


নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টির জেরে ফুঁসছে বেশ কয়েকটি নদী। গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির জেরে জলপাইগুড়ির জলঢাকা নদীর জল বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। পাশাপাশি দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ার জেলার একাধিক এলাকায় নদীভাঙনের ঘটনাও ঘটেছে। পরিস্থিতির উপর নজরদারি চালাচ্ছে সেচ দপ্তর ও জেলা প্রশাসন।
সেচ দপ্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে কোচবিহার জেলায়। কোচবিহারে ১৪৩.০০ মিলিমিটার এবং শীতলকুচিতে ১৪২.২০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে, যা আবহাওয়াবিদদের মতে অতি ভারী বৃষ্টির পর্যায়ে পড়ে। এছাড়া আলিপুরদুয়ারে ১১২.২০ মিলিমিটার, বানারহাটে ৯৩.০০ মিলিমিটার এবং মাদারিহাটে ৮০.১০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। অবিরাম বৃষ্টির জেরে জলপাইগুড়ির ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কের সাপ্টিয়াবাড়ি এলাকায় জলঢাকা নদীর জল বিপদসীমার খুব কাছ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সেচ দপ্তরের পর্যবেক্ষণে দেখা গিয়েছে, নদীর জলস্তর ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে, ফলে নিম্নাঞ্চল নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে প্রশাসনের।
বৃষ্টির প্রভাবে একাধিক এলাকায় নদীভাঙনের ঘটনাও সামনে এসেছে। জলপাইগুড়ির বানারহাটের গয়েরকাটা টি-গার্ডেন এলাকায় আংরাভাসা নদীর ডান তীরে প্রায় ২০০ মিটার জুড়ে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। দার্জিলিং জেলার নকশালবাড়ির হাতিঘিসা গ্রাম পঞ্চায়েতের লোহাসিং জোত এলাকায় চেঙ্গা নদীর বাম তীরে প্রায় ১৫০ মিটার ভাঙন দেখা দিয়েছে। মাটিগাড়া ব্লকের আঠারখাই গ্রাম পঞ্চায়েতের জ্যোতিনগর কলোনিতে বালাসন নদীর ডান তীরে প্রায় ৪৫০ মিটার, সেবক বাজার এলাকায় তিস্তা নদীর ডান তীরে প্রায় ১৫০ মিটার এবং পাথরঘাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের সালবাড়ি এলাকায় পঞ্চানই নদীর বাম তীরে প্রায় ১২০ মিটার ভাঙনের খবর মিলেছে। একইসঙ্গে লোয়ার বাগডোগরা গ্রাম পঞ্চায়েতের ভুজিয়াপানি এলাকায় হুলিয়া নদীর দুই তীর মিলিয়ে প্রায় ৩৫০ মিটার ভাঙন হয়েছে। এছাড়া পোরাঝার এলাকায় মহানন্দা নদীর ডান তীরের পোরাঝার বাঁধে প্রায় ৬০ মিটার রেইন কাট ধরা পড়েছে। কোচবিহারের তুফানগঞ্জ-১ ব্লকের দেওচড়াই গ্রাম পঞ্চায়েতের কৃষ্ণপুর এলাকায় গদাধর নদীর ডান তীরেও ভাঙনের ঘটনা ঘটেছে।