


নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: কোটি কোটি টাকা নয়ছয় ও রাজ্যের উচ্চশিক্ষা দপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই দেদার খরচের অভিযোগ। এনিয়ে এবার (কম্পট্রলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল) ক্যাগ তদন্তের মুখে গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়। একইসঙ্গে রাজ্যের উচ্চশিক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকেও শীঘ্রই এনিয়ে তদন্তে একটি টিম আসার কথা।
অভিযোগ, উচ্চশিক্ষা দপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বহু নন টিচিং স্টাফ নিয়োগ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিল থেকে প্রতিমাসে বেতন দেওয়া হচ্ছে তাঁদের। এছাড়া রাষ্ট্রীয় উচ্চতর শিক্ষা অভিযানে (রুসা) আসা ২০ কোটি টাকার মধ্যে বেশিরভাগটাই যে খাতে খরচ করার কথা, তা হয়নি। যেটুকু কাজ হয়েছে, তাতেও নিয়ম মানা হয়নি বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের উচ্চশিক্ষা দপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই বিভিন্ন কাজের নামে নিজস্ব তহবিলের অর্থ দেদার খরচ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। রাজ্যে পালাবদলের পর এসব নিয়েই এখন তদন্তের মুখে পড়তে চলেছে গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বিভিন্ন বিষয়ে তদন্তের জন্য ইতিমধ্যেই যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি এসেছে, শুক্রবার তা স্বীকার করে নিয়েছেন উপাচার্য আশিস ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, রাজ্যের উচ্চশিক্ষা দপ্তর থেকে তদন্ত কমিটি বিভিন্ন বিষয়ে খতিয়ে দেখতে আসবে। এনিয়ে চিঠি পেয়েছি আমরা। সেইসঙ্গে ক্যাগ তদন্ত হবে। তারও চিঠি এসেছে। এনিয়ে তাঁর মন্তব্য, আমার সময়কালে যা কাজ হয়েছে, তার জন্য আমি নিঃসন্দেহে দায়বদ্ধ। কিন্তু যে প্রকল্পের টাকা আমার সময়ে আসেনি কিংবা আমার সময়ে খরচ হয়নি, সে ব্যাপারে আমি তো কিছু বলতে পারব না। তদন্ত কমিটি এলে যা কাগজপত্র আছে, তাদের হাতে তা তুলে দেওয়া হবে।
উপাচার্যের এমন মন্তব্য ঘিরে অবশ্য জল্পনা ছড়িয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অধ্যাপক বলেন, ঘাস কাটা থেকে ওয়াইফাই বসানো, সবেতেই বিভিন্ন সময়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে। কখনও লাইব্রেরির পরিকাঠামো বৃদ্ধির নামে টাকা এলেও খরচ হয়েছে অন্য খাতে। কখনও আবার বিল্ডিং নির্মাণে বরাদ্দ মিললেও সেই টাকা কোথায় খরচ হয়েছে, তার প্রকৃত হিসাব পাওয়া মুশকিল। রাজ্যে পালাবদলের পর এনিয়ে উচ্চশিক্ষা দপ্তর থেকে ইতিমধ্যেই একাধিক চিঠি এসেছে। ওইসব চিঠিতে বিভিন্ন বিষয়ে জানতে চাওয়া হচ্ছে।