


সংবাদদাতা, হলদিয়া: গত মঙ্গলবার ভোররাতে হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের পাইপলাইনে প্রবল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। যেখান থেকে ছড়িয়ে পড়ে আগুন। আজ, বৃহস্পতিবার বিধ্বস্ত এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি সরজমিনে খতিয়ে দেখলেন বিশেষ তদন্ত কমিটির (সিট) আধিকারিকরা।
পেট্রকেমের সাউথ গেটের পাশে শিল্পপ্রবেশ এলাকা। মাত্র কয়েক মিনিটের আগুনে এখানকার প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা কার্যত ছারখার হয়ে গিয়েছে। বিপর্যয়ের ২৪ ঘণ্টা পরেও সেখানে ছড়িয়ে রয়েছে তার ভয়াবহ চিহ্ন। এদিন গোটা এলাকা ঘুরে দেখেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা। এই কমিটিতে আছেন ইন্সপেক্টর অব ফ্যাক্টরিস দেবায়ণ দে, হলদিয়ার ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রট কৌশিস রায়, মহকুমা ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অফিসার সুদীপ ঘোষ এবং হলদিয়া থানার আইসি। এদিন তাঁদের সঙ্গে এলাকা ঘুরে দেখে হলদিয়া পেট্রকেমের নিজস্ব তদন্ত কমিটিও। এই দুই তদন্ত দলের সদস্যরা এদিন আগুনের সূত্রপাত যে বস্তিতে হয়েছিল, সেখানে যান। কথা বলেন অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত মানু বিবির মেয়ে ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে। প্রত্যক্ষদর্শী ও মৃতের পরিবারের বক্তব্য রেকর্ড করা হয়। জানা গিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তদন্তে পেট্রোলিয়াম এন্ড এক্সপ্লোসিভ সেফটি অর্গানাইজেশানের (পেসো) প্রতিনিধিরাও হলদিয়া আসছেন।
এদিন ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, এখনও গ্যাস লিকেজ হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডের আশঙ্কা থাকায় সেখানে জল স্প্রে করা হচ্ছে। বিপর্যস্ত এলাকায় তিনটি পেট্রোরাসায়নিক সংস্থার পাইপলাইন রয়েছে। এদিন ইন্ডিয়ান অয়েল পেট্রনাস নামে একটি সংস্থার তরফে ড্রোন উড়িয়ে এলাকা পরীক্ষা করা হয়। তাঁদের পাইললাইনও রয়েছে ওই এলাকায়। ওই দিনের অগ্নিকাণ্ডের জন্য অতিদাহ্য ন্যাপথা না বিউটেন গ্যাস দায়ী, তা নিয়ে তদন্ত চলছে।
ন্যাপথার মতো বিউটেন গ্যাস বাতাসের চেয়ে ভারী। তাই বিউটেন গ্যাস কোথাও লিক হলে তা উপরে না নিচের অংশে জমা হয়। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের আগের দিনও শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল সাধারণ মানুষের।