


নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: শুক্রবার দুপুরে আসানসোলের মনোজ টকিজের উল্টো দিকে গলিতে গল্প করছিলেন এক তরুণী ও দুই যুবক। তরুণী যথেষ্ট স্মার্ট। বয়কাট চুল, পরণে নীল জিনস ও শার্ট। হেলমেট পরে মেয়েটিই স্কুটি চালিয়ে এসেছিল। পিছনে বসেছিলেন আরও একজন। তাদের সঙ্গে ছিল একটি ব্যাগ। তারা আসতেই আরও এক যুবক তাদের কাছে যায়। হঠাৎই তাদের ঘিরে ধরে পুলিস। মহিলা ঘটিত কোনও সমস্যা ধরে নিয়ে ভ্রুক্ষেপ করেনি এলাকাবাসী। তারপরে মেয়েটির সামনে থাকা ব্যাগ থেকে যখনই একের পর এক গাঁজার প্যাকেট উদ্ধার হয় তখন চক্ষু চড়ক গাছ মানুষের। ১৯ বছরের সুন্দরী তরুণীর কাণ্ড দেখে হতবাক সকলেই। পুলিস কিন্তু মোটেও অবাক নয়। পুলিসের দাবি, এর আগে সফল ভাবে একাধিকবার মাদক পাচার করেছে নেহা অধিকারী নামে ওই তরুণী। জামুড়িয়ার অনিল সিংহ ও নেহা ভাই-বোন পরিচয়ে বহু দিন ধরেই গাঁজা পাচার করে।
ডিসি ধ্রুব দাস বলেন, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে আসানসোল দক্ষিণ থানার পুলিস ও গোয়েন্দা বিভাগ যৌথ অভিযান চালায়। ১০ কেজি ৩৪৯ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার হয়েছে। এক মহিলা সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, নেহা অধিকারীর মামার বাড়ি জামুড়িয়ার বোগরাচটিতে। তার মায়ের বর্ধমানে বিয়ে হয়েছিল। মা মারা যাওয়ার পর মামার বাড়িতে বৃদ্ধা দিদার কাছেই মানুষ। তরুণীর অসহায় অবস্থার সুযোগ নেয় জামুড়িয়ার কুখ্যাত গাঁজা পাচারকারী অনিল সিং। স্মার্ট তরুণী সঙ্গে থাকলে লোকে তাকে সন্দেহ করবে না। এই ফন্দিতেই অনিল মেয়েটিকে বোন পরিচয় দিয়ে পাচারের কারবারে নামিয়ে দেয়। ভাই-বোনের এই কারবার পুলিসের নজরে এলেও তাদের হাতেনাতে ধরা যায়নি। পুলিসের দাবি, প্রতিবারই অল্পের জন্য বেঁচে যায় এই গ্যাং। পুলিস খবর পায়, ফের তারা আসানসোলের আসছে কুলটির শিমূলগ্রামের অরুণেশ চৌধুরীকে গাঁজা পাচার করবে। সেই মতোই নজরদারি বাড়িয়েছিল পুলিস। পাচারকারীরা বেছে নেয় আসানসোল দক্ষিণ থানার মনোজ সিনেমা হলের উল্টো দিকেই একটি গলিকে। সেখানে তারা জমায়েত হতেই পুলিস পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে। এক ফল বিক্রেতা বলেন, এলাকায় একাধিক হোটেল রয়েছে। মাঝে মধ্যেই পুলিস অভিযান চালায়। আমরা ভেবেছিলাম যুবক-যুবতীকে সেই কারণেই আটক করা হয়েছে। এবারই প্রথম নয়, কয়েকদিন আগেই কুলটি থানার বামনা মোড়েও ১৪৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার হয়েছিল। সেখানেও পাঁচজন যুবতীকে পুলিস গ্রেপ্তার করে। তরুণী, যুবতীদের সামনে রেখেই গাঁজা পাচারের গুটি সাজাচ্ছে চক্রীরা।-নিজস্ব চিত্র