


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে এক পুলিশ অবজার্ভারকে সরানোর দাবি জানিয়ে কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের তরফে অভিযোগ জানানো হলেও তার কোনো উত্তর দেয়নি নির্বাচন কমিশন। সেই অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় কমিশনকে তৃণমূলের প্রশ্নের জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট।
কমিশন কোনো পদক্ষেপ না করায় পুলিশ পর্যবেক্ষক পি এস পুরুষোত্তম দাসের অপসারণের দাবিতে হাইকোর্টে মামলা করে তৃণমূল। ডায়মন্ডহারবার, ফলতা এবং মগরাহাট পূর্ব ও পশ্চিম কেন্দ্রের ওই পুলিশ পর্যবেক্ষকের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের এজলাসে মামলা দায়ের হয়। এর আগে গত ২১ এপ্রিল গোটা বিষয়টি লিখিতভাবে কমিশনে জানিয়েছিল তৃণমূল। কিন্তু জবাব না মেলায় হাইকোর্টে এই মামলা।
শুনানিতে তৃণমূলের আইনজীবী মৈনাক বসু অভিযোগ করেন, মগরাহাট পশ্চিমের বিজেপি প্রার্থী গৌর ঘোষ এবং ডায়মন্ডহারবারের বিজেপি প্রার্থী দীপক হালদারের সঙ্গে ওই পর্যবেক্ষক একটি হোটেলে বৈঠক করেছিলেন। তৃণমূলের দাবি, বিষয়টি কমিশনকে জানানো হলেও কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি।
পালটা সওয়ালে নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী জিষ্ণু সাহা জানান, পর্যবেক্ষকরা কমিশনের ‘চোখ ও কান’। নির্বাচনি পরিস্থিতি বুঝতে রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে তাঁদের কথা বলতেই হয়। কমিশনের দাবি, বৈঠকটি কোনো গোপন স্থানে নয়, বরং নির্ধারিত স্থানেই হয়েছিল এবং সেখানে সিসিটিভি ছিল, যা স্বচ্ছতার প্রমাণ। কমিশনের তরফে আরও বলা হয়, ‘কেউ রঙিন চশমা পরে থাকলে পৃথিবীটা রঙিনই মনে হয়। এছাড়া ওই হোটেলে কমিশনের অন্য কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন বলে এদিন বিচারপতিকে জানান কমিশনের আইনজীবী।
উভয় পক্ষের সওয়াল শোনার পর বিচারপতি কৃষ্ণা রাও নির্দেশ দিয়েছেন, তৃণমূল কংগ্রেস যে অভিযোগ জানিয়েছে, তার লিখিত উত্তর আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কমিশনকে আদালতে জমা দিতে হবে।