


নিজস্ব প্রতিনিধি, চন্দ্রকোনা রোড: অনুকূল আবহাওয়ার জন্য পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় আলুর ব্যাপক ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জেলায় প্রায় ৬০ লক্ষ আলুর বস্তা বাড়তি উৎপাদন হতে পারে বলে অনুমান ব্যসায়ীদের। তবে উৎপাদন বাড়লেও বাজারে আলুর দাম তলানিতে নেমে যাওয়ায় মাথায় হাত চাষিদের। যা নিয়ে উদ্বিগ্ন প্রশাসনও। তবে মঙ্গলবার থেকে পরিস্থিতি সামলাতে রাজ্য সুফল বাংলার মাধ্যমে চাষিদের থেকে সরাসরি ৯৫০ টাকা প্রতি কুইন্টাল আলু কেনা শুরু করায় খানিক স্বস্তিতে চাষিরা।
এদিন চন্দ্রকোণা রোড সংলগ্ন বিভিন্ন হিমঘরের সামনে আলুর গাড়ির লম্বা লাইন দেখা গিয়েছে। চাষিরা জানান, প্রতি প্যাকেট বা বস্তায় ৫০ কেজি আলু থাকে। এই এক বস্তা আলু ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। যেখানে গত বছর প্রতি বস্তা আলু প্রায় চারশো টাকায় বিক্রি হয়েছে। এবার ভিনরাজ্যেও উৎপাদন হওয়ায় আলুর চাহিদা নেমেছে তলানিতে।
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা আলু ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক বরুণ পণ্ডিত বলেন, রাজ্য ৯৫০ টাকা প্রতি কুইন্ট্যাল আলু কেনার কথা বলেছে। এর জন্য মেদিনীপুর আলু ব্যবসায়ী সমিতির তরফে রাজ্য সরকারকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। অনুরোধ, অতি দ্রুততার সঙ্গে আলু কেনার পরিকাঠামো যাতে তৈরি হয়। চাষিদের স্বার্থেই বলছি, রুগী মারা যাওয়ার পর যেন ডাক্তার না আসেন।
চন্দ্রকোণা রোড এলাকায় আলু চাষি সুদেব মণ্ডল বলেন, উৎপাদন ভালোই হয়েছে এবার। কিন্তু বাজারে আলুর দাম একদম কম। বাজার থেকে ঋণ নিয়ে চাষ করেছি। খুবই দুশ্চিন্তার মধ্যে আছি।
প্রশাসন সূত্রে খবর, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় গত বছর প্রায় ৭২ হাজার ৪৬৫ হেক্টর জমিতে আলুর চাষ হয়। উৎপাদন হয়েছিল সাড়ে তিন কোটি প্যাকেট আলু। এবছর প্রায় এক হাজার হেক্টর বেশি জমিতে আলুর চাষ হয়েছে। এর ফলে অনুমান, গত বছরের তুলনায় ৬০ লক্ষ প্যাকেট আলুর উৎপাদন বেশি হবে। প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য শশাঙ্কশেখর মাল বলেন, চাষি ও ব্যবসায়ীরা খুবই সমস্যার মধ্যে রয়েছেন। ভিন রাজ্যেও এবার চাহিদা কম। জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ আশিস হুদাইত বলেন, রাজ্য সরকার আলু কিনতে শুরু করেছে। চাষিদের পাশে প্রশাসন সর্বদা থাকবে। নিজস্ব চিত্র