


সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: উলুবেড়িয়া শহরের পাশ দিয়ে বয়ে গিয়েছে হুগলি নদী। নদীর পশ্চিম বাঁশতলায় সবুজের আড়ালে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে প্রাচীন একটি ইটের স্তম্ভ। স্থানীয় বাসিন্দারা সেটিকে বাতিঘর নামে চেনেন। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, নদীপথে জাহাজ চলাচলের জন্য ব্যবহৃত হত নেভিগেশন রেঞ্জ লাইট। এই টাওয়ার সেই কাজই করত।
রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে প্রাচীন ঐতিহাসিক কাঠামোটি প্রতিদিনই ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে। ইটের কাঠামোর গায়ে শ্যাওলা জমেছে। উপরের অংশে ফাটল ধরেছে। গাছের শিকড় বেরিয়ে আসছে। ঐতিহাসিক নির্দশনটি কতদিন টিঁকে থাকবে তা নিয়ে বড়ো প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। জানা গিয়েছে, ব্রিটিশ আমলে তৈরি করা হয়েছিল টাওয়ারটি। দু’স্তর বিশিষ্ট হাউস। উচ্চতা ২২ মিটারের মতো। নীচের অংশ চৌকাকৃতি। উপরের অংশ গোলাকার। প্রবীণরা বলেন, হুগলির নদীপথ খুব জটিল। নদীর চর, বাঁক, জোয়ার-ভাঁটা এবং নাব্যতার কারণে কলকাতা বন্দরের দিকে জাহাজ নিয়ে যাওয়া সহজ ছিল না। পণ্যবাহী জাহাজ নিরাপদে চলাচলের জন্য নদীর তীরে এই কাঠামো তৈরি করা হয়েছিল। রাত্রে নদীপথে জাহাজ চলাচলের সুবিধায় আলোর জ্বালানোর ব্যবস্থা ছিল।
বর্তমানে এই গুরুত্বপূর্ণ নেভিগেশন ব্যবস্থাটি ধ্বংসের মুখে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, একসময় এই এলাকার পাশাপাশি আশপাশের অঞ্চলের মানুষের কাছেও জায়গাটি দর্শনীয় ছিল। বিকালে বেরাতে আসতেন অনেকে। এখন ইটের গাঁথনিতে ক্ষয় ধরেছে। দেওয়ালে বড়ো বড়ো গাছ জন্মেছে। টাওয়ার সম্পর্কে বা তার ঐতিহাসিক গুরুত্ব বোঝানোর কোনো তথ্য দেওয়ার ব্যবস্থা নেই। ফলে মানুষ আর দেখতে আসে না। এভাবে থাকলে এই ঐতিহাসিক নির্দশনটি হারিয়ে যাবে। ইতিহাসের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মহম্মদ আবদুল্লা বলেন, ‘হুগলি নদীর বিভিন্ন জায়গায় নদীবাঁকে এরকম লাইটহাউস আছে। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় কেরোসিনের লন্ঠন জ্বালিয়ে আলো দেখাতে দেখেছি। এখন সবই অতীত। ঐতিহ্য তার গরিমা হারিয়েছে। নয়া প্রজন্মের কাছে এর ইতিহাস তুলে ধরতে বাঁচিয়ে রাখার উদ্যোগ নেওয়া উচিত সরকারের।’
শিক্ষক অজয় দাস বলেন, ‘সুপ্রাচীন বাতিঘরটির খারাপ অবস্থা। আগাছায় ভরে উঠেছে। সংস্কার করে নদীর পাড়ের সৌন্দার্যায়ন ঘটালে জায়গাটি পর্যটনস্থল হিসাবে গড়ে উঠতে পারত। নতুন সরকারের কাছে আবেদন, বাতিঘর সংস্কার করে পর্যটনস্থল হিসাবে গড়ে তোলা হোক।’ নিজস্ব চিত্র