


বিশেষ সংবাদদাতা, শ্রীনগর: রাতভর বৃষ্টিতে ভিজেছে পাইন বন। সেখানেই নিঃশব্দে কিছু একটা খুঁজে বেড়াচ্ছেন বছর আঠাশের শাহিদ আহমেদ। স্যাঁতসেঁতে মাটির দিকে তাঁর দৃষ্টি স্থির। কিছুক্ষণের মধ্যেই ভেজা মাটি থেকে কী একটা হাতে তুলে নিলেন। মন দিয়ে পরখ করে নিশ্চিন্ত হলেন।
বর্ষাকালে কাশ্মীরের বিভিন্ন গ্রামে এই দৃশ্য একেবারেই স্বাভাবিক। যে বিশেষ জিনিসের খোঁজ চলে, তা হল মাশরুম। স্থানীয় ভাষায় নাম—গুচি। স্বতন্ত্র স্বাদ ও ঔষধিগুণের জন্য বিশ্বের অন্যতম দামি মাশরুম হিসাবে পরিচিত এই গুচি। উপত্যকাতেই এই মাশরুম মূলত দেখা যায়। কারণ তুষারপাতের পর বৃষ্টি হলেই প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে এটি জন্মায়। বছরের এই সময়টা প্রায়শই তুষারপাতের পর বৃষ্টি দেখা যায়। ফলে বহু গ্রামীণ পরিবারের জন্য এটি লাভজনক মৌসুমি আয়ের উৎস হয়ে উঠেছে। যদিও কাশ্মীরে এই গুচি মাশরুম খোঁজার ঐতিহ্য বহু পুরানো। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা কমে গিয়েছিল। এখন বাজারে চাহিদা ও দামের কারণে মাশরুম খোঁজার প্রথা পুনরায় ফিরেছে। বছরের পর বছর ধরে গ্রামবাসীরা এমন দক্ষতা অর্জন করেছেন যে, বৃষ্টি হলেই জঙ্গলে গিয়ে প্রায়ই ব্যাগভর্তি গুচি নিয়ে ফিরছেন।
স্থানীয় দোকানি আখতার মোহাম্মদ দার বলেন, ‘স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা থাকায় মানুষ এখন বেশি করে গুচি খুঁজছে। দিনে ১০–১৫টি গুচি বিক্রি করে ৭০০–৮০০ টাকা উপার্জন হতে পারে।’ গ্রামবাসীদের মতে, খ্যাতনামা শেফদের টেলিভিশন অনুষ্ঠান ও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারের জেরে দেশ-বিদেশের খাদ্যরসিকদের কাছে গুচির জনপ্রিয়তা বেড়েছে। বিভিন্ন ই-কমার্স সাইটেও এটি ‘হট সেলিং’ তালিকায় স্থান পেয়েছে। তাই কাশ্মীরের বাসিন্দাদেরও বাড়তি উপার্জন হচ্ছে।