


প্রদীপ আচার্য: পুলকের ফোন অঞ্জনের দিবানিদ্রা ছুটিয়ে দিল। হাত বাড়িয়ে মাথার কাছে টেবিলের ওপর থেকে মুঠোয় আনল ফোনটাকে। স্ক্রিনে কাঁপছে পুলক কলিং। মেজাজ তিরিক্ষে হল। হাই তুলে গলায় ঘুমের জটলা নিয়ে বলল, ‘বল।’ পুলক বলল, ‘সেকি রে! তুই ঘুমোচ্ছিলি? ওঠ, ওঠ, উঠে দেখ, ফেসবুকে সবুজের পোস্টগুলো দেখ।’ পুলকের কথা শুনে বিছানায় উঠে বসে অঞ্জন। বলে, ‘সবুজের পোস্ট মানে?’
‘মানে আর কী? সবুজ ইজ স্টিল ফায়ারিং। ফেসবুক খুলে দেখ।’
‘কেন? কী লিখেছে?’‘তোর নামে আনসান লিখেছে। তুই খুলে দেখ’
‘ছাড় তো।’ বলে ফোন কেটে দেয় অঞ্জন। খানিক গুম মেরে বসে থাকে। ভাবে, সকালের সেই কুকথার জের। আশ্চর্য! ওরকম একটা কথা কেনই বা তার মুখ দিয়ে বেরিয়ে এল! কথাটা কি অঞ্জন কোনো বইটইতে পড়েছিল নাকি কখনো?
অঞ্জন বোঝে, তার এই কথাটা থেকেই যাবে। এমন কুকথার মরণ হয় না। অঞ্জন কথাটা আলটপকা বলে ফেললেও আদতে কথাটা কিন্তু আপ্তবাক্যের মতোই সত্যি। তবে স্থান, কাল, পাত্র বিশেষে হয়তো কথাটার ভুল প্রয়োগ ঘটে গেছে। আর সে নিয়েই এমন মহামারী কাণ্ড।
অঞ্জন ভাবে, কোথাকার জল কোথায় গড়িয়েছে। শাবাশ গ্লোবাল ভিলেজ! বাহবা কেয়া বাত! সেই হিউস্টন থেকে সুমনা, কানাডার তীর্থঙ্কর, ঢাকার মজিদ সবাই সিন হয়েছে। শেয়ার করেছে। কমেন্টে ধিক্কার দিয়েছে। বলতে গেলে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অঞ্জন এখন ফেসবুকে যাকে বলে একঘরে হয়ে গেছে। মোবাইলের স্ক্রিনে তর্জনী আপনা থেকেই থমকে যায় অঞ্জনের। সে ভেবে নেয়, কোনো কৈফিয়ত দিতে যাবে না সে। তাছাড়া অঞ্জনের আত্মম্ভরিতা তাতে মোটেই সায় দিচ্ছে না। সবুজ তো অপমানের গাওনা গেয়ে প্রায় নগ্ন হয়ে সিমপ্যাথি সংগ্রহে
নেমে পড়েছে।
বন্ধুদের মধ্যে অঞ্জনই বেকার। মানে কোনও ডেইলি খবরের কাগজ বা কোনো উইকলির চাকরি ছাড়া অন্য চাকরি সে করবে না। তাই গোটা কতক টিউশন নিয়ে পড়ে আছে। আর লড়ে যাচ্ছে কবিতা নিয়ে, লিটল ম্যাগাজিন নিয়ে। অঞ্জনের ফিজিক খুবই অ্যাট্রাকটিভ। এলোমেলো সাজপোশাকের ভেতর থেকেও উঁকি দেয় এক ধরনের নিপাট আভিজাত্য। ঋজু কণ্ঠস্বর। মাথাভর্তি কোঁকড়া ঝাঁকড়া ঠাস বুনোট চুল। গালভরা দাড়িগোঁফের জঙ্গল। দৃপ্ত দুই চোখে প্রগাঢ় চাউনি।
ওদিকে, সবুজ মোটা মাইনের চাকুরে। লেখালেখি করে না। তবে কবিতা পড়ে। পড়ে মানে কবিতার বেশ মনোযোগী পাঠক। কবিতা ভালোবাসে। কবিতা বোঝেও। ব্রাউনিং, বায়রন, টেনিসন, শেলি, কিটস নির্ভুল আওড়ায়। অঞ্জনের লিটল ম্যাগ ছাপার অনেকটা খরচই দেয় সবুজ। অনেক টাকার অ্যাড এনে দেয়। আর আড্ডায় বসে চা, সিগারেট, মাঝেমধ্যে হুইস্কি, বিয়ার। সবুজ খরচ করে জলের মতো। সেই সবুজ সম্পর্কে অমন কুকথা! তুষারদার সামনেই কথাটা আলটপকা বেরিয়ে গেছিল তখন। কথাটা বলার আগের মুহূর্তেও অঞ্জন ভাবেনি সে এমন একটা কথা দুম করে বলে ফেলতে পারে। কথাটা ওর মগজে এল কী করে, তাই ভাবছে। অঞ্জন এই কথাটার জন্মবৃত্তান্ত ঘাঁটছিল ভেতরে ভেতরে। একটা কথার জন্ম কী করে হয়? তার কার্যকারণ সম্বন্ধ নিয়ে ভাবছিল সে।
তুষারদাও অঞ্জনের এই কথাটাকে ভালোভাবে নিতে পারেননি। অঞ্জন লক্ষ্য করেছে, কথাটা শুনে তুষারদার চিবুক শক্ত হয়েছে। মানে তুষারদার নীরব নৈতিক সমর্থন পেয়েছে সবুজ।
তুষারদা অঞ্জনদের আগের প্রজন্মের কবি। কবিখ্যাতি আছে যথেষ্ট। খুব সুন্দর বাচনভঙ্গি। অঞ্জন তাই কবিতা নিয়ে প্রশ্নের পাহাড় বয়ে নিয়ে যায় তুষারদার বাড়িতে। তুমুল আলোচনা হয়। তাই রোববার আর ছুটির দিন পেলেই তুষারদার বাড়ি ছুটে যায় অঞ্জন। একা তো যায় না। সঙ্গে পুলকও যায়। কিছু দিন হল সঙ্গী হয়েছে সবুজ। সবুজকে প্রথমদিনই ভালো লেগে গেছে তুষারদার। মাঝে দু’একদিন সবুজ অ্যাবসেন্ট হলেই তুষারদা খোঁজ নিয়েছেন। বলেছেন, ‘সবুজ এল না কেন? ওকে খুব মিস করছি। জানো তো অঞ্জন, এই সবুজ ছেলেটার সঙ্গে কথা বলে সুখ আছে। ওর পড়াশোনা আছে। মোস্ট অব অল হি ইজ আ পিওর রিডার অব পোয়েট্রি। রিয়াল পোয়েট্রি লাভার।’ সবুজকে নিয়ে তুষারদার এই প্রশংসা অঞ্জনের হজম হয়নি। বরং ঈর্ষাই হয়েছে। সেই থেকে তুষারদার প্রতি শ্রদ্ধাভক্তিতেও টান পড়েছে।
অঞ্জন ধীর পায়ে উঠে বেসিনে যায়। চোখে মুখে জলের ঝাপটা দেয়। বেসিনে উবু হয়ে ছিল সে। ঘাড় তুলে আয়নায় অনুরাধাকে দেখে। মুখে তোয়ালে ঘষতে ঘষতে বলে, ‘টেবিলে রাখ, দাঁড়িয়ে আছিস কেন?’ অনুরাধা টেবিলে চা রাখে। তবু দাঁড়িয়ে থাকে। অঞ্জন অবাক হয়, ‘কীরে? কী ব্যাপার? কিছু বলবি?’
‘বলব কি না ভাবছি। মানে বলা উচিত হবে কি না?’ অঞ্জন অবাক হয়। বলে, ‘উচিত, অনুচিত পোজ্জন্ত চলে গেলি যে! কী হলটা কী?’
‘তুই ফেসবুক দেখেছিস? সবুজদাকে তুই নাকি কীসব বলে অপমান করেছিস? সে নিয়ে নাকি ফেসবুক তোলপাড় হচ্ছে?’
‘তোকে কে বলল?’
‘একটু আগে সুদেষ্ণা ফোন করেছিল। দেখ দাদা, তোর ওই হামবড়া ভাবটা তুই ছাড়।’
‘অ্যাই, জ্ঞান দিস না। যা ভাগ এখান থেকে।’ অনুরাধা চলে যায়। অঞ্জন গায়ে পাঞ্জাবি গলাতে গলাতে ভাবে, না আজ আর তাহলে সুদেষ্ণার কাছে গিয়ে কাজ নেই। দেখা হলেই জেরার মুখে পড়তে হবে। বাড়ি থেকে বেরিয়ে সোজা ঠেকে চলে আসে অঞ্জন।
পুলক বলল, ‘শোন, অঞ্জন, আমি তোকে সিরিয়াসলি বলছি, সবুজের একটা পোস্টেও তুই কোনো কমেন্ট দিবি না। বেটার, তুই দিন দুয়েক অফলাইনে থাক। তোর তো আর কারো সঙ্গে মেসেঞ্জারে চ্যাট করার ব্যাপার নেই। সুদেষ্ণার সঙ্গে যা কথা থাকে, তা ওকে পড়ানোর ফাঁকে ফাঁকে সেরে নিবি। নো ফেসবুক, নো চ্যাট। পারবি না দু’দিন নির্বাসনে কাটাতে।’ অঞ্জনের মনের কথাটাই বলল পুলক। কিন্তু ওর নির্বাসনে কাটানো কথাটা শুনে বেশ ধাক্কা খায় সে। অঞ্জন ভাবে, অনলাইনে নেই, মানে তুমি নেই। একেবারে নো হোয়ার। বিশ্বসংসারের কেউ তোমার নাগাল পাবে না। বাড়ি বয়ে এসে বন্ধুত্বের দিন তো গেছে। এখন যত বন্ধুত্ব সব ফেসবুকে, হোয়াটসঅ্যাপে আর করগুনতি ঠেকে।
দুই
তারপর দিন যায়, হপ্তা যায়, মাসও গড়িয়ে যায়। অঞ্জনের কুকথাও তলিয়ে যায়। সবুজের সঙ্গে বন্ধুত্বের কফিনে পেরেক ঠোকা হয়ে গেছে। পুলকদের সঙ্গেও ঠেকবাজি বন্ধ হয়ে গেছে। কারণ, একটা নামকরা উইকলিতে চাকরি পেয়ে গেছে অঞ্জন। অ্যাপ্লাই করার পর হবে না ধরে নিয়েই বসেছিল। কিন্তু হঠাৎই ডাক এল। চাকরিটাও হল।
নতুন চাকরি নিয়েই অঞ্জন এখন মেতে থাকে রাতদিন। কলকাতার খুব কাছের শহর থেকে দুপুরে ট্রেনে উঠে যায়। রাত করে ফেরে। তাই অঞ্জনের নিজের শহরটা এখন পর হয়ে গেছে। চাকরির সুবাদে কলকাতার কবিমহলে মেলামেশা শুরু হয়েছে তার। অফিসের পরে অঞ্জনকে কফিহাউস পেয়ে বসেছে। অফিস থেকে বেরিয়ে কফিহাউসে আড্ডা দিয়ে অনেক রাতে বাড়ি ফেরে সে। আজকাল মাঝেমধ্যেই তার পা টলে। সুদেষ্ণাদের বাড়ি পেরিয়ে আসতে হয় অঞ্জনকে। সুদেষ্ণা অন্ধকার ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে থাকে। থামের আড়াল থেকে সে অঞ্জনকে দেখে। সুদেষ্ণা দেখে, শহরতলির ছেলের গায়ে কেমন কলকাতার হাওয়া লেগেছে। পেটে বড়ো শহরের জল পড়ায় কেমন পাখনা গজিয়েছে! চাকরি পেয়ে সব টিউশন ছেড়ে দিলেও শনিবার সুদেষ্ণাকে পড়ানোটা ধরে রেখেছে অঞ্জন। কারণ, সুদেষ্ণাকে সে ভালোবাসে। সুদেষ্ণা এক শনিবার বলল, ‘তুমি আজকাল প্রায়ই বেহেড হয়ে ফিরছ।’ কথাটা শুনে দপ করে জ্বলে ওঠে অঞ্জন। বলে, ‘এখন থেকেই গোয়েন্দাগিরি শুরু করেছিস?’ সুদেষ্ণা আর কথা বাড়ায় না। তার চেনা অঞ্জনদা ক্রমশই অচেনা আর নতুন হয়ে উঠছে রোজ। শনি, রবি অঞ্জনের অফিস ছুটি থাকে। তবু প্রায়ই সে শনিবার সুদেষ্ণাদের বাড়ি যায় না। টিউশন কামাই করে। কলকাতার নতুন বন্ধুদের টানে নন্দন চত্বরে গিয়ে ঠেকবাজি করে। সুদেষ্ণা ফোন করলে বলে, ‘কুয়োর ব্যাঙ হয়ে থাকতে পারব না। নাও মাই ওয়ার্ল্ড হ্যাজ বিকাম টু বিগার দ্যান বিফোর মাই ডিয়ার। পরের শনিবার দেখা হবে।’ রাতে সুদেষ্ণা অন্ধকার ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে তার অঞ্জনদার বাড়ি ফেরা দেখে। দেখে গোপনে। অনেকটা ঠিক গোয়েন্দাদের মতো করেই।
অঞ্জন রাত করে ফেরে। শুতে রাত হয়। তাই অঞ্জনের সকালও হয় অনেক দেরি করে। কিন্তু সাতসকালে অঞ্জনকে ডেকে তুলতেই হল। তুষারদা এসে হাজির। অনুরাধা জানে, তার দাদা তুষারদার ভক্ত। তাই ডেকে দিল অঞ্জনকে। বলল, ‘দাদা, শিগগির ওঠ, তোর তুষারদা এসেছেন।’ ঘুমের ঘোরে চমকে ওঠে অঞ্জন। বলে, ‘তুষারদা! এত সকালে! ওপরে নিয়ে এসে বসা। আমি চোখে মুখে জল দিয়ে নিচ্ছি।’
অঞ্জন ভাবে, প্রায় মাস তিনেক হয়ে গেল তুষারদার বাড়ি যাওয়া হয়নি। মানে যাওয়ার ইচ্ছেটাও ফুরিয়ে গেছে। ওর চাকরি পাওয়ার খবরটাও দেওয়া হয়নি। অথচ, গতকালই অঞ্জন জেনেছে, ওর এই দামি চাকরিটা তুষারদারই জোরালো সুপারিশে হয়েছে। আর আজ সকালেই তুষারদা এসে হাজির। লজ্জায় ক্রমশ গুটিয়ে যাচ্ছিল অঞ্জন। মনে মনে নিজেকে ধিক্কার দিচ্ছিল। ছিঃ ছিঃ ভারী অন্যায় হয়ে গেছে। অথচ চাকরিটা পাওয়ার পরে অঞ্জনের অহংকারী মন বলেছে, ছোট্ট শহর। লোকমুখেই তুষারদা শুনুক, জানুক। জানুক যে কবিতাপাগল বেকার বাউণ্ডুলে বলে যাকে তিনি জানেন, সেই অঞ্জনকে লুফে নিয়েছে একটা প্রেস্টিজিয়াস উইকলি।
সুদেষ্ণা সেদিনও অঞ্জনকে বলেছে, ‘তুষারদাকে কিন্তু তোমার চাকরির খবরটা দিতে পারতে।’ শুনে অঞ্জন বলেছে, ‘ধুর, এই শহরটা এখন আমার কাছে পরিত্যক্ত। আই মিন টু সে জাস্ট অ্যাবানডান্ট। পুরনো লোকজন, রিলেশনস সব ব্যাকআপে রেখে নতুন ফাইল ওপেন করেছি আমি।’
‘শিকড় ভুলতে নেই। তুমিই তো বলতে! আশ্চর্য! এখন সেই তোমারই মুখে শিকড় উপড়ে ফেলার কথা? কথাগুলো কিন্তু ভালো শোনাচ্ছে না অঞ্জনদা। তুমি কিছু মনে কোরো না। তোমার ওই দেমাকের চাকরিটা কিন্তু তোমাকে অনেক বদলে দিয়েছে।’
অঞ্জন তখনই অঞ্জলি ভরে জল নিয়ে বেসিনের আয়নায় ছিটিয়ে দেয়। জলের ধাক্কায় সুদেষ্ণার ছবিটা আয়না থেকে মিলিয়ে যায়। অঞ্জন তাতে যেন তাৎক্ষণিক মুক্তি পায়।
বাথরুম থেকে বেরিয়ে তুষারদার মুখোমুখি হল অঞ্জন। অনুরাধাই তুষারদাকে ওপরের ঘরে এনে বসিয়েছে। তুষারদা বললেন, ‘মর্নিং ওয়াকে বেরিয়েছিলাম, ভাবলাম, তোমার খবরটা একটু নিয়ে যাই। তুমি তো যাওয়া ছেড়েই দিয়েছ। তোমার চাকরি পাওয়ার খবরটা অন্তত দিতে পারতে।’ এতে অঞ্জন আরও লজ্জা পেয়ে যায়। সে বলে, ‘আপনার কাছে আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। আমি জেনেছি আপনার জোরালো সুপারিশেই আমার চাকরিটা হয়েছে। কিন্তু আমি আপনার কাছে যাইনি, আমার এই অপরাধের কোনো
ক্ষমা নেই।’
‘না, না ওভাবে বোলো না। সুপারিশ টুপারিশ কিছু নয়। তুমি গুণী, যোগ্য ছেলে। আমি শুধু সেইটুকুই বলেছি। আসলে রবিবারগুলোতে তোমাকে খুব মিস করি।’
সত্যিই তুষারদার বাড়িতে রোববার সকালে আড্ডা না দিলে দুপুরের ভাত হজম হত না অঞ্জনের। তুষারদার বাড়িতে সুন্দর আড্ডার পরিবেশ। সুন্দরী চটপটে, হাশিখুশি বউদির মিষ্টি আপ্যায়ন। দফায় দফায় চা। বিরক্তি নেই। তারপর তুষারদার সুন্দর করে কবিতা বোঝানো, রীতিমতো লোভনীয়। কিন্তু, বিদ্রোহ শুরু করে তুষারদার পোষ্য অ্যালশিসিয়ান লুসি। প্রথম প্রথম তো ঠিকই ছিল। ক’দিন পর থেকে শুরু হল উৎপাত। সবুজকে দেখলেই লুসি বাড়িতে ডাকাত পড়ার মতো চিৎকার শুরু করে। তুষারদার শাসনে লুসি দমে যায় বটে, কিন্তু তুষারদার পায়ের কাছে বসে গোঁ গোঁ করতে থাকে। আলোচনায় চনা পড়ে যায়।
অনুরাধা চা নিয়ে আসে। চায়ে চুমুক দেন তুষারদা। অঞ্জন বলে, ‘কাল আপনি নিশ্চয়ই অনেক রাত পর্যন্ত লিখেছেন। আপনাকে কিন্তু খুব ক্লান্ত দেখাচ্ছে। শরীর ঠিক আছে তো?’ তুষারদা চায়ের কাপ নামিয়ে রাখেন। দু’হাতে চশমাটাকে চোখ থেকে নামিয়ে আনেন। রুমাল দিয়ে চশমার কাচ ঘষতে ঘষতে বলেন, ‘তুমি সেদিন ঠিকই বলেছিলে অঞ্জন, কুকুর ক্রিমিনাল চেনে। কাল রাতে সবুজের সঙ্গে তোমার বউদি চলে গেছে। কোথায় গেছে, তুমি কি কিছু জানো?’