


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাংলা মানেই ভালোমন্দ খাবারের স্বর্গরাজ্য। আর সেখানে যাঁদেরই বাস, জল-হাওয়া-পরিবেশের গুণে তাঁরাই খাদ্যরসিক হয়েই পড়েন। শরীর আগে না আগে জিভে জল আনা খাবার, সেই দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগতে ভুগতে অনেকেই বুদ্ধি নন, প্রশ্রয় দেন আবেগকেই—‘আগে তো খাই, পরেরটা পরে ভাবা যাবে।’ সেই করে করে বঙ্গবাসীর পেটের রোগ বাড়ন্ত, এমনটাই সহজ ও দুইয়ে দুইয়ে চার ধারণা।
রাজ্যের এক নম্বর পেট ও লিভারের সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র স্কুল অব ডাইজেস্টিভ অ্যান্ড লিভার ডিজিজ (এসডিএলডি)-এর চিকিৎসকরা বলছেন, ব্যাপারটার কিন্তু অতটা সহজ নয় মোটেই। কারণ যাই হোক না কেন—গত দু’দশকের মধ্যে পিজি হাসপাতালস্থিত এই এসডিএলডিতে শুধু পেটের অসুখের রোগীর সংখ্যাই বাড়ল ২ লাখ! ২০০৭ সালে এখানকার পেট ও লিভারের অসুখ সংক্রান্ত বিভিন্ন আউটডোর মিলিয়ে বছরে মোট রোগী হত ২৭ হাজারের (২৬,৮২৪) কাছাকাছি। সেখানে ২০২৫ সালে তা বেড়ে হয়েছে প্রায় ২ লক্ষ ৩০ হাজার (২,২৮,০০৬)। গত দু’দশকের মধ্যে শুধু পিজিতেই পেটের রোগী বাড়ল ২ লক্ষাধিক। রোজ কাতারে কাতারে রোগী মালদহ টাউন নয়তো লালাগোলা থেকে শহরে নেমে রওনা দেন পিজি অভিমুখে। মালদহ এবং মুর্শিদাবাদ ছাড়াও দুই ২৪ পরগনা প্রভৃতি জেলার রোগীর সংখ্যাও অগুনতি।
বছরে ২ লক্ষের বেশি শুধু পেটের অসুখের রোগী! চাট্টিখানি কথা নয়! এসডিএলডি প্রধান ডাঃ গোপালকৃষ্ণ ঢালি বলেন, প্রধান কারণ তিনটে। এক, রোগীরা পরিষেবা পাচ্ছেন, তাই আসছেন। আউটডোরে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রোগী দেখছেন আমাদের চিকিৎসকরা। দুই, অ্যালকোহলিক লিভার ডিজিজ এবং অ্যালকোহলিক প্যানক্রিয়াটাইটিস অনেক বেড়েছে। তিন, ফ্যাটি লিভার হু হু করে বাড়ছে। আলস্য ও ওবেসিটি পেটের অসুখ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
রোগীর পাশাপাশি বেড়েছে এন্ডোস্কপি এবং ইআরসিপি’র মতো পরীক্ষানিরীক্ষাও। ২০০৭ সালে রোগ নির্ণয়ের জন্য এন্ডোস্কপি হত ৭ হাজার মতো। ২০২৫ সালে তা বেড়ে হয়েছে ১৩ হাজারের কাছাকাছি। একইভাবে চিকিৎসার কারণে এন্ডোস্কপিও অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে এখানে দুই দশকে। আগে ছিল বছরে এক হাজার মতো। বেড়ে হয়েছে ২৭০০-এর কাছাকাছি।
এখানকার এক চিকিৎসক জানালেন, আগে আমরা গ্রামীণ এলাকার মানুষজনের মধ্যে ফ্যাটি লিভার ও পেটের অসুখ শহরাঞ্চলের তুলনায় অনেকটাই কম। আর এখন দেখুন, এক পাড়া থেকে আর এক পাড়ায় যেতে গেলেও ভটভট করে বাইক স্টার্ট করছেন যুবকরা! গ্রাম আর শহর—পেটের অসুখে এখন কেউ কারো থেকে কম যাচ্ছে না।