


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আজ বুধবার পয়লা বৈশাখকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই সেজে উঠেছে সোনার দোকানগুলি। বাঙালিও তার সংস্কৃতি বজায় রাখতে এদিন সোনা কেনাকে আপন করে নেয়। এই পরম্পরা সঙ্গেই দোসর হয়েছে সোনার দাম। কলকাতায় যেখানে মাসকয়েক আগেই সোনার দর ১ লক্ষ ৭৮ হাজার টাকার সীমা পেরিয়ে গিয়েছিল, তা এখন দেড় লক্ষ টাকার আশেপাশে। ওয়েস্ট বেঙ্গল বুলিয়ান মার্চেন্টস অ্যান্ড জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের দেওয়া দর অনুযায়ী বুধবার কলকাতায় ২৪ ক্যারেট বিশুদ্ধতার ১০ গ্রাম সোনার দর যায় ১ লক্ষ ৫৩ হাজার ২০০ টাকা। ২২ ক্যারেট গয়না সোনার দর ছিল এদিন ১ লক্ষ ৪৫ হাজার ৬০০ টাকা। বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কমতির দিকে থাকা সোনার এই দর ক্রেতাদের মধ্যে ইতিমধ্যেই সদর্থক প্রভাব ফেলেছে। খুচরো বাজারে বিক্রিবাটা ইতিমধ্যেই বাড়তে শুরু করেছে।
পয়লা বৈশাখের আগে থেকেই যে বাজারে সোনার দাম কমার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে, তা জানিয়েছেন সেনকো গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ডসের এমডি ও সিইও শুভঙ্কর সেন। তিনি বলেন, সাধারণভাবে আমাদের শোরুমগুলিতে যে সংখ্যক ক্রেতারা আসেন, বিগত কয়েকদিন ধরে তাঁদের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি। যেহেতু সোনার দাম এখন কম, তাই ক্রেতারা সেই সুযোগ হাতছাড়া করতে রাজি নন। শহরাঞ্চলের শোরুমগুলোতে তো বটেই, গ্রামাঞ্চল বা জেলাগুলিতে যে শোরুম রয়েছে, সেখানেও আমরা একই রকমের উৎসাহ দেখতে পাচ্ছি। হালকা গয়না ও হিরের গয়নার চাহিদাই সবচেয়ে বেশি। যে সমস্ত ক্রেতা আসছেন, তাঁরা ৪০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকার মধ্যেই বেশি কেনাকাটা করছেন। অর্থাৎ বাজেটের দিক থেকেও যেমন তাঁদের বড়ো কোনো চাপ হচ্ছে না, তেমনই তাঁরা নিজের পছন্দসই গয়না কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এর পাশাপাশি আমরা যে অফারগুলো চালু রেখেছি, সেগুলির সদ্ব্যবহার করছেন তাঁরা।
পয়লা বৈশাখকে কেন্দ্র করে স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা যে অফারগুলি চালু রেখেছেন, সেগুলি গ্রহণ করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে বলে মনে করেন স্বর্ণ শিল্প বাঁচাও কমিটির কার্যনির্বাহী সভাপতি ও গিনি এম্পোরিয়ামের কর্ণধার সমর দে। তিনি বলেন, বিশ্বের বাজার অস্থিরতার মধ্যে দিয়েই যাচ্ছে। যেহেতু বিশ্বজুড়ে ভূ -অর্থনৈতিক অবস্থা অত্যন্ত টালমাটাল, তাই সোনার দামে তার প্রভাব পড়বে, এটাই স্বাভাবিক। এখন সোনার দাম কম থাকলেও অদূর ভবিষ্যতেই যে তা অনেকটাই বাড়বে, তা বলার অপেক্ষায় রাখে না। সমরবাবুর কথায়, আমার ৫০ বছরের বেশি ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা বলছে, অতি শীঘ্রই সোনার দশ গ্রামের দাম ২ লক্ষ টাকার সীমা পার করবে। পাশাপাশি আমরা দেখেছি, সোনার দাম যতই বাড়ুক না কেন, তার চাহিদাও বাড়ে পাল্লা দিয়ে। এর অন্যতম কারণ যেমন গয়না, তেমনই বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবেও সোনার কদর সবসময় বেশি। চটজলদি টাকা পাওয়া যায় বলে, তাতে বিনিয়োগ করাকেই শ্রেয় মনে করেন বহু খুচরো লগ্নিকারী। এবারের পয়লা বৈশাখ ও অক্ষয় তৃতীয়া কেন্দ্রিক বাজারও তাই ভালো থাকবে বলেই আশা করছি আমরা।