


ভ্যালেন্টাইনস ডে স্পেশাল ফ্যাশন শ্যুটে সাহেব ভট্টাচার্য এবং সুস্মিতা দে।
‘বাতাসে বহিছে প্রেম’— সাহেব এবং সুস্মিতাকে দেখে আপনার কী মনে হচ্ছে বলুন তো? প্রেম, বসন্ত, ভালোবাসা— এসব শব্দ যেন আপাতত এই জুটির জন্যই তৈরি। টেলিভিশনে তুমুল সফল সাহেব এবং সুস্মিতার জুটি। ধারাবাহিক শেষ হওয়ার পরও সেই জনপ্রিয়তায় কোনো ভাটা পড়েনি। আপাতত থিয়েটার নিয়ে ব্যস্ত তাঁরা। তার মধ্যেই চতুষ্পর্ণীর জন্য ভ্যালেন্টাইনস ডে স্পেশাল ফোটোশ্যুটে এলেন জুটিতে।
সুস্মিতার তৈরি হতে কিছুটা সময় লাগবে। তাই তিনিই আগে বসলেন মেকআপে। ধীরে ধীরে প্রথম লুকের জন্য তৈরি হচ্ছেন অভিনেত্রী। মাঝে এসে একবার দেখে গেলেন সাহেব। এবার তাঁরও তৈরি হওয়ার পালা। হালকা টাচআপ করে পরে নিলেন পোশাক। প্রেমের দিন বলেই যেন গোলাপি বেছে নিয়েছেন তাঁরা। সুস্মিতার পরনে লেহেঙ্গা। হাওয়ায় উড়ছে ওড়না। এ যেন বসন্তের আবাহন। খোলা চুল, গ্লসি লিপস্টিকের সাজ প্রেমদিবসের জন্য একেবারে পারফেক্ট। সাহেব পরেছিলেন শেরওয়ানি। সাদা পাজামা দিয়ে টিমআপ করেছিলেন তিনি। জুটি হিসেবে একই ধরনের পোশাক পরা এখন নতুন ট্রেন্ড। সেটা ফলো করলে এই ধরনের সাজ আপনাদেরও হতে পারে। ফোটোশ্যুটের জন্য আলাদা করে ক্যামেরায় পোজ দিতে হয়নি এই জুটিকে। তাঁরা এতটাই সাবলীল। কাজ করতে গিয়েই দু’জনের আলাপ এবং বন্ধুত্ব। পর্দার কেমিস্ট্রি অফস্ক্রিনেও অটুট। তাই একে অপরের চোখের ভাষা বুঝে নিতে কোনো সমস্যা হল না। পরের লুকের জন্য তৈরি হওয়ার আগে লাঞ্চের অর্ডার দিতে হবে। সেখানেও একে অপরের পছন্দকে প্রাধান্য দিলেন তাঁরা। আলাদা কোনো ডায়েট নয়। ভাত, ডাল, মাংসের মতো নানা ধরনের বাঙালি পদ ভালোবেসে শেয়ার করলেন দু’জনে। সাবেকি সাজ হোক বা ওয়েস্টার্ন পোশাক, সবেতেই স্বচ্ছন্দ সাহেব এবং সুস্মিতা। কোন অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন, সেটা মাথায় রেখে লুক ঠিক করেন। পোশাক নির্বাচন করার আগে অবশ্যই প্রাধান্য পায় অভিনেতা জুটির ব্যক্তিত্ব।
চতুষ্পর্ণীর ফ্যাশন শ্যুটের দ্বিতীয় লুকের জন্য সবুজের শেড বেছে নিয়েছিলেন সাহেব ও সুস্মিতা। প্রথমটা ছিল লেহেঙ্গা। তাই দ্বিতীয় ছবির ক্ষেত্রে শাড়ি পরলেন সুস্মিতা। সবুজ শাড়িটির জমি জুড়ে বুটি। বিশেষত্ব রয়েছে গোলাপিরঙা পাড়ে। বড়ো ঝোলা দুল এবং ছোট্ট টিপ দিয়ে সেজেছিলেন নায়িকা। সুস্মিতার শাড়ির রঙের সঙ্গে মিলিয়ে কোট, পাঠানি পায়জামার একটি কাস্টমাইজড ড্রেস পরেছিলেন সাহেব। দারুণভাবে ক্যারি করেছিলেন দু’জনেই। দু’ধরনের পোশাকই ভ্যালেন্টাইনস ডে-র জন্য আদর্শ। শ্যুটে একে অপরের ভারী খেয়াল রাখছিলেন তাঁরা। সত্যিই ‘ভালোবাসা’র জুটি? হেসে সাহেব বললেন, ‘দর্শক আমাদের এতটাই ভালোবাসেন যে ভালোবাসার জুটি বলতে আমাদের আপত্তি নেই।’ ভালোবাসার আর একটি অর্থ কি সযত্নে এড়িয়ে গেলেন? এবার হাল ধরলেন সুস্মিতা। তাঁর সটান জবাব, ‘ভালোবাসার তো একটাই অর্থ। আর তো কোনো মানে হয় না।’ প্রশংসার দৃষ্টিতে সুস্মিতার দিকে তাকালেন সাহেব। তাঁরা সত্যিই প্রেমের সম্পর্কে রয়েছেন কি না, তা নিজেরা এখনও প্রকাশ্যে স্বীকার করেননি। তবে প্রেমের দিনে এমন জুটির প্রেমের খবর পেলে খুশিই হবেন অনুরাগীরা। ঠিক যেমন তাঁদের একত্রে ফের টেলিভিশনে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন দর্শক। সাহেব, সুস্মিতা জানালেন, তাঁরা ভালো সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছেন। কারণ দর্শকের সামনে ভালো কাজ নিয়ে আসতে তাঁরা বদ্ধপরিকর। স্বরলিপি ভট্টাচার্য