


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মোবাইল ফোনের উপর জিএসটি ১৮ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার দাবি জানিয়ে পশ্চিমবঙ্গের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তকে চিঠি দিল দেশের মোবাইল ও ইলেকট্রনিক্স শিল্পের শীর্ষ সংগঠন ইন্ডিয়া সেলুলার অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স অ্যাসোসিয়েশন। আসন্ন জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠকের এজেন্ডায় যাতে এই প্রস্তাব তোলা হয়, সংগঠনের চেয়ারম্যান পঙ্কজ মহীন্দ্র অর্থমন্ত্রীকে সেই অনুরোধ করেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, গতবছর অটোমোবাইল, ভোগ্যপণ্য এবং টেক্সটাইলের মতো ক্ষেত্রে জিএসটি কমিয়ে চাহিদা বাড়ানো হলেও মোবাইল ফোনের ক্ষেত্রে তা করা হয়নি। অথচ বর্তমানে এই শিল্প সবচেয়ে বেশি চাপে রয়েছে, এমনটাই দাবি। মেক ইন ইন্ডিয়া এবং পিএলআই স্কিমের হাত ধরে মোবাইল উৎপাদন বাড়ছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। তারা জানিয়েছে, ২০১৪-১৫ অর্থবর্ষে দেশে মোবাইল উৎপাদন হয়েছিল ১৮ হাজার ৯০০ কোটি টাকার। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে তা বেড়ে ৬ লক্ষ ২৭ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। ওই একই সময়ে রপ্তানি ১ হাজার ৫৬৬ কোটি থেকে বেড়ে ২ লক্ষ ৬০ হাজার কোটি টাকা হয়েছে। ভারত এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল উৎপাদক এবং মোবাইলই এখন দেশের বৃহত্তম রপ্তানিযোগ্য পণ্য। কিন্তু উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়লেও দেশীয় বাজারে বিক্রি কমছে এবং ফোন বদলানোর প্রবণতাও কমে গিয়েছে। এর প্রধান কারণ হিসাবে সংগঠনটি ২০২০ সালের এপ্রিলে জিএসটি ১২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৮ শতাংশ করা হয়। আবার সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক অস্থিরতার কারণে মেমরি চিপের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গিয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গতবছরের সেপ্টেম্বর থেকে এআই ডেটা সেন্টারের চাহিদার কারণে মেমরির দাম প্রায় চারগুণ বেড়ে যাওয়ায় ভারতে একেবারে কম দামের স্মার্টফোনের দামও ৩৫ থেকে ৪৫ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে। ১০ হাজার টাকার নীচে স্মার্টফোনের জোগান ৫ শতাংশেরও নীচে নেমে এসেছে, যা গ্রামের মানুষ এবং প্রথমবার স্মার্টফোন কেনা মানুষের উপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে। সংগঠনের যুক্তি, জিএসটি চালুর আগে মোবাইল ফোনে ১ শতাংশ আবগারি শুল্ক এবং গড়ে ৫ শতাংশ ভ্যালু অ্যাডেড ট্যাক্স বা ভ্যাট লাগত পশ্চিমবঙ্গেও ৫ শতাংশ হারেই ভ্যাট চালু ছিল। সেই হিসাবে শতাংশের জিএসটি স্ল্যাবই ছিল সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত, দাবি করা হয়েছে সংগঠনের পক্ষ থেকে। কিন্তু পরে তা বাড়িয়ে ১৮ শতাংশ করা হয়। তাদের দাবি, জিএসটি কমালে ফোনের প্রাথমিক দাম কমবে। মানুষ পুরানো ফোন বদলাতে উৎসাহিত হবেন, ফিচার বা সাধারণ ফোন থেকে স্মার্টফোনে ঝোঁকার প্রবণতা বাড়বে। এতে গ্রামীণ বাজারে চাহিদাও বাড়বে। পাশাপাশি একটি স্মার্টফোন বিক্রি মানে শুধু একবারের ট্যাক্স বা কর নয়। ওই ফোনের সারা জীবন ধরে ডেটা প্ল্যান এবং বিভিন্ন ডিজিটাল পরিষেবা থেকে সরকার নিয়মিত হারে জিএসটি পেতে থাকবে। জিএসটি কমলে চোরা কারবারেও লাগাম পড়বে, দাবি সংগঠনের।