


নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: মুর্শিদাবাদের কর্ণসুবর্ণে সাতসকালে মর্মান্তিক রেল দুর্ঘটনা। স্কুলপড়ুয়াদের নিয়ে যাওয়া একটি গাড়িকে রেলগেটে পারাপারের সময় সজোরে ধাক্কা মারে একটি ট্রেন। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় দুই শিশু ও একজন সাইকেল আরোহীর। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়। ঘটনাটি ঘটেছে কর্ণসুবর্ণের গোবিন্দপুর রেলগেটে। জানা গিয়েছে, স্কুলপড়ুয়া ভর্তি গাড়িটি রেললাইন পার হওয়ার সময় আচমকাই একটি ট্রেন এসে ধাক্কা মারে। ট্রেনের ধাক্কায় গাড়িটি দুমড়েমুচড়ে যায়। দুর্ঘটনার পর চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, রেলগেট খোলা থাকায় স্কুলপড়ুয়াদের নিয়ে গাড়িটি রেললাইন পার হওয়ার সময় নিমতিতা-কাটোয়া প্যাসেঞ্জার ট্রেনটি এসে ধাক্কা মারে। তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। তারপরেই স্থানীয়দের সহায়তায় শুরু হয় উদ্ধারকার্য। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। আরও পাঁচজন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে বহরমপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের চিকিৎসা চলছে। বাকি জখমদের কর্ণসুবর্ণ রুরাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হাওড়ার অতিরিক্ত ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার সহ ১০ জন সিনিয়র আধিকারিকের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। রেল সদর দফতর থেকেও অতিরিক্ত জেনারেল ম্যানেজারের নেতৃত্বে ইঞ্জিনিয়ারিং, অপারেটিং এবং সিগন্যাল ও টেলিকমিউনিকেশন বিভাগের প্রধানদের নিয়ে একটি বিশেষ দলও ঘটনাস্থলে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, একটি আপ লাইনের ট্রেন চলে যাওয়ার পর রেলগেট খুলে দেওয়া হলেও পাশের লাইনে আরেকটি ট্রেন আসার আগে গেটটি পুনরায় বন্ধ করা হয়নি। তাঁদের দাবি, গেট ম্যানের এই গাফিলতির কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে অতিরিক্ত ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজারের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি তদন্তকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। এদিকে, প্রাথমিকভাবে দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগে এক গেটম্যানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পিডব্লিউআই কৌশিক মালকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। রেলমন্ত্রী মৃতদের পরিবারের জন্য প্রত্যেককে ১০ লক্ষ টাকা করে এককালীন ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করেছেন। পূর্ব রেল জানিয়েছে, তদন্তে যাঁদের বিরুদ্ধে দোষ প্রমাণিত হবে, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।