


নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনী প্রক্রিয়ায় ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা যৌক্তিক অসংগতির নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগে সরব হল শাসকদল তৃণমূল। সোমবার এই ইস্যুতেই বীরভূমের জেলা সদর সিউড়ি থেকে শুরু করে রামপুরহাট, লাভপুর, দুবরাজপুর— জেলার বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ কর্মসূচিতে শামিল হলেন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা।
প্রযুক্তিগত ত্রুটির অজুহাতে শুনানির নোটিস পৌঁছেছে খোদ নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের কাছেও। একই তালিকায় রয়েছেন বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখ এবং রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল ইসলাম। তৃণমূলের অভিযোগ, নিছক প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখিয়ে হাজার হাজার সাধারণ ভোটারকে শুনানির লাইনে দাঁড় করিয়ে চরম ভোগান্তিতে ফেলা হচ্ছে। এদিন রামপুরহাট মহকুমা শাসকের দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। ছিলেন বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, কমিশন বিজেপির দলদাস হয়ে কাজ করছে। বিহারে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি কেন দেখা হল না? বিহারে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড গ্রাহ্য হলে এখানে কেন হবে না? অন্যদিকে, এদিন লাভপুরেও ব্লক অফিসে অবস্থান বিক্ষোভ করে তৃণমূল। ছিলেন বিধায়ক অভিজিৎ সিনহা, লাভপুর ব্লক তৃণমূল সভাপতি তরুণ চক্রবর্তী, জেলা সহ-সভাপতি আব্দুল মান্নান প্রমুখ। পাশাপাশি লাভপুর ব্লক চত্বরে হয়রানির শিকার হওয়া মানুষদের জন্য ‘সহায়তা কেন্দ্র’ খোলা হয় বিধায়কের উদ্যোগে। বিধায়ক বলেন, দলের নির্দেশেই আমরা এই কর্মসূচি করেছি।
বিক্ষোভের আঁচ পড়ে সিউড়িতেও। এদিন সিউড়ি-১ ব্লক অফিসের সামনে ব্লক সভাপতি রুপু লালার নেতৃত্বে ১৪ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে তৃণমূল কর্মীরা। টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখানোর ফলে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে জাতীয় সড়ক। পরে সিউড়ি থানার পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এদিন দুবরাজপুরে সাংসদ শতাব্দী রায় দাবি করেন, কমিশনের ভুলের দায় সাধারণ মানুষের উপর কেন চাপানো হবে? এটা আসলে ভোটারদের লড়াই থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার একটি কৌশল।
এদিন শুনানিতে ডাক পাওয়া কাজল শেখের বক্তব্য, আমি তো অনেক দূরের ব্যাপার। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদকে শুনানির জন্য ডেকেছে। রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল ইসলামকে শুনানির লাইনে দাঁড়াতে হয়েছে। কমিশনকে স্পষ্ট বলতে চাই, আমরা কেউ বাংলাদেশ বা পাকিস্তান থেকে আসিনি। কয়েক প্রজন্মের বাস এখানে। বিজেপির বিরুদ্ধে কথা বলছি বলেই আমাদের নোটিস পাঠিয়ে হেনস্তা করা হচ্ছে। আমি অবশ্যই শুনানিতে যাব।
রাজনৈতিক মহলের মতে, আসন্ন নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে এই ডামাডোল জেলায় নতুন করে উত্তাপ বাড়িয়ে দিল। শাসকদলের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, এই হয়রানি বন্ধ না হলে আগামী দিনে আন্দোলন আরও তীব্র হবে।