


নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: দক্ষিণ দমদম পুরসভার ভূতুড়ে অটো বিল বিতর্ক দেখা দিয়েছিল। পুকুর চুরি রুখতে পুরসভা সিদ্ধান্ত হয়েছিল, ছুটির দিনে অটো চললে আগাম অনুমতি দরকার এবং প্রতিদিন নয় ঘণ্টার বেশি অটো চলবে না। এর মধ্যেই পুরসভার গাড়ি ব্যবহার করে প্রায়শই বোলপুর যাতায়াত করা নিয়ে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে। এক পদস্থ আধিকারিক ব্যক্তিগত প্রয়োজনে সরকারি গাড়ি নিয়ে এভাবে বেহিসেবি যাতায়াত করেছেন বলে অভিযোগ। তাই নিয়ে পুরসভার বোর্ড মিটিং সরগরম হয়েছে। ওই বিল এখনও ছাড়া হয়নি। যদিও বিষয়টি নিয়ে পুরসভার কর্তাব্যক্তি থেকে অন্যরা সকলেই মুখে কুলুপ এঁটেছেন।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ দমদম পুরসভার গাড়ি ব্যবহার, তেলের খরচ নিয়ে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। শুধুমাত্র অটো ভাড়া বাবদ পুরসভার বাৎসরিক খরচ প্রায় ৭০ লক্ষ টাকা। এনিয়ে বিতর্ক শুরু হওয়ায় গাড়ির তেলের বিল নিয়ে কিছুটা হলেও নাড়াচাড়া শুরু হয়েছে। এই আবহে পুরসভার এক পদস্থ আধিকারিকের বিপুল তেলের বিল নিয়ে হইচই শুরু হয়। ওই আধিকারিক পুরসভার গাড়ি নিয়ে নিয়মিত বোলপুর যাতায়াত করেছেন বলে অভিযোগ। সম্প্রতি এক বোর্ড মিটিংয়ে এনিয়ে কাউন্সিলাররা সরব হন। ওই বৈঠক থেকে আধিকারিকরা বেরিয়ে যাওয়ার পর কে কত তেল ব্যবহার করছেন, তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ হয়। কেন আধিকারিকরা এভাবে বেলাগাম খরচ করছেন, তা নিয়ে সকলেই প্রশ্ন তোলেন। পুরসভার এক কাউন্সিলার চেয়ারম্যানকে চিঠিও দিয়ে বলেছেন, শহরের কোনও নাগরিক ভাড়া করে শববাহী গাড়ি বা অ্যাম্বুলেন্স এলাকার বাইরে দূরে কোথাও নিয়ে যেতে চাইলে, তাঁদের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু পুরসভার কিছু মুষ্টিমেয় উচ্চপদস্থ কর্তা ব্যক্তিগত কাজে সরকারি অর্থ খরচ করে গাড়ি নিয়ে দূরদূরান্তে চলে যাচ্ছেন। তাঁরা কার অনুমতি নিচ্ছেন? একই পুরসভায় দুই রকম নিয়ম কেন চালু রাখা হয়েছে? কেবলমাত্র আমাদের পুরসভাতেই উচ্চপদস্থ ব্যক্তি ও আধিকারিকরা নিজ স্বার্থে পুরসভার গাড়ি ব্যবহার করছেন। এভাবে সরকারি অর্থের নয়ছয় বন্ধ করা প্রয়োজন।
পুরসভা সূত্রের খবর, এনিয়ে বিতর্ক শুরু হওয়ায় ওই আধিকারিকের এপ্রিল মাসের গাড়ির তেলের বিল ‘হোল্ড’ রাখা হয়েছে। যদিও পুরসভায় বড় বড় পুকুর চুরির নানান উপাদান আধিকারিকদের হাতে রয়েছে। শেষপর্যন্ত পুরসভার কর্তাব্যক্তিরা আধিকারিকদের ঘাঁটানোর সাহস দেখাবেন কি না, সেটাই লাখ টাকার প্রশ্ন। কারণ, চলতি অর্থবর্ষে পুরসভায় পেট্রল, ডিজেল ও মোবিল খাতে সম্ভাব্য খরচ ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৩১ লক্ষ টাকা। আর গাড়ি সারাই খাতে তা ধরা হয়েছে ২ কোটি ৯০ লক্ষ। আর অটো ভাড়া তো আছেই ৭০ লক্ষ। এই বিষয়ে মতামতের জন্য পুরসভার চেয়ারম্যান কস্তুরী চৌধুরী ও ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই দত্তকে ফোন ও মেসেজ করা হলেও তাঁরা উত্তর দেননি।