


সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে টানা বৃষ্টি এবং পূর্ণিমার ভরা কোটালের কারণে বৃদ্ধি পেয়েছে নদী ও সমুদ্রের জলস্তর। উত্তাল হয়ে উঠেছে সমুদ্র। এই পরিস্থিতিতে আবারও ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে পাথরপ্রতিমার গোবর্ধনপুর এলাকায়। জলের তলায় চলে গিয়েছে বহু ঘরবাড়ি, পুকুর ও গাছপালা। বর্তমানে প্রায় ২৫টি পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। তাদের সরিয়ে নিয়ে গিয়ে স্থানীয় রামকৃষ্ণ মিশন ফ্লাড শেল্টারে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে রান্না করা খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থাও হয়েছে। রবিবার ওই এলাকা পরিদর্শনে গিয়েছিলেন পাথরপ্রতিমার বিডিও কৃষ্ণেন্দু ঘড়া। এদিন তিনি প্রথমে ভেঙে যাওয়া নদীবাঁধ পরিদর্শন করেন। পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন।
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে উত্তাল ঢেউয়ে গোবর্ধনপুরের দক্ষিণ অংশ নোনা জলে প্লাবিত হয়েছে। এছাড়াও জি-প্লট গ্রাম পঞ্চায়েতের কৃষ্ণদাসপুরের চালতাবুনিয়া নদী, দক্ষিণ সুরেন্দ্রগঞ্জের ১২ নম্বর ঘাটে জগদ্দল নদী ও সীতারামপুরের লঞ্চঘাট সংলগ্ন এলাকার বাঁধ খুবই বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে।
এ বিষয়ে পাথরপ্রতিমার বিজেপি পাঁচ নম্বর মণ্ডল সভাপতি প্রদীপকুমার দাস বলেন, ‘নোনা জলে প্লাবিত এলাকার বাসিন্দাদের সরিয়ে এনে নিরাপদ স্থানে রাখা হয়েছে। রান্না করে প্রতিদিন তাঁদের তিনবার খাবার দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের নিরাপদ স্থানেই রাখা হবে।’ জি প্লট গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান বর্ণালী ভুঁইয়া বলেন, ‘গোবর্ধনপুরের দক্ষিণ অংশে নোনা জল ঢুকে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে গিয়েছে। পঞ্চায়েতের বেশ কয়েকটি নদীবাঁধ বিপজ্জনক ব্যবস্থা রয়েছে। বিষয়টি ব্লক প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।’ ব্লক প্রশাসন জানিয়েছে, গোবর্ধনপুরসহ পাথরপ্রতিমা ব্লকের প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতের ক্ষতিগ্রস্ত নদীবাঁধগুলির উপর নজর রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে শীঘ্রই ওই বাঁধগুলি মেরামতের কাজে হাত দেওয়া হবে। নিজস্ব চিত্র