


সুমন তেওয়ারি, আসানসোল: রথযাত্রা উপলক্ষ্যে সেজে উঠেছে আসানসোল। বুধা মাঠে বসেছে রথের মেলা। আজ রথের দিন আসানসোলের বুধা পেট্রেলপাম্পের কাছ থেকে শুরু হবে ইস্কনের রথযাত্রা। এবার তাদের রথযাত্রা ১৬তম বর্ষে পড়ল। রথের দড়িতে টান দেওয়ার জন্য মুখিয়ে রয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। রথযাত্রায় মানুষের সমাগম বাড়াতে বিপুল পরিমাণ আমন্ত্রণপত্র বিলি করা হয়েছে। বিভিন্ন সমাজকে পৃথকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। রথ এসবি গরাই রোড, জিটি রোড হয়ে শহরের বিস্তীর্ণ অংশ ঘুরে বুধা মাঠে উপস্থিত হবে। সেখানেই সাতদিন ধরে চলবে উৎসব। প্রতিদিন ভক্তদের জন্য প্রসাদ বিতরণ হবে। প্রতি সন্ধ্যায় ধর্মীয় অনুষ্ঠান হয়। হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত হয়। অনুষ্ঠানের পাশাপাশি রথে বড় মেলা বসে। যা দেখতে কচিকাঁচাদের ভিড় দেখা যায়। এবারও যার ব্যতিক্রম হবে না। আসানসোল পুরসভার চেয়ারম্যান অমরনাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ইস্কনের রথ ঘিরে শহরবাসীর প্রবল উৎসাহ রয়েছে। সর্বস্তরের মানুষে রথে অংশ নেন।
আসানসোলের পাশাপাশি বার্নপুরেও রয়েছে প্রাচীন রথযাত্রা। আজ, শুক্রবার জগন্নাথ মন্দির থেকে বিকাল ৫টায় রথ বের হবে। রথ গুরুদোয়ারা সুভাষপল্লি, আসানসোল বাসস্ট্যান্ড যাবে। সেখান থেকে বারি ময়দান, বার্নপুর স্টেশন রোড হয়ে ত্রিবেণী মোড়ে আসবে। সেখানে থেকে গুরুদোয়ারা পাশে মাসির বাড়িতে আসবে। ১৯৫৮ সাল থেকে এই রথযাত্রা হয়ে আসছে। বার্নপুরের মানুষের আবেগ জড়িয়ে রয়েছে এই রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে। বহু মানুষ বার্নপুরের রথের দড়িতে টান দিলে বাইরে থেকে আসেন।
কুলটি থানা এলাকাতেও রথ নিয়ে উৎসাহ তুঙ্গে। কুলটির শিমূলগ্রামে রথযাত্রার এবার ৭৫তম বর্ষ। যা নিয়ে মানুষের প্রবল উৎসাহ রয়েছে। নানা অনুষ্ঠানে আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া রয়েছে বরাকরের রথযাত্রা। কুলটি থানার বরাকরে জেলার অন্যতম প্রাচীন রথযাত্রা হয়। সীতারামবাবা প্রতিষ্ঠিত গৌরাঙ্গ মন্দিরের রথযাত্রা ৯৫তম বর্ষে পা দিল। এখানের বিশেষত রথের আগের দিন জগন্নাথ দেবকে স্নান করানো হয়। শুক্রবার দুপুর ১টা থেকে রথে চেপে এলাকার প্রদক্ষিণ করবেন ভগবান। আসানসোলে সেজে উঠছে ইসকনের রথ।-নিজস্ব চিত্র