


সমৃদ্ধ দত্ত, নয়াদিল্লি: আগামী বছর সাত রাজ্যে বিধানসভা ভোট। জেন জি ক্ষোভ তো ছিলই, তার সঙ্গে জুড়েছে বিজেপির নিজস্ব ভোটব্যাংক বাণিজ্যমহল। কারণ, ইউপিআই পেমেন্টের ক্ষেত্রে নতুন করে ব্যবসায়ীদের উপর মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (এমডিআর) বলবৎ হওয়া এবং সেই অতিরিক্ত মাশুলে ১৮ শতাংশ জিএসটি চাপানো। এই কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রবল আকার নিয়েছে। তাই বাণিজ্য মহলকে তুষ্ট করতে মরিয়া মোদি সরকার এবার হাঁটছে ওই মাশুলের উপর চাপানো জিএসটি মকুবের পথে। কয়েকটি বণিকসভার পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে এই আবেদন গিয়েছে কেন্দ্রের দরবারে। কিন্তু মাঝের ফাঁকটা হল, আনুষ্ঠানিকভাবে জিএসটি বলবৎ অথবা মকুবের প্রত্যক্ষ ক্ষমতা কেন্দ্রের নয়, জিএসটি কাউন্সিলের।
পরবর্তী জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠক ৭ অক্টোবর। আর তাই সেখানেই অর্থমন্ত্রক এই মর্মে প্রস্তাব আনতে চলেছে। লক্ষ্য হল, সার্বিক আলোচনার পর সহমতের ভিত্তিতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য এমডিআরের উপর ধার্য জিএসটি মকুব হয়ে যায়। অর্থমন্ত্রক চাইছে, যে ব্যবসায়ীদের পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে বার্ষিক ব্যবসার পরিমাণ ৪০ লক্ষ টাকা এবং যাঁদের পরিষেবাগত বাণিজ্যে বছরের টার্নওভার ২০ লক্ষ, তাদের যাতে এই জিএসটি দিতে না হয়। কারণ হিসাবে বলা হচ্ছে, এই গোত্রের ব্যবসায়ীরা সাধারণত জিএসটি রেজিস্টারভুক্ত হন না। এই শ্রেণির ব্যবসায়ীরা সরকারের থেকে ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট দাবি করতে পারেন না। সেই সুবিধা শুধু বড়ো ব্যবসায়ীদের। তাঁরা কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি, অফিসের ভাড়া, উৎপাদন উপকরণ ইত্যাদি কেনার সময় জিএসটি দেন। আবার তার থেকে উৎপাদিত পণ্য ও পরিষেবা বিক্রির সময় নির্দিষ্ট জিএসটি আদায় করে। সংগৃহীত জিএসটি এবং জমা করা জিএসটির অঙ্ক বিয়োগ করে যা পাওয়া যায়, সেটাই ‘নেট জিএসটি’ হিসাবে সরকারের ঘরে জমা পড়ে। অর্থাৎ এভাবে বড়ো ব্যবসায়ীদের বোঝা কিছুটা হালকা হয়। জিএসটির এই সুবিধা কিন্তু ক্ষুদ্র ব্যসায়ীদের নেই। তাঁরা ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট পর্যন্ত জমা করতে পারেন না। অথচ, ইউপিআইয়ের এমডিআরের উপর ১৮ শতাংশ জিএসটি ধার্য হলে, তার থেকে ছাড় পাবেন না তাঁরা।
ঠিক এই কারণেই তাঁরা ক্ষুব্ধ। সেই ক্ষোভ সামাল দিতেই আসরে নেমেছে কেন্দ্র। প্রস্তাব আসছে, বার্ষিক ২০ লক্ষ টাকা (পরিষেবা ব্যবসা) এবং ৪০ লক্ষ টাকার (পণ্য ব্যবসা) কম টার্নওভার থাকা ব্যবসায়ীদের ওই জিএসটি দিতে হবে না। যতটা সহজ এই প্রস্তাব, বাস্তবায়ন ততটা সহজ নয়। কারণ, এর জন্য একটি পৃথক জিএসটি হিসাব প্রক্রিয়া ও মেকানিজম তৈরি করতে হবে। যদিও কেন্দ্রের মতোই মঙ্গলবার ন্যাশনাল পেমেন্ট কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া দাবি করেছে, ৯৬ শতাংশ ইউপিআই লেনদেনে কোনো এমডিআর বলবৎ হবে না। কারণ, ২ হাজার টাকার উপরে লেনদেন হলেই একমাত্র এমডিআর বলবৎ হবে। যদিও প্রশ্ন উঠছে, রেস্তরাঁ, মাসকাবারী মুদি বাজার কিংবা ভোগ্যপণ্য ক্রয়-বিক্রয় হামেশাই ২ হাজার টাকা ছাড়িয়ে যায় নিত্যদিনের লেনদেনে। সেই বোঝার হিসাব কে করবে?