরিত্র হয়ে উঠতে পারলাম কি না, সেটাই তো কাজ (হাসি)।
রকমারি রান্না বেলার আরও এক সাফল্যের স্তম্ভ ছিল তো?
অবশ্যই। রান্না এখন অন্য স্তরে পৌঁছেছে। সকলে ভাবত রান্না অত্যন্ত সাধারণ জিনিস। কিন্তু বেলা দেখিয়েছেন, রান্নাও শিল্প। ওঁর উপস্থাপনা অন্যরকম ছিল। ওঁকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে সে সময় বহু মানুষ ভাতের হোটেল খুলে ফেলেছিলেন। আজ কত মহিলা শেফ, কত মহিলা কাফে খুলছেন, আমার তো মনে হয় সেসব মেয়েদেরও পথ দেখিয়েছেন বেলা।
আপনি রান্না করেন?
রান্না করতে ভালোবাসি। মাকে রাঁধতে দেখেছি। মাংসের ঘুগনি মা দারুণ বানাত। আমার জন্মদিনে চিংড়ি মাছের মালাইকারি, মাটন চপ মা করতই। আবার শাশুড়ি মায়ের হাতের ফুলকপির রোস্ট চমৎকার ছিল। আমি কলকাতায় অত সময় পাই না। সিঙ্গাপুরের বাড়িতে প্রায়ই রান্না করি। সরষের তেল দিয়ে আলুমাখা সবার প্রিয়। গার্লিক প্রনও ভালো বানাই।
প্রাইমে টাইমে বাংলা ছবি দেখানোর সিদ্ধান্ত কতটা ফলপ্রসূ হবে বলে মনে করেন?
এই বিষয়টা নিয়ে আমি অনেকদিন ধরেই কথা বলছি। বাংলা সিনেমাকে যোগ্য জায়গা না দেওয়া হলে বাঁচাব কীভাবে? একটা জিনিস খারাপ লাগে, এটা যদি আর একটু আগে হতো, অন্য প্রযোজক পরিচালকও সুবিধা নিতে পারতেন। দর্শকেরও কিন্তু দায়িত্ব রয়েছে। সিনেমাহলে যেতে হবে তাঁদের।
বেলার সময় থেকে আজকের পৃথিবী— নারীর ক্ষমতায়ন কতটা বদলেছে?
মেয়েদের মানসিকতা, গতিবিধি স্বাধীন হয়েছে ঠিকই। কিন্তু আমার ধারণা শিক্ষার সুযোগ আরও বেশি থাকলে স্বাধীন হওয়ার রাস্তাটা খুলে যায়। অনেকের শিক্ষার অভাব বলেই এই প্রয়াস নিতে পারেন না। আবার অনেক মেয়েরা নিজেরাই স্বাধীন হতে চায় না। স্বাধীন হওয়ার ইচ্ছে নেই। ভারসাম্য রেখে স্বাধীনতা প্রয়োজন। স্বেচ্ছাচারিতা কিন্তু স্বাধীনতা নয়। স্বাধীনতার মধ্যেও পরিশীলতা রয়েছে।