


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: দেশজুড়ে ভোটচুরি এবং বৈধ ভোটার বাতিলের প্রতিবাদে ক্ষোভ এবং দাবি ক্রমেই তীব্র আকার নিচ্ছে। শুধু জ্ঞানেশ কুমার নন। এবার সরাসরি টার্গেট নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহ। তাঁদেরও ইস্তফা চাই। এই মর্মে প্রস্তাব গ্রহণ করল কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি। আবার জ্ঞানেশ কুমারের গ্রেপ্তারির দাবির পাশাপাশি মোদি সরকারের প্রাক্তন মন্ত্রী এবং প্রাক্তন স্বরাষ্ট্র সচিব রাজ কুমার সিং ডাক দিয়েছেন, এই মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বেই যদি ভোট প্রক্রিয়া হয়, তাহলে অবিলম্বে সব ভোট বয়কট করুক বিরোধীরা। নজর করার মতো বিষয় হল, ঠিক এই দাবিই সবার আগে তুলেছিল ককরোচ জনতা পার্টি। তারা জানিয়েছিল, ভোট বয়কট করে সিস্টেম বদলের দাবিতে রাস্তায় নামতে হবে। ২ অক্টোবর ককরোচের দ্বিতীয় আন্দোলন অভিযান শুরু হচ্ছে মুম্বইয়ে। প্রথম আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা। আর এবার ককরোচের দাবি, জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ। দেশজুড়ে দাবি উঠেছে এসআইআর বাতিল হোক। এসআইআরে বাদ যাওয়া মোট ১৩ কোটি ৩০ লক্ষ ভোটারের নাম ফেরাতে হবে। আদতে একজনও অনুপ্রবেশকারীর ক্ষতি হয়নি। তারা নিশ্চিন্তে আছে। অথচ ভারতীয় নাগরিকদেরই বেনাগরিক করে দেওয়ার চক্রান্ত করেছে মোদি সরকার ও জ্ঞানেশ কুমার।
আর কে সিং, কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি, কিংবা ককরোচ জনতা পার্টি, সকলের এক দাবি—জ্ঞানেশের গ্রেপ্তারি। মোদির ইস্তফা। আর এসআইআর বাতিল। কংগ্রেস মঙ্গলবার নিয়েছে শপথ, এ হল দ্বিতীয় স্বাধীনতার আন্দোলন। বৈধ নাগরিককে পরাধীন করে ফেলছে মোদি সরকার। স্বাধীন দেশে উদ্বাস্তু হবে তারা। আর কে সিং দেশবাসীর উদ্দেশে খোলা চিঠি দিয়েছেন। তাঁর দাবি, জ্ঞানেশ কুমারকে গ্রেপ্তার করতে হবে। তাঁর জায়গায় নতুন কোনো কমিশনারকে মনোনীতি করতে হবে। সেটাও পুরানো প্রক্রিয়ায়। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী, লোকসভার বিরোধী দলনেতা এবং সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি একসঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নেবেন। উল্লেখ্য, এই ব্যবস্থা বাতিল করেছে মোদি সরকার। আইন সংশোধন করে এমন ব্যবস্থা পাশ করিয়ে নিয়েছে, যেখানে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকেই মনোনয়ন পদ্ধতিতে রাখা হয়নি। এখন নিয়ম হয়েছে প্রধানমন্ত্রী, লোকসভার বিরোধী নলনেতা এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার এক মন্ত্রী। সোজা কথায় যেহেতু তিনজনের মধ্যে দু’জনই সরকারপক্ষ, অতএব নিজের পছন্দের নিয়োগ হবে অনায়াসে। রাজকুমার সিং আরও দাবি করেছেন, এসআইআর তালিকা এখনই বাতিল করা হোক। সেইসঙ্গে এই এসআইআর প্রক্রিয়ার পর যেসব রাজ্যে ভোট হয়েছে, সেই সব ভোট বাতিল করে পুনরায় নির্বাচন করতে হবে। তাঁর প্রস্তাব, ‘একমাত্র এইসব দাবি মানা হলেই বিরোধীদের উচিত কোনো ভোটে অংশ নেওয়া। নচেৎ নয়।’ তিনি সুপ্রিম কোর্টের দিকেও আঙুল তুলেছেন। বলেছেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট বহু অভিযোগ ও প্রমাণ সত্ত্বেও এসআইআর হতে দিয়েছে। সুতরাং সর্বোচ্চ আদালতকেও দায় নিতে হবে।’ একটি-দু’টি নয়, প্রাক্তন স্বরাষ্ট্র সচিব রাজ কুমার সিং মনে করেন, একের পর এক আইন ভেঙেছেন জ্ঞানেশ কুমার। তাই তিনি বলেছেন, ‘বিরোধীরা নাকি ইমপিচমেন্ট মোশন আনবে! কীসের মোশন? এই মোশন দিয়ে জ্ঞানেশ কুমারকে সরানো যাবে না। কারণ বিরোধীদের কাছে সংখ্যাই নেই সংসদে। সোজা এফআইআর করুন। জ্ঞানেশ কুমারকে গ্রেপ্তার করতে হবে। বাংলায় ১৬ লক্ষ ভোটারকে ইআরও বৈধ বলে বিবেচনা করেছিলেন। কিন্তু কমিশন তাদের অন্তর্ভুক্ত করেনি। কেন? কারণ কমিশন তাদের বিরুদ্ধে আবেদন করেছিল। কে করেছিল? জ্ঞানেশ কুমার একা?’ তাঁর কথায়, জেন-জি বিজেপিকে আর কোনোদিন ভোট দেবে না। তাই এখন ফর্ম-৬’এর মাধ্যমে জেন-জিকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে দেওয়া হচ্ছে না। নানারকম অবাস্তব শর্ত আরোপ করা হয়েছে। ১৮ বছরের নাগরিককে বলা হচ্ছে, ২০০৩ সালে পিতামাতার ভোটার তালিকায় নাম আছে কি না দেখাতে হবে। কেন? সে ১৮ বছর বয়সি নাগরিক। তার কাছে সব বৈধ কাগজপত্র আছে। এতকাল সব সরকার আরও বেশি করে ভোটারকে যুক্ত করত। অথচ এই সরকার ভোটারদের বেশি করে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করছে।
কংগ্রেস সহ বিরোধীদের তোপ, নিয়ম করে নতুন বৈধ ভোটারদের যুক্ত করার প্রক্রিয়া হল গণতন্ত্রকে মজবুত করা। মোদি সরকারের লক্ষ্য ঠিক বিপরীত—বৈধ ভোটারকে বাদ দেওয়া। নরেন্দ্র মোদি গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে! প্রথম পদক্ষেপ, নাম বাতিল। পরবর্তী—গণতন্ত্র বাতিল!