


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: উচ্চ মাধ্যমিকে এমসিকিউ পদ্ধতি চালু হওয়ায় কি ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ কাজ করছে? নয়া পদ্ধতিতে উচ্চ মাধ্যমিক পার্ট ওয়ান পরীক্ষায় রেকর্ড প্রার্থীর উপস্থিতি সেদিকেই ইঙ্গিত করছে। সোমবার পরীক্ষা শেষের সাংবাদিক বৈঠকে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, এবছর এনরোল করেছিলেন ৬ লক্ষ ৬০ হাজার ৩৪৩ জন পরীক্ষার্থী। তার মধ্যে অনুপস্থিত মাত্র ১০ হাজার ৪৩৭ জন। সেই হিসেবে অনুপস্থিতির হার মাত্র ১.৫৮ শতাংশ। কোভিডের সময় বাদ দিলে এই উপস্থিতি ২০১৪ সাল থেকে সর্বোচ্চ। অনুপস্থিত প্রার্থীরা ফেব্রুয়ারিতে পার্ট ওয়ানের পরীক্ষাগুলি সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা হিসেবেও দিতে পারবে। সভাপতি এও জানিয়েছেন, ৩১ অক্টোবর সম্ভাব্য ফল প্রকাশের দিন।
শুধু আশাব্যাঞ্জক উপস্থিতিই নয়, কড়া নজরদারি এবং সচেতনতা প্রসারে মোবাইল নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢোকার সংখ্যা এবার একেবারেই নগণ্য। মাত্র দুজন ছাত্রছাত্রী মোবাইল সহ ধরা পড়েছে। একজন ছাত্রী পরিদর্শকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে রিপোর্টেড এগেইন্সট (আরএ) প্রক্রিয়ার আওতায় পড়েছে। মোবাইলসহ ধরা পড়া দুই পরীক্ষার্থীরই এনরোলমেন্ট বাতিল করছে সংসদ। অথচ, ২০২৪ সালে ৪১ জন পরীক্ষার্থী মোবাইল নিয়ে ধরা পড়েছিল। ১০০ জন অন্যান্য কারণে আরএ-র মুখে পড়ে। ২০২৫ সালে মোবাইল সহ ধরা পড়ার ঘটনা আটটিতে নেমে এলেও অন্যান্য কারণে আরএ-র সংখ্যা দাঁড়ায় ২৮৮টি। সেই তুলনায় এবছরের উচ্চ মাধ্যমিক নির্বিঘ্নই বলা যায়।
এবছর বায়োলজি পরীক্ষায় দুটি প্রশ্ন ভুল ছিল বলে সংসদ স্বীকার করেছে। তাই যেকোনও উত্তর লিখলেই সেগুলিতে পূর্ণ নম্বর মিলবে। বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র দীর্ঘ হওয়ার অভিযোগও স্বীকার করেছে সংসদ। এছাড়া, প্রত্যেক প্রশ্নে বিভিন্ন ভাষামাধ্যমের প্রশ্ন একসঙ্গে থাকায় প্রচুর পাতা উলটে সময় ব্যয় হয়েছে পরীক্ষার্থীদের। এই ব্যাপারে অবশ্য প্রশ্নকর্তাদের দিকেই আঙুল তুলেছেন সংসদ সভাপতি। তবে, বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মতো সংক্ষেপে গাণিতিক হিসেব কষার কৌশলও ছাত্রছাত্রীদের শেখানোর প্রয়োজন রয়েছে বলে মতপ্রকাশ করেন সংসদ সচিব প্রিয়দর্শিনী
মল্লিক। তবে, বিভিন্ন সমস্যা, ভুলভ্রান্তি নিয়ে ২৫ সেপ্টেম্বর রিভিউ মিটিং করবে সংসদ। তারপর সংসদের সমস্ত সদস্যদের নিয়ে বৈঠকে তা জমা দেওয়া হবে। সেই রিপোর্ট যাবে শিক্ষাদপ্তরেও। সবপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে, সরকারের অনুমতিসাপেক্ষে পরীক্ষা ব্যবস্থায় বেশকিছু পরিবর্তন আনবে সংসদ।
ওএমআর শিটে পরীক্ষা দেওয়া নিয়ে সংসদ একটি ভিডিয়ো তৈরি করে ওয়েবসাইটের ইউটিইউব চ্যানেলে আপলোড করেছিল। তাতে তিন লক্ষেরও বেশি ভিউজ হয়েছে বলে জানান চিরঞ্জীববাবু। এরকম উদ্যোগের ফলে ওএমআর শিট মোটামুটি সহজেই বেশিরভাগ ছাত্রছাত্রী পূরণ করতে পেরেছে বলে তাঁর দাবি। মোট ৩৮-৩৯ লক্ষ ওএমআর শিট কেন্দ্রীয়ভাবে কলকাতায় মূল্যায়ন হবে। ফলে, দ্রুত ফলপ্রকাশে কোনও বাধা থাকবে না।