


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নতুন রেকর্ড করল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাস্থ্যদপ্তর। দপ্তরের টেলিমেডিসিন পরিষেবা স্বাস্থ্যইঙ্গিত-এর মাধ্যমে এখনও পর্যন্ত অনলাইনে সাত কোটি চিকিৎসা পরামর্শ পেলেন রাজ্যবাসী। সোমবার এক্স হ্যান্ডেলে এক বার্তায় এই কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, ৯ হাজারের বেশি চিকিৎসক এই পরিষেবা দিয়েছেন। পরিষেবায় যুক্ত রয়েছে ১১ হাজারের বেশি সুস্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং ৬৩টি বড় হাসপাতাল (হাব)।
স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২১ সালের আগস্টে বাংলায় এই পরিষেবার সূত্রপাত হয়। ধাপে ধাপে হাসপাতালের সংখ্যা বাড়ে। বর্তমানে ৬৮টি বড় হাসপাতালের (হাব) চিকিৎসকরা অনলাইনে রোগী দেখছেন। এর মধ্যে ২৮টি জেলা হাব, ২৭টি মেডিকেল কলেজ এবং ১১টি সুপারস্পেশালিটি হাসপাতাল রয়েছে। এছাড়া স্বাস্থ্যভবন এবং পিজি হাসপাতালেও রয়েছে হাব। বাংলার দূরবর্তী প্রান্তিক অংশের ১১ হাজারের বেশি বাড়ির কাছের সুস্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়েই রোগীরা এইসব বড়ো হাসপাতাল বা হাবের চিকিৎসকদের দেখাতে পারছেন। ডাক্তার দেখানোর জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে তাঁদের কাড়ি কাড়ি টাকা খরচ করে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে জেলা সদর বা কলকাতায় আসতে হচ্ছে না। কী ধরনের পরিষেবা মিলছে? দপ্তর সূত্রের খবর, সবসুদ্ধ ১১টি শাখার চিকিৎসা মিলছে এখানে। তালিকায় রয়েছে নিউরোলজি, কার্ডিয়োলজি, টিবি, ক্যান্সার বা অঙ্কোলজি, নেফ্রোলজি, গ্যাসট্রোএনটেরোলজি, পেডিয়াট্রিকস বা শিশু, অবস্টেট্রিকস বা ধাত্রীবিদ্যা, ভাইরাল হেপাটাইটিস, ব্রেস্ট এবং মানসিক অসুস্থতা বা সাইকিয়াট্রি। এর মধ্যে ভাবী মায়েরা সবচেয়ে বেশি অনলাইনে বড়ো ডাক্তারের পরামর্শ নিচ্ছেন। ক্রমে সবচেয়ে জীবনদায়ী টেলিকনসালটেশন হয়ে উঠেছে টেলি নিউরোলজি এবং টেলি কার্ডিয়োলজি। প্রথমটিতে স্ট্রোক আক্রান্ত এবং দ্বিতীয়টিতে হার্ট অ্যাটাকের রোগীদের রোগপরীক্ষার রিপোর্ট (সিটি স্ক্যান, ইসিজি প্রভৃতি) অনলাইনে দেখেই চটজলদি চিকিৎসা বাতলে দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। এইভাবে বাঁচছে অসংখ্য মানুষের প্রাণও।