


চণ্ডীগড়: ধাক্কা খেল সিবিআই। সাংবাদিক খুনের মামলায় ‘স্বঘোষিত’ ধর্মগুরু তথা ডেরা সাচা সৌদার প্রধান গুরমিত রাম রহিম সিংকে বেকসুর খালাস ঘোষণা করল পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্ট। ২০১৯ সালে এই মামলায় পঞ্চকুলার বিশেষ সিবিআই আদালত রাম রহিমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিল। কিন্তু এদিন হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি শীল নাগু ও বিচারপতি বিক্রম আগরওয়ালের ডিভিশন বেঞ্চ সেই নির্দেশ খারিজ করে দিয়েছে। তবে এই মামলায় বাকি তিন দোষী সাব্যস্তর শাস্তি বহাল রেখেছে ডিভিশন বেঞ্চ। দুই শিষ্যাকে ধর্ষণের দায়ে বর্তমানে রোহতকের জেলে রামরহিম ২০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। তাই তাঁর জেলমুক্তি হচ্ছে না।
২০১৭ সালে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর ১৫ বার প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন রাম রহিম। যা নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার মুখে পড়েছে হরিয়ানার বিজেপি সরকার। এর আগে ডেরা সাচা সৌদার প্রাক্তন ম্যানেজারকে খুনের মামলা থেকেও খালাস পেয়েছিলেন ওই ধর্মগুরু। এবার সাংবাদিক হত্যা মামলাতেও রেহাই মিলল।
২০০২ সালের অক্টোবরে হরিয়ানার সিরসায় বাড়ির সামনে গুলিবিদ্ধ হন সাংবাদিক রামচন্দ্র ছত্রপতি। তিনি ‘পুরা সচ’ নামে একটি সংবাদপত্র চালাতেন। ডেরা সাচা সৌদার প্রধান কার্যালয়ে কীভাবে মহিলা ভক্তদের যৌন হেনস্তা করা হয়, তা নিয়ে ওই সংবাদপত্রে একটি বেনামি চিঠি প্রকাশিত হয়। রামচন্দ্র নিজেই ওই চিঠি লিখেছিলেন মনে করা হয়। গুলিবিদ্ধ হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর মারা যান ওই সাংবাদিক। প্রথমে পুলিশ এই খুনের তদন্ত চালালেও ২০০৬ সালে ওই মামলার তদন্তভার হাতে নেয় সিবিআই। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা তদন্তের পর জানায়, রাম রহিমই সাংবাদিক খুনের মূল ষড়যন্ত্রকারী। হাইকোর্টের রায়কে ‘হতাশাজনক’ আখ্যা দিয়েছেন নিহত সাংবাদিকের ছেলে অনশুল ছত্রপতি। এই রায়কে তাঁর পরিবারের জন্য বড়ো ধাক্কা বলে জানিয়েছেন তিনি। অনশুল জানিয়েছেন, তাঁরা এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হবেন। সিবিআইও একই পদক্ষেপ করবে বলে আশাবাদী তিনি।