


সংবাদদাতা, রামপুরহাট: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের প্রভাব পড়ল তারাপীঠের মন্দিরে এবং পর্যটন ব্যবসায়। একদিকে গ্যাসের আকালে ভাণ্ডারা ধরতে চাইছেন না অনেকে সেবাইত। অন্যদিকে বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডার না পাওয়ায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে একের পর এক হোটেল ও রেস্টুরেন্ট। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে সমস্ত রেস্তরাঁই বন্ধ হয়ে যেতে পারে। খাবার না মেলার আশঙ্কায় পর্যটক শূন্য হয়ে পড়তে পারে তারাপীঠ। বৃহস্পতিবার তারাপীঠ ঘুরে সেই আশঙ্কার ছায়াই দেখা গিয়েছে।
কথিত আছে, সবার গুরু বৃহস্পতি, আর বৃহস্পতির গুরু দেবী তারা। তাই প্রতি বৃহস্পতিবার পর্যটকের ভিড়ে দ্বারকা ব্রিজ পার হওয়া মুশকিল হয়ে পড়ে। কিন্তু এদিন সেই দ্বারকা ব্রিজ কার্যত ফাঁকা ছিল বললেই চলে। এদিকে এক শ্রেণির মানুষ বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাসের কালোবাজারি শুরু করে দিয়েছে।
তারাপীঠে নিত্যদিন হাজার হাজার পর্যটকের আনাগোনা লেগে থাকে। কিন্তু রান্নার গ্যাসের সংকটে পর্যটকের সংখ্যা কমছে তারাপীঠে। জানা গিয়েছে, তারাপীঠের কয়েকশো হোটেল ও রেস্তরাঁতে গ্যাস সরবরাহ করে থাকে মল্লারপুর, তারাপীঠ ও রামপুরহাটের গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটররা। রামপুরহাট ও তারাপীঠের ডিস্ট্রিবিউটর মিহির বিশ্বাস ও জয়ন্ত চক্রবর্তী বলেন, আমাদের হাসপাতাল, স্কুল ছাড়া বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডার দেওয়া বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। এদিকে বহু হোটেল, রেস্তরাঁ থেকে ফোন আসছে গ্যাস চেয়ে, কিন্তু আমরা নিরুপায়। বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের সরবরাহ না থাকায় অনেকে বড় হোটেল ও রেস্তরাঁ সাময়িক ঝাঁপ ফেলেছে। তারাপীঠ হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুনীল গিরি বলেন, ভরা পর্যটনের মরশুমে এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বাণিজ্যিক গ্যাসের উপর নির্ভরশীল বেশ কিছু হোটেল, রেস্টুরেন্ট বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বাকিগুলিও খুব জোর শনিবার পর্যন্ত চলবে। গ্যাসের সংকট পর্যটন শিল্পে বিপর্যয় নিয়ে এসেছে।
তারাপীঠের একটি হোটল কাম রেষ্টুরেন্টের ম্যানেজার রামকৃষ্ণ বাগদি বলেন, যা সিলিন্ডার স্টকে আছে, তাতে হয়তো তিন-চারদিন চলবে। তারপর রেস্টুরেন্ট বন্ধ করে দিতে হবে। কারণ, যাঁরা টুকটাক গ্যাস সরবরাহ করেন, তাঁরা এখনই দ্বিগুণের বেশি দাম চাইছেন। অত দাম দিয়ে গ্যাস কিনলে খাবারের দাম একলাফে অনেকটা বেড়ে যাবে। অনেকেই খেতে চাইবেন না। যদিও অনেকে ঘরোয়া সিলিন্ডার দিয়ে হোটেল, রেস্টুরেন্ট চালাচ্ছেন। তাঁদের একজন বলেন, ব্যবসায়ে ঘরোয়া সিলিন্ডার ব্যবহার করা বেআইনি। কিন্তু ব্যবসা তো চালাতে হবে। এই দোকানের উপর মালিক ছাড়াও কর্মচারী ও তাঁদের পরিবারের পেট চলে। তাই বেশি দাম দিয়ে ঘরোয়া সিলিন্ডার দিয়ে রান্না করছি। এতে খাবারের দাম বাড়াতে হয়েছে। এদিকে বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের সংকটের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে তারাপীঠ শ্মশানেও। মন্দির কমিটির সভাপতি তারাময় মুখোপাধ্যায় বলেন, তারাপীঠে কেউ অভুক্ত থাকে না। মন্দির চত্বর ছাড়া শ্মশানেও অনেক ভক্ত ভাণ্ডারা দেন। সেখানে অন্নপ্রসাদ খান হাজার হাজার ভক্ত থেকে সাধু। বিশেষ করে সাধুরা ভাণ্ডারার খারারের উপরই নির্ভরশীল। গ্যাস সিলিন্ডারের অভাবে অনেক সেবাইত ভাণ্ডারা ধরতে চাইছেন না। তারাময়বাবুর মতে, এমনটা চলতে থাকলে পর্যটকের আকাল দেখা দেবে। পর্যটকদের আনাগোনা কমলে ফুল, প্যাঁড়া ব্যবসায়ী থেকে মন্দিরের সঙ্গে পরোক্ষভাবে যুক্ত বহু মানুষ আর্থিক সংকটে পড়বেন। • নিজস্ব চিত্র