


নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন। মুখ্যমন্ত্রীর জেতা আসনে বিজেপির প্রার্থী হাসিরানি রথ। সোমবার প্রচারে বেরিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি এক সন্তানহারা মা। শহিদ জননী। উপনির্বাচনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর আপনাদের বাড়ির বউমা, মা, বোন এবং আত্মীয় হয়ে গিয়েছি।’ এদিন প্রচারে বেরিয়ে হাসিরানি টার্গেটও বেঁধে দিলেন। তিনি বলেন, ‘ফলতায় পুষ্পা ঝুকেগা নেহি বলার পরেও সেখানে আমাদের জয়ের মার্জিন ছিল ১ লক্ষ নয় হাজার। নন্দীগ্রামে সেই মার্জিনকে দেড় লক্ষে নিয়ে যেতে হবে।’
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে খুন করা হয়। চন্দ্রনাথ খুনে যুক্ত ‘ভাইপো গ্যাং’, একথা বারবার বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী সহ বিজেপির বহু শীর্ষ নেতা। তদন্তও চলছে। এদিন সেই বিষয়েও মুখ খোলেন হাসিরানি। তিনি বলেন, আমার ছেলে বায়ুসেনায় চাকরি করত। মুখ্যমন্ত্রীর আপ্তসহায়ক হিসেবে যুক্ত হয়েছিল। তাঁকে খুন করা হয়েছে। কারা খুন করেছে সেটা আপনারা বুঝতেই পারছেন। হলদিয়ায় মুখ্যমন্ত্রী তার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
প্রচারে বেরিয়ে দলীয় কর্মীদের সতর্কও করেন তিনি। বিজেপি প্রার্থী বলেন, আপনারা কেউ আত্মতুষ্টিতে ভুগবেন না। ভাববেন না, বিরোধীরা নেই। মুখ্যমন্ত্রীর মুখ উজ্জ্বল করতে নন্দীগ্রামে মার্জিনকে বাড়াতেই হবে। আমি উপনির্বাচনের জয় নিয়ে চিন্তা করি না। আমাদের লড়াই-মার্জিন বাড়ানোর।
সোমবার সকালে নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের বাড়কাণ্ডপসরা বাজার এলাকায় জনসংযোগ সারেন তিনি। এরপরে হাসিরানি বাসুলিচক মন্দিরে পুজো দিয়ে সেখানে প্রচার সারেন। শ্রীপুর বাজার ও দুর্গাপুর বুথেও উপনির্বাচনের প্রচারে গিয়ে সাধারণ মানুষ ও কর্মীদের মুখোমুখি হন বিজেপি প্রার্থী।
উপনির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর থেকেই একের পর এক নতুন মোড় নিতে দেখা গিয়েছে। ভোটে নেই মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস। কংগ্রেস প্রার্থী জেলে। অন্যদিকে কখনও প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করেছেন, আবার কখনও লড়াইয়ের বার্তা দিয়েছেন আজুপ প্রার্থী। তবে হাসিরানি যে লক্ষ্যমাত্রা বা টার্গেট দলীয় কর্মীদের দিয়েছেন, অর্থাৎ দেড় লক্ষ মার্জিনের টার্গেট-তা আদৌ পূরণ হয় কি না সেটা জানা যাবে ৯ অক্টোবর অর্থাৎ নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনের ফলপ্রকাশের দিন।