


সংবাদদাতা, রামপুরহাট: দ্বারকা নদে স্নান করে দেবী তারার কাছে পুজো দেওয়াই তারাপীঠের পুরনো রীতি। কিন্তু কোথায় পুণ্যতোয়া দ্বারকা নদ? তারাপীঠে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা হোটেল আর রেস্তরাঁ থেকে ফেলা মানুষের উচ্ছিষ্ট আর আবর্জনায় ভরে উঠেছে সাধক বামাখ্যাপার দ্বারকা নদ।
স্থানীয় মানুষ ও পর্যটকদের অভিযোগ, হোটেল ও রেস্তরাঁগুলি থেকে নোংরা আবর্জনা ফেলা হয় নদে। এছাড়া হোটেল ও বাড়ির বর্জ্য জল নির্গত হয়ে নদে পড়ে দূষণ ছড়াচ্ছে। যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পুণ্যার্থী থেকে স্থানীয় মানুষরা সরব। দ্বারকাকে পরিচ্ছন্ন রাখতে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল পরিবেশ আদালতও। দূষণ নিয়ে মানুষের ক্ষোভের আঁচ পৌঁছেছিল নবান্ন অবধি। তারপরই নদের দূষণ নিয়ন্ত্রণে অবকাঠামো তৈরি করতে ‘ডিজিপিএস’-এর মাধ্যমে সার্ভের উদ্যোগ নিল টিআরডিএ। আজ বৃহস্পতিবার থেকে সেই সার্ভে শুরু হচ্ছে বলে জানান টিআরডিএর সিইও তথা রামপুরহাট মহকুমা শাসক অশ্বিন বি রাঠোর। তিনি বলেন, আমরা দেখে নিতে চাইছি কোথা থেকে কঠিন ও তরল বর্জ্য ও আবর্জনা সরাসরি দ্বারকায় পড়ছে। সেই মতো পদক্ষেপ করা হবে। তার জন্যই এই সার্ভে। তবে শুধু নিকাশি ব্যবস্থার উন্নয়ন বা দ্বারকার দূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্যই ডিজিপিএসের মাধ্যমে সার্ভে নয়। এবার থেকে কোন এলাকা থেকে কে বা কারা দ্বারকায় নোংরা, আবর্জনা ফেলছে সে ব্যাপারে নজরদারি চালাতে আকাশে ড্রোন উড়িয়েও সার্ভে করা হবে বলে জানিয়েছেন মহকুমা শাসক। তিনি বলেন, তাহলে বোঝা যাবে কাদের বিরুদ্ধে সরকারকে অ্যাকশন নিতে হবে। যারা আবর্জনা ফেলছে, তাদের যেমন জরিমানা করা হবে, তেমনি নোংরা, আবর্জনা ফেলা বন্ধ করার জন্য আদেশও দেওয়া হবে।
আড়ে বহরে বেড়েছে তারাপীঠ। মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে পুণ্যভূমির আমূল পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু পরিবেশ আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও দ্বারকা নদ এখনও দূষণমুক্ত হয়নি। রোজই নিয়ম করে নদে ফেলা হচ্ছে হোটেল ও রেস্তরাঁর এঁটো থার্মোকল ও শালপাতা, গ্লাস, চায়ের কাপ থেকে শুরু করে অন্যান্য আবর্জনা। একইভাবে বেশ কিছু লজের বর্জ্য জল দ্বারকায় গিয়ে মিশছে। তরল বর্জ্য পরিশোধনের জন্য প্রায় ৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্লান্ট গড়ে তোলা হয়েছে। গোটা তারাপীঠজুড়ে মাটির তলায় পাইপ বসানো সহ একাধিক ম্যানহোল করা হয়। সম্প্রতি পিএইচএর পাইপ লাইনের সঙ্গে বেশকিছু হোটেল ও লজের নালা যুক্ত করা হয়েছে। দূষণ রোধে টিআরডিএর পক্ষ থেকে শ্মশানে বৈদ্যুতিক চুল্লি তৈরি হয়েছে। কিন্তু এখনও বহু হোটেল ও লজের এবং বসতি এলাকার বর্জ্য জল ও আবর্জনা কোনও না কোনও ভাবে দ্বারকায় পড়ছে। সেই সঙ্গে রাতের অন্ধকারে দ্বারকায় ফেলা হচ্ছে আবর্জনা।
এসব রুখতেই আধুনিক প্রযুক্তি ডিজিপিএস সিস্টেমের মাধ্যমে সার্ভে করে পদক্ষেপের উদ্যোগ নিয়েছে টিআরডিএ। জানা গিয়েছে, ডিজিপিএস অত্যন্ত নির্ভুলভাবে স্থান নির্ধারণের জন্য ব্যবহৃত হয়। দূষণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত অবকাঠামো তৈরির (যেমন পাইপলাইন, বর্জ্য নিষ্কাশন) ও ভূমি ব্যবহারের পরিকল্পনা করতে এবং দূষণ সৃষ্টিকারী উৎসগুলো সঠিকভাবে চিহ্নিত ও নিয়ন্ত্রণ করতে, দূষণের পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন করতে সেই প্রযুক্তিই বব্যহৃত হবে। সাধারণ জিপিএসের চেয়ে ডিজিপিএস অনেক বেশি নির্ভুল।