


সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: রমজান মাস পড়তেই ফলের বাজারে দাম চড়েছিল। অভিযোগ পেয়ে একাধিক ফলের বাজারে হানাও দেয় পুলিস। কয়েক দিন ফলের দাম নাগালের মধ্যে ছিল। দিন দু’য়েক থেকে ফের জেলা সহ জঙ্গিপুরের বিভিন্ন ফলের বাজারে পাতিলেবু সহ বিভিন্ন ফল কিনতে গিয়ে রীতিমতো ছ্যাঁকা খাচ্ছেন আমজনতা। পাতিলেবুর দাম ১০ টাকা পিস। তবুও সবসময় মিলছে না। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত লেবু শেষ হয়ে এসেছে। সেটাই দাম বাড়ার বড় কারণ বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। আপাতত চড়া দর থেকে রেহাই পাওয়া যাবে না বলেই মনে করছেন অনেকে।
এই জেলার একটা বড় অংশের মানুষ মুসলিম সম্প্রদায়ের। তাঁরা ধর্মীয় রীতি মেনে সন্ধ্যায় যে রোজা ভঙ্গ করেন, সেখানে খাদ্য তালিকায় থাকে শরবতের সঙ্গে হরেক ফল। সেই শরবতের লেবু ও ফল কিনতে গিয়ে রীতিমতো বেগ পেতে হচ্ছে ক্রেতাদের। তাই নিয়ে সাধারণ মানুষ ও ক্রেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বেআইনিভাবে যারা জিনিসপত্রের বাড়তি দাম নিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণের আর্জি জানিয়েছে সাধারণ মানুষ। এপ্রসঙ্গে জঙ্গিপুর ডিইবি’র এক আধিকারিক বলেন, এবিষয়ে একাধিক অভিযোগ পেয়েছি। ইতিপূর্বেই বাজারে একাধিকবার হানা দেওয়া হয়েছে। আবারও শীঘ্রই বাজারে হানা দেওয়া হবে। বেআইনিভাবে দাম আদায়কারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
রোজার শুরু থেকেই পাতিলেবুর দাম চড়ে ছিল। ১০ টাকায় দু’টি লেবু পাওয়া যাচ্ছিল। কয়েকদিন পরেই অবশ্য দাম কমে যায়। আচমকাই আবার প্রতিটি পাতিলেবু বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকা দামে। স্থানীয়ভাবে চাষ করা লেবু প্রায় শেষ। ফলে প্রতিবেশী জেলা ও রাজ্য থেকে লেবু আমদানি করতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। লেবুর চাহিদা থাকায় বেশি দাম দিয়েই কিনতে হচ্ছে পাইকারি ব্যবসায়ীদের। ফলে খুচরো ব্যবসায়ীরাও বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে।
পাতিলেবুর পাশাপাশি মোসাম্বির দাম বেড়েছে। রঘুনাথগঞ্জ ফলের বাজারে ২০ টাকা পিস মোসাম্বি বিক্রি হচ্ছে। মফস্সল এলাকায় দাম আরও বেশি। শসা বিক্রি হচ্ছে ৬০টাকা কেজি দরে। আপেল ১৮০ থেকে আড়াইশো টাকা, আঙুর এক লাফে ১০০ টাকা থেকে ১৮০ টাকা, সিঙ্গাপুরি কলা ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি। ক্রেতা ইসমাইল শেখ ও হাফিজুল ইসলাম বলেন, মাত্র দু’টি লেবু নিলাম। ইফতারে শরবতে লাগবে, তাই চড়া দাম হলেও নিতেই হল।