


সংবাদদাতা, বালুরঘাট: দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় প্রত্যেকদিন নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছে নাবালিকা। নিখোঁজের পরেই বাল্যবিবাহের মতো ঘটনার সম্মুখীন হচ্ছে অধিকাংশ নাবালিকা। পরবর্তীতে আবার অল্প বয়সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ক্রমশ বেড়ে চলেছে। এনিয়ে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার নয়টি থানাতে প্রায় দিন পকসো মামলা দায়ের হচ্ছে। বাল্যবিবাহ ও অল্পবয়সী অন্তঃসত্ত্বা আটকানো এখন যেন মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়িয়েছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের। তাই শনিবার বাল্যবিবাহ ও অল্প বয়সে অন্তঃসত্ত্বা রুখতে বালুরঘাট জেলা প্রশাসনিক ভবন সংলগ্ন বালুছায়াতে বিশেষ সচেতনতা শিবিরের আয়োজন করা হয়।
এদিনের সচেতনতা শিবিরে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা শাসক (উন্নয়ন) কমলেশ মণ্ডল, অতিরিক্ত জেলা শাসক (ভূমি) এজাজ আহমেদ, সদর মহকুমা শাসক দীপান্বিতা পাত্র, বালুরঘাটের বিধায়ক বিদ্যুৎকুমার রায় সহ অন্যান্য আধিকারিকরা। ওই আলোচনা সভায় বাল্যবিবাহ রুখতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, বাল্যবিবাহ হলে কী ধরনের সমস্যা হয়, তা ছাত্রীদের বোঝানো হয়েছে। এমনকি পরিসংখ্যান নিয়েও সবিস্তারে আলোচনা হয়েছে।
এ ব্যাপারে বালুরঘাটের বিধায়ক বিদ্যুৎ কুমার রায় বলেন, বর্তমান সরকার বাল্যবিবাহ এবং অল্প বয়সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা রুখতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। এই জেলায় যাতে বাল্যবিবাহ এবং অল্প বয়সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা আর না ঘটে সেই ব্যাপারে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
মঞ্চে দাঁড়িয়ে বালুরঘাট সদর মহকুমা শাসক দীপান্বিতা পাত্র ছাত্রীদের বাল্যবিবাহের কুফল বুঝিয়েছেন। তিনি বলেন, ছাত্রীদের প্রথম কাজ পড়াশোনা করা। পড়াশোনা করে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে তারপর নিজের পছন্দ মতো কাজ করতে হবে। বাল্যবিবাহ নিয়ে সবাইকেই সচেতন থাকতে হবে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় নয়টি থানা রয়েছে। প্রত্যেকদিন প্রত্যেকটি থানাতেই নাবালিকাদের নিখোঁজের ঘটনা সামনে আসছে। শুধু তাই নয়, বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে মাসে অন্তত তিন-চারজন করে নাবালিকা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে ভর্তি হচ্ছে। ফলে বালুরঘাট থানায় নাবালিকা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনায় পকসো মামলাও বেশি দায়ের হচ্ছে। জেলা জুড়ে মাসে অন্তত গড়ে ১৮-১৯টি নাবালিকা অন্তঃসত্ত্বা ও নির্যাতনের মামলা দায়ের হয়েছে।
একটি পরিসংখ্যানে দেখা গিয়েছে, গত বছরে প্রায় পাঁচ হাজারের মতো নাবালিকার বিয়ে হয়েছে। তার মধ্যে দুই হাজারের মতো নাবালিকা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে। আরও একটি সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলায় মোট বিয়ের ২৬ শতাংশ শুধুমাত্র নাবালিকাদের হচ্ছে। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় সম্প্রতি নাবালিকা বিয়ের ঘটনা বেড়ে চলেছে।
দক্ষিণ দিনাজপুর চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি প্রায় বছরখানেক ধরে কমিটিহীন হয়ে রয়েছে। যার ফলে নাবালিকা বিয়ের খবর আসলেও তা রুখে দেওয়ার জন্য পরবর্তী পদক্ষেপ করতে সমস্যা হচ্ছে। তাই দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা প্রশাসন এবার কঠোর পদক্ষেপ নিতে চলেছে। নাবালিকা বিয়ের খবর এলে পুলিশকে মামলা ডায়েরির পাশাপাশি নাবালিকা বিয়ের সঙ্গে যুক্ত অভিভাবক, পুরোহিত ও ইমামদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।