


শারদোৎসব মানেই সাবেকিয়ানার হাত ধরে চলা। সেটাই অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলেন অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত।
• হালকা বেজ মঙ্গলগিরি তসর, কেরালা কটন শাড়ির ব্লক প্রিন্টে কলকাতার ইয়েলো ট্যাক্সি এবং এমব্রয়ডারি করা সবুজ হ্যান্ডলুম শাড়ি— বর্তমান চতুষ্পর্ণীর পুজো শ্যুটে এই তিনটি শাড়িতে সেজে উঠেছিলেন অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। তাঁর নিজস্ব ব্র্যান্ড (রাস) থেকেই বেছে নিলেন শাড়িগুলো। পুজোর সময় ভ্যাপসা গরমের কথা মাথায় রেখে অভিনেত্রীর পছন্দের সবক’টি শাড়িই বেশ হালকা। রংও চোখকে আরাম দেয়। শাড়ির সঙ্গে ছিল মানানসই জুয়েলারি। স্টাইলিংয়ে কৌশিক-রজত তাঁর জন্য রেখেছিলেন বড় ঝোলা দুল ও চুড়ির সম্ভার। একটু রিলিফ দিতে গলা রইল ফাঁকা। তিনটি শাড়িতেই ঋতু হয়ে উঠলেন অপরূপা।
এবার পুজোয় সিঙ্গাপুর না কলকাতা?
(এক গাল হেসে) সিঙ্গাপুর যাওয়ার ইচ্ছা আছে। তবে লিস্টে কলকাতা মুম্বই আমেরিকাও আছে!
পুজোয় সাজের প্ল্যান কীরকম?
ঐতিহ্যবাহী সাজই পুজোর সময় দরকার। এই শাড়িতে (কেরালা কটন দেখিয়ে) যেমন কলকাতার ঐতিহ্য ধরা রয়েছে।
ছোটবেলার পুজো না এখনকার পুজো? কোনটা বেশি প্রিয়, কেন?
দেখুন দুটো দু’রকম স্মৃতি। আমাদের ছোটবেলায় কলকাতার পুজো একটা অন্য আমেজ, অন্য নস্টালজিয়া নিয়ে আসে। কারণ ছোটবেলায় সবটাই নিঃশর্ত ভালোবাসার সময়। সবকিছুর মধ্যে খুব বিশুদ্ধ একটা ব্যাপার থাকে। পুজোর জন্য চাঁদা তোলা, ফুচকা খাওয়া, বৃষ্টি মাথায় উত্তর কলকাতায় ঠাকুর দেখতে যাওয়া, নতুন জামা ক’টা হল সেটা বারবার গুনে দেখা— এই দিনগুলো কি আর ভোলা যায়? তবে এখনকার পুজোও ভালো লাগে। পুজো মানে সময়ের বাঁধাধরা কিছু থাকবে না। প্রতিটা মুহূর্ত উপভোগ করতে চাই। কখনও আত্মীয়স্বজন, কখনও বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে।
বর আর ছেলেমেয়ের জন্য পুজোর কী উপহার?
এখন তো সারা বছরই কেনাকাটা চলে। তাও পুজোতে স্পেশাল কিছু দিতেই হয়। ওদের পছন্দসই কিছু কিনব।
পাঠকদের জন্য সাজগোজের টিপস?
পাঠকদের বলব, সাজটা নিজের রুচির উপর নির্ভর করে। রুচিসম্মতভাবে সাজলে বা বলা ভালো, নিজেকে সাধারণ অথচ অভিজাত কায়দায় সাজালে সব কিছুতেই ভালো লাগে। সাজটা সবার মনের আনন্দের ব্যাপার। তবে আমি পুজোয় যেমন পছন্দ বললাম, ঐতিহ্যবাহী সাজ থাকবেই। মেয়েদের জন্য যে কোনও শাড়ি। শাড়ির সঙ্গে হালকা ছোট টিপ। সঙ্গে খোঁপা করে একটু ফুল লাগানো। এই সাজটাই মণ্ডপে অঞ্জলি দেওয়ার জন্য আদর্শ। ছেলেদের জন্য পুজোয় পাঞ্জাবিই ভালো লাগে।
--- অন্বেষা দত্ত