


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: কথা ছিল দেশের অর্থনীতি চালিত হবে ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে। এই লক্ষ্যকে অন্যতম কারণ হিসেবে সামনে রেখে ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে হয়েছিল নোটবাতিল। বলা হয়েছিল, এখন তো আর মানুষ নগদ টাকার ব্যবহার প্রায় করেই না। নগদ টাকার লেনদেন বন্ধ হলেই কালো টাকাও কমে যাবে। ডিজিটাল ইন্ডিয়ার এই স্লোগানের নেশায় দেশে ক্রমেই ব্যাংকের শাখা কমিয়ে দেওয়া শুরু হয়েছে। ২৭টি সরকারি ব্যাংককে কমিয়ে ১২টি করা হয়েছে। আরও কমানো হবে বলে ঘোষণা হয়েছে। ৭৫টি নতুন ডিজিটাল ব্যাংক স্থাপন করা হবে বলে ঘোষণা হয়। কয়েকবছর কেটে গেলেও এখন আর ডিজিটাল ব্যাংকের কী স্টেটাস, আদৌ কতগুলি ডিজিটাল ব্যাংক তৈরি হয়েছে, সেসব নিয়ে কোনও উচ্চবাচ্য করা হয় না সরকারিভাবে। ঠিক এরকমই এক আবহে স্টেট ব্যাংকের রিপোর্টে জানা যাচ্ছে, দেশে এখন সর্বকালীন রেকর্ড অঙ্কে পৌঁছেছে বাজারে থাকা নগদের লেনদেন। এই মুহূর্তে ভারতে নোট রয়েছে ৪০ লক্ষ কোটি টাকা। নোট বাতিলের সময় ছিল ২৮ লক্ষ কোটি টাকার নগদ মুদ্রা। অর্থাৎ এখনও ভারতের আর্থিক আদানপ্রদানের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠছে ক্যাশ। এই তথ্যের পক্ষে অন্যতম পরিসংখ্যান হল, দেশের এটিএম গুলি থেকে মাসে যে পরিমাণ টাকা গড়ে তোলা হয়, সেই অঙ্ক আচমকা বেড়ে গিয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ, কর্ণাটক, তামিলনাড়ুতে এই বৃদ্ধিহার বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয়। গ্রামীণ এলাকায় হাতে নগদ টাকার প্রবণতা বেড়েছে এবং হাতে সামান্য টাকা জমে গেলেই সেটা ব্যাংক কিংবা ডাকঘরে গিয়ে সঞ্চয় করে দেওয়ার প্রবণতা কমেছে। বদলে হচ্ছে কেনাকাটা। রিপোর্টে বলা হচ্ছে, নগদে সাধারণ নিত্যদিনের কেনাকাটা যে একইভাবে হয়ে চলেছে তা নয়। বড়সড় আর্থিক লেনদেন নগদে হচ্ছে। এর অন্যতম কারণ জিএসটি ফাঁকি দেওয়া। কিন্তু তার বাইরে অন্য কারণও থাকতে পারে বলে রেভিনিউ ইনটেলিজেন্স বিভাগ মনে করছে। কী সেই কারণ? কালো টাকার লেনদেন। এই সন্দেহ হওয়ার কারণ, সোনা এবং সম্পত্তি ক্রয়ে নগদ ব্যবহার করা হচ্ছে বিপুল হারে। যে পরিমাণ সম্পত্তি এবং সোনা কেনা-বেচা হচ্ছে, তার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে জিএসটি আসছে না। ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে বাজারে চাহিদার নগদ নোট বেড়েছে ১২ শতাংশ। নগদের এই বাড়বাড়ন্তে একটাই সন্দেহ দানা বাঁধছে। ৪০ লক্ষ কোটি টাকা সরকারিভাবেই সার্কুলেশনে রয়েছে। এর
বাইরেও কালো টাকা কি আছে? থাকলে সেটা কত?