


প্রাচীনকালে রোগ নিরাময়ের জন্য মানুষ সাধারণত গাছপালা, ভেষজ, শিকড়, পাতার উপর নির্ভরশীল থাকত। সেই সময় ওষুধ খাওয়ার কোনও নির্দিষ্ট পদ্ধতি ছিল না। কাঁচা, গুঁড়ো, পেস্ট করেও ওষুধ খাওয়া হতো। প্রাচীন মিশর, ভারত ও চীনের চিকিৎসা পদ্ধতিতে ভেষজ ওষুধের ব্যবহার লক্ষ করা যায়। ক্ষতস্থানে পাতা বেটে লাগানো হোক বা জরিবুটি হিসেবে... ভারতীয় চিকিৎসা শাস্ত্রের বহু প্রাচীন রীতি। আয়ুর্বেদে ভেষজ গুঁড়োকে ছোট ছোট বলের মতো করে দেওয়া হতো রোগীকে। এটাকে আধুনিক ট্যাবলেটের আদি রূপ বলা চলে। গ্রিক ও রোমান সভ্যতায় চিকিৎসাবিদ্যা আরও কিছুটা উন্নত হয়। হিপোক্রেটিস ও গ্যালেনের মতো চিকিৎসকরা ওষুধকে নির্দিষ্ট মাত্রায় দেওয়ার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন। তখন ওষুধ সাধারণত গুঁড়ো বা তরল আকারে দেওয়া হতো। গুঁড়ো ওষুধ মধুর সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়ানো হতো রোগীকে যাতে তা সহজেই গিলে ফেলা যায়। তাতে অনেক ক্ষেত্রেই বেশি বা কম পরিমাণে ওষুধ খেয়ে নিতেন রোগী। নিরাময় দীর্ঘায়িত হতো। আমরা এখন যে ট্যাবলেট দেখতে পাই, তা তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হল উনিশ শতকে রসায়ন এবং ফার্মাসিউটিক্যাল বিজ্ঞানে দ্রুত অগ্রগতি হতে শুরু করল এই সময়। শিল্পবিপ্লবের পর ওষুধ তৈরির মানের উপর নজর দেওয়া শুরু হয়। ১৮৪০-এর দশকে ছোট ছোট গোল ওষুধ তৈরি শুরু হল। ব্রিটিশ বিজ্ঞানী উইলিয়াম ব্রোকেডন এক ধরনের যন্ত্র আবিষ্কার করেছিলেন। সেই যন্ত্রের সাহায্যে চাপ দিয়ে গোল গোল ওষুধ তৈরি করা হতো। এই ধরনের ওষুধের নাম দেওয়া হল ট্যাবলেট। প্রতিটি ট্যাবলেটে সমান পরিমাণ ওষুধ থাকে, ফলে রোগী সঠিক ডোজ পেতেন। ট্যাবলেট সঙ্গে রাখা যায় সবসময়। তরল ওষুধের মতো দ্রুত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা নেই। দীর্ঘদিন ভালোও থাকে। তরল ওষুধে অনেক সময় তিক্ত স্বাদ থাকে। ফলে খেতে চান না অনেকেই। সেই ভাবনা থেকেই ট্যাবলেটের উপর আবরণ দেওয়া শুরু হল। যাকে বলা হয় কোটিং। ট্যাবলেটের স্বাদেও পরিবর্তন আসে। ১৮৮৪ সালে ছোট আকৃতির ট্যাবলেট তৈরির কৌশল তৈরি করলেন উইলিয়াম আপজন। এই ধরনের ট্যাবলেটগুলি দ্রুত গিলে ফেলা সহজ হতো।
বিংশ শতকে ট্যাবলেট তৈরির প্রযুক্তিতে বিপ্লব ঘটে। শিশু ও প্রবীণ মানুষদের জন্য বিশেষ ধরনের ট্যাবলেট তৈরি হল। বর্তমানে ভিটামিন, খনিজ পদার্থর জন্যও পৃথক ট্যাবলেট রয়েছে। আধুনিক গবেষণার ফলে ট্যাবলেট আরও নিরাপদ ও কার্যকর হয়ে উঠেছে।
লিখেছেন শান্তনু দত্ত