


জগন্নাথ মানেই রথ, আর রথ মানেই জগন্নাথ। শ্রীক্ষেত্র পুরীর প্রধান উৎসব রথযাত্রা। মাঘ মাসের পঞ্চমী তিথি থেকে শুরু হয় রথের কাঠ সংগ্রহ। সেই কাঠ দিয়েই তৈরি হয় নতুন রথ। এখন তিনটি রথ তৈরি হলেও প্রাচীনকালে তৈরি হতো ছ’টি। শ্রীমন্দির থেকে গুণ্ডিচা মন্দিরের মাঝে ছিল বাকিমোহনা নদী। তাই নদীর দুই পারের জন্য তিনটি করে রথ তৈরি করা হতো। তবে কয়েকশো বছর আগে এই নদী ধীরে ধীরে কালের অতলে হারিয়ে যায়। ফলে জগন্নাথ-বলদেব-সুভদ্রাকে এখন তিনটি রথে চড়িয়ে গুণ্ডিচা মন্দিরে নিয়ে যাওয়া হয়। অক্ষয় তৃতীয়ার দিন জগন্নাথ দেবের অনুমতি প্রার্থনা করে শুরু হয় রথ তৈরির কাজ। ১২৫ জন সূত্রধর বংশ-পরম্পরায় একটানা ৫৮ দিনে তিনটি রথ তৈরি করেন। এর মধ্যে জগন্নাথ দেবের রথের উচ্চতা সবচেয়ে বেশি—৪৫ ফুট। ১৬ চাকার এই রথের নাম নন্দীঘোষ। বলভদ্রের ১৪ চাকার ‘তালধ্বজ’ রথের উচ্চতা ৪৪ ফুট ও ১২ চাকার ‘দর্পদলন’ রথে থাকেন সুভদ্রাদেবী। সেই রথের উচ্চতা ৪৩ ফুট। প্রতিটি রথে থাকে চারটি করে ঘোড়া। নন্দীঘোষ রথে কালো রঙের, তালধ্বজ রথে সাদা ও দর্পদলন রথে থাকে লাল রঙের ঘোড়া। প্রতি বছর রথ নতুন করে তৈরি করা হলেও ঘোড়াগুলি জগন্নাথ দেবের নবকলেবরের সময় তৈরি হয় এবং তা বছর বছর রথে ব্যবহৃত হয়। রথের বৃহৎ আকারের সারথি ও পার্শ্ব দেবতার ছোট ছোট মূর্তিগুলিও প্রতি বছর নতুন করে তৈরি হয় না। সম্পূর্ণ কাঠের তৈরি জগন্নাথ-বলদেব-সুভদ্রা দেবীর রথের রঙগুলিও ভিন্ন ভিন্ন। জগন্নাথ দেবের রথের রং লাল-হলুদ। বলভদ্রের রথের রং নীলাভ সবুজ ও লাল। কালো ও লাল রঙের রথ সুভদ্রার।